লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপানে বাড়ছে মুসলিমবিদ্বেষ, মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

জাপানে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজারে দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। তবে এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশটিতে মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাবও বাড়ছে, যা এখন রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে। ২০২৫ সালে ফুডিসাওয়া শহরে একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হলে তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও প্রতিরোধ সৃষ্টি হয়।

মসজিদ নির্মাণের এই প্রকল্পটি আইনি সব শর্ত পূরণ করার পরেও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দেয়। নির্মাণকাজ বন্ধের দাবিতে একটি অনলাইন আবেদনে ৩২ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন এবং এর বিরোধিতায় প্রায় ১০ লাখ ইয়েন বা ৬ হাজার ১৫০ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। সমালোচকরা মসজিদটিকে অপরাধের কেন্দ্র হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করছেন এবং সেখানে কবরস্থান তৈরির গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। পার্শ্ববর্তী এবিনা সিটির মসজিদটি স্থানীয়দের জন্য কোনো সমস্যার কারণ না হওয়া সত্ত্বেও ফুডিসাওয়ার এই প্রকল্পটি নিয়ে চরম বিরোধিতা চলছে।

জাপানে মুসলিমদের জন্য কবরস্থানের সংকট একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। দেশটিতে ৯৯.৯ শতাংশ লাশ দাহ করা হয়, ফলে সরকারি কবরস্থানগুলোতে মুসলিমদের দাফনের সুযোগ নেই। ১৯৬৭ সাল থেকে ব্যক্তিগত কবরস্থান তৈরির চেষ্টা চললেও স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এই সংকট নিরসনে মুসলিমরা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন, যারা তাদের নিজস্ব জায়গা বিক্রির মাধ্যমে সহায়তার চেষ্টা করছেন। বর্তমানে জাপানে প্রায় ১০টি মুসলিম কবরস্থান থাকলেও তোহোকু, কিউশু বা ওকিনাওয়া অঞ্চলে কোনো সক্রিয় কবরস্থান নেই।

২০১৮ সালে ওনিতা প্রদেশের বেপ্পু মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের কবরস্থান নির্মাণের উদ্যোগটি জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় হিজির মেয়র তেতসুয়া আবে এই বিষয়টি তুলে ধরেন। এছাড়া ২০২৬ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে সানসেইতো দলের মতো ডানপন্থি দলগুলো মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে জনপ্রিয়তা পাওয়ার চেষ্টা করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় সরকার অভিবাসন সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো স্থানীয় প্রশাসনের ওপর ছেড়ে দেওয়ায় এই সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। পর্যাপ্ত সম্পদ ও কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অভাবে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। ঋতসুমেইকান এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক শিনজি কোজিমা এবং গবেষক আতসুশি ইয়ামাগাতা জানিয়েছেন যে, জাপান নিজেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অভিবাসী দেশ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করছে। যদিও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে একটি মন্ত্রী পর্যায়ের কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে, কিন্তু কঠোর ভিসা ও নাগরিকত্ব নিয়ম দীর্ঘমেয়াদি সংহতি অর্জনে বাধা সৃষ্টি করছে। জাপানে ১৯৩৫ সালে প্রথম ‘কোবে মসজিদ’ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশটিতে মোট ১৬৭টি মসজিদ রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

জাপানে বাড়ছে মুসলিমবিদ্বেষ, মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০০:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

জাপানে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজারে দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। তবে এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশটিতে মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাবও বাড়ছে, যা এখন রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে। ২০২৫ সালে ফুডিসাওয়া শহরে একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হলে তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও প্রতিরোধ সৃষ্টি হয়।

মসজিদ নির্মাণের এই প্রকল্পটি আইনি সব শর্ত পূরণ করার পরেও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দেয়। নির্মাণকাজ বন্ধের দাবিতে একটি অনলাইন আবেদনে ৩২ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন এবং এর বিরোধিতায় প্রায় ১০ লাখ ইয়েন বা ৬ হাজার ১৫০ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। সমালোচকরা মসজিদটিকে অপরাধের কেন্দ্র হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করছেন এবং সেখানে কবরস্থান তৈরির গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। পার্শ্ববর্তী এবিনা সিটির মসজিদটি স্থানীয়দের জন্য কোনো সমস্যার কারণ না হওয়া সত্ত্বেও ফুডিসাওয়ার এই প্রকল্পটি নিয়ে চরম বিরোধিতা চলছে।

জাপানে মুসলিমদের জন্য কবরস্থানের সংকট একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। দেশটিতে ৯৯.৯ শতাংশ লাশ দাহ করা হয়, ফলে সরকারি কবরস্থানগুলোতে মুসলিমদের দাফনের সুযোগ নেই। ১৯৬৭ সাল থেকে ব্যক্তিগত কবরস্থান তৈরির চেষ্টা চললেও স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। এই সংকট নিরসনে মুসলিমরা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন, যারা তাদের নিজস্ব জায়গা বিক্রির মাধ্যমে সহায়তার চেষ্টা করছেন। বর্তমানে জাপানে প্রায় ১০টি মুসলিম কবরস্থান থাকলেও তোহোকু, কিউশু বা ওকিনাওয়া অঞ্চলে কোনো সক্রিয় কবরস্থান নেই।

২০১৮ সালে ওনিতা প্রদেশের বেপ্পু মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের কবরস্থান নির্মাণের উদ্যোগটি জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় হিজির মেয়র তেতসুয়া আবে এই বিষয়টি তুলে ধরেন। এছাড়া ২০২৬ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে সানসেইতো দলের মতো ডানপন্থি দলগুলো মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে জনপ্রিয়তা পাওয়ার চেষ্টা করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় সরকার অভিবাসন সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো স্থানীয় প্রশাসনের ওপর ছেড়ে দেওয়ায় এই সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। পর্যাপ্ত সম্পদ ও কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অভাবে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। ঋতসুমেইকান এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক শিনজি কোজিমা এবং গবেষক আতসুশি ইয়ামাগাতা জানিয়েছেন যে, জাপান নিজেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অভিবাসী দেশ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করছে। যদিও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে একটি মন্ত্রী পর্যায়ের কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে, কিন্তু কঠোর ভিসা ও নাগরিকত্ব নিয়ম দীর্ঘমেয়াদি সংহতি অর্জনে বাধা সৃষ্টি করছে। জাপানে ১৯৩৫ সালে প্রথম ‘কোবে মসজিদ’ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশটিতে মোট ১৬৭টি মসজিদ রয়েছে।