লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যাংককের বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ২৭ জনের মৃত্যু, আহত ৬০

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের জনপ্রিয় চাতুচাক জেলায় অবস্থিত একটি বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাতে ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চানভিরাকুল। এই ঘটনায় আরও ৬০ জনের বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় সময় সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে একজন গাড়িচালক প্রথম বারে আগুন দেখতে পেয়ে জরুরি সেবায় খবর দেন। মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে আগুনের লেলিহান শিখা বারের সামনের প্রবেশপথ আটকে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মঞ্চের কাছাকাছি অংশে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পুরো ভবন ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ভবন থেকে বিশাল শিখা বের হতে দেখা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী অনুতিন জানান, আগুন লাগার সময় মঞ্চে থাকা এক সংগীতশিল্পীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি বৈদ্যুতিক কাট-আউট সুইচে আগুন লাগার পর বিস্ফোরণের মতো শব্দ হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ধোঁয়া ও আগুন থেকে বাঁচতে অনেকেই ভবনের পেছনের টয়লেটে আশ্রয় নিয়েছিলেন, যেখান থেকেই অধিকাংশ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দমকল বাহিনী প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। নিহতদের মধ্যে নয়জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী রয়েছেন।

ব্যাংককের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক সুরিয়াচাই রাভিওয়ান জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে ধোঁয়ায় শ্বাসরোধের কারণে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। এদিকে ব্যাংককের গভর্নর চ্যাচার্ট সিত্তিপুন্ট জানান, বারের ছাদে ব্যবহৃত দাহ্য সজ্জাসামগ্রীর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া জরুরি বহির্গমন পথের কাছেও কয়েকজনকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে আসবাবপত্র দিয়ে পথটি আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত ছিল।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া মোটরসাইকেল আরোহী সুরিন জাইহার্ন জানান, তিনি অন্তত পাঁচজনকে আগুন থেকে বের হতে সহায়তা করেছিলেন। স্থানীয়ভাবে ‘রং বিয়ার না লাত ফ্রাও’ নামে পরিচিত এই বারের দেয়াল, আসবাবপত্র ও ছাদ সম্পূর্ণ পুড়ে কালো হয়ে গেছে এবং ছাদের কিছু অংশ ধসে পড়েছে। থাইল্যান্ডে বারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এটিই প্রথম নয়; চার বছর আগে ব্যাংককের দক্ষিণের একটি শহরে ২২ জন এবং ২০০৯ সালে রাজধানীর একটি নাইটক্লাবে ৬৬ জন অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছিলেন। বারবার এমন ঘটনার পরও দেশটিতে নিরাপত্তা বিধি বাস্তবায়নে দুর্বলতা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন পে-স্কেল: নিচের গ্রেডে ৫% ইনক্রিমেন্ট বহাল, উচ্চপদে কমছে হার

ব্যাংককের বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ২৭ জনের মৃত্যু, আহত ৬০

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩২:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের জনপ্রিয় চাতুচাক জেলায় অবস্থিত একটি বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাতে ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চানভিরাকুল। এই ঘটনায় আরও ৬০ জনের বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় সময় সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে একজন গাড়িচালক প্রথম বারে আগুন দেখতে পেয়ে জরুরি সেবায় খবর দেন। মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে আগুনের লেলিহান শিখা বারের সামনের প্রবেশপথ আটকে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, মঞ্চের কাছাকাছি অংশে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পুরো ভবন ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ভবন থেকে বিশাল শিখা বের হতে দেখা গেছে।

প্রধানমন্ত্রী অনুতিন জানান, আগুন লাগার সময় মঞ্চে থাকা এক সংগীতশিল্পীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি বৈদ্যুতিক কাট-আউট সুইচে আগুন লাগার পর বিস্ফোরণের মতো শব্দ হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ধোঁয়া ও আগুন থেকে বাঁচতে অনেকেই ভবনের পেছনের টয়লেটে আশ্রয় নিয়েছিলেন, যেখান থেকেই অধিকাংশ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দমকল বাহিনী প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। নিহতদের মধ্যে নয়জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী রয়েছেন।

ব্যাংককের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক সুরিয়াচাই রাভিওয়ান জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে ধোঁয়ায় শ্বাসরোধের কারণে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। এদিকে ব্যাংককের গভর্নর চ্যাচার্ট সিত্তিপুন্ট জানান, বারের ছাদে ব্যবহৃত দাহ্য সজ্জাসামগ্রীর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া জরুরি বহির্গমন পথের কাছেও কয়েকজনকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে আসবাবপত্র দিয়ে পথটি আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত ছিল।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া মোটরসাইকেল আরোহী সুরিন জাইহার্ন জানান, তিনি অন্তত পাঁচজনকে আগুন থেকে বের হতে সহায়তা করেছিলেন। স্থানীয়ভাবে ‘রং বিয়ার না লাত ফ্রাও’ নামে পরিচিত এই বারের দেয়াল, আসবাবপত্র ও ছাদ সম্পূর্ণ পুড়ে কালো হয়ে গেছে এবং ছাদের কিছু অংশ ধসে পড়েছে। থাইল্যান্ডে বারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এটিই প্রথম নয়; চার বছর আগে ব্যাংককের দক্ষিণের একটি শহরে ২২ জন এবং ২০০৯ সালে রাজধানীর একটি নাইটক্লাবে ৬৬ জন অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছিলেন। বারবার এমন ঘটনার পরও দেশটিতে নিরাপত্তা বিধি বাস্তবায়নে দুর্বলতা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।