লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিজিটাল যুগে গুজব প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা ও তথ্য যাচাই

তথ্যপ্রযুক্তির এই উৎকর্ষের যুগে আমরা একদিকে যেমন সমৃদ্ধ হচ্ছি, অন্যদিকে তেমনি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছি। স্মার্টফোনের সুবাদে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের খবর মুহূর্তেই আমাদের হাতের মুঠোয় চলে আসছে, কিন্তু সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের কঠিন চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে সত্য তথ্যের আড়ালে গুজব এমনভাবে মিশে যাচ্ছে যে, কোনটি সঠিক সংবাদ আর কোনটি বিভ্রান্তিকর তথ্য, তা আলাদা করা সাধারণ মানুষের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে মিথ্যা তথ্য ও গুজব এখন একটি ভয়াবহ সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তই করছে না, বরং সমাজের শান্তি ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করছে। ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, টিকটক এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো গুজবকে ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখছে। যাচাই-বাছাইয়ের আগেই এসব তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় মানুষ অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

গুজব ছড়ানোর পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। কিছু মানুষ জেনেশুনে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভ্রান্তি ছড়ায়, আবার অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার পাওয়ার লোভে যাচাই না করেই তা ছড়িয়ে দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বর্তমান কাঠামো এমনভাবে তৈরি যে, এখানে আবেগঘন ও চাঞ্চল্যকর কনটেন্ট বেশি প্রাধান্য পায়; ফলে সত্যের চেয়ে মিথ্যাই মানুষের চোখে বেশি ধরা পড়ে। অনেক সময় মানুষ নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে মিলে যায় এমন তথ্য কোনো প্রমাণ ছাড়াই শেয়ার করে, যা মিথ্যাকে সত্যের চেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে।

এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য একটি শক্তিশালী তথ্য যাচাই ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। স্কুল-কলেজের পাঠ্যক্রমে এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই তথ্যের উৎস যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, অভিভাবক ও প্রবীণদেরও এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার, কারণ সব বয়সের মানুষই অনলাইনে গুজবের ঝুঁকিতে থাকেন।

গণমাধ্যমের দায়িত্বও এখানে অপরিসীম। কিছু অখ্যাত বা অনির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতায় সত্যতা যাচাই না করায় গুজব আরও বিশ্বাসযোগ্যতা পায়। তাই প্রতিটি গণমাধ্যমের উচিত নিজস্ব তথ্য যাচাইকারী দল গঠন করা। একই সঙ্গে ফেসবুক, ইউটিউবসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে মিথ্যা তথ্য শনাক্ত ও অপসারণে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।

পরিশেষে, কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব হলো একটু ভেবে দেখা এবং উৎস যাচাই করা। ব্যক্তিগত সচেতনতা তৈরি না হলে যতই আইন বা প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক না কেন, গুজবের বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো তথ্যের স্বচ্ছ প্রবাহ নিশ্চিত করা। আমাদের মনে রাখতে হবে, তথ্যের শূন্যতা তৈরি হলেই সেই স্থান দখল করে নেয় গুজব। মানুষ যখন সঠিক তথ্য পায় না, তখন তারা অসত্য সূত্রের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়; তাই তথ্যের প্রবাহে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.), রাষ্ট্রপতির শান্তি ও সম্প্রীতির আহ্বান

ডিজিটাল যুগে গুজব প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা ও তথ্য যাচাই

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

তথ্যপ্রযুক্তির এই উৎকর্ষের যুগে আমরা একদিকে যেমন সমৃদ্ধ হচ্ছি, অন্যদিকে তেমনি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছি। স্মার্টফোনের সুবাদে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের খবর মুহূর্তেই আমাদের হাতের মুঠোয় চলে আসছে, কিন্তু সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের কঠিন চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে সত্য তথ্যের আড়ালে গুজব এমনভাবে মিশে যাচ্ছে যে, কোনটি সঠিক সংবাদ আর কোনটি বিভ্রান্তিকর তথ্য, তা আলাদা করা সাধারণ মানুষের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে মিথ্যা তথ্য ও গুজব এখন একটি ভয়াবহ সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তই করছে না, বরং সমাজের শান্তি ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করছে। ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, টিকটক এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো গুজবকে ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখছে। যাচাই-বাছাইয়ের আগেই এসব তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় মানুষ অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

গুজব ছড়ানোর পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে। কিছু মানুষ জেনেশুনে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভ্রান্তি ছড়ায়, আবার অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার পাওয়ার লোভে যাচাই না করেই তা ছড়িয়ে দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বর্তমান কাঠামো এমনভাবে তৈরি যে, এখানে আবেগঘন ও চাঞ্চল্যকর কনটেন্ট বেশি প্রাধান্য পায়; ফলে সত্যের চেয়ে মিথ্যাই মানুষের চোখে বেশি ধরা পড়ে। অনেক সময় মানুষ নিজের বিশ্বাসের সঙ্গে মিলে যায় এমন তথ্য কোনো প্রমাণ ছাড়াই শেয়ার করে, যা মিথ্যাকে সত্যের চেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করে।

এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য একটি শক্তিশালী তথ্য যাচাই ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। স্কুল-কলেজের পাঠ্যক্রমে এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকেই তথ্যের উৎস যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, অভিভাবক ও প্রবীণদেরও এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার, কারণ সব বয়সের মানুষই অনলাইনে গুজবের ঝুঁকিতে থাকেন।

গণমাধ্যমের দায়িত্বও এখানে অপরিসীম। কিছু অখ্যাত বা অনির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতায় সত্যতা যাচাই না করায় গুজব আরও বিশ্বাসযোগ্যতা পায়। তাই প্রতিটি গণমাধ্যমের উচিত নিজস্ব তথ্য যাচাইকারী দল গঠন করা। একই সঙ্গে ফেসবুক, ইউটিউবসহ অন্যান্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে মিথ্যা তথ্য শনাক্ত ও অপসারণে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।

পরিশেষে, কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব হলো একটু ভেবে দেখা এবং উৎস যাচাই করা। ব্যক্তিগত সচেতনতা তৈরি না হলে যতই আইন বা প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক না কেন, গুজবের বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো তথ্যের স্বচ্ছ প্রবাহ নিশ্চিত করা। আমাদের মনে রাখতে হবে, তথ্যের শূন্যতা তৈরি হলেই সেই স্থান দখল করে নেয় গুজব। মানুষ যখন সঠিক তথ্য পায় না, তখন তারা অসত্য সূত্রের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়; তাই তথ্যের প্রবাহে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে।