লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুড়িগঙ্গায় নৌকার মাঝিদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৫০০ টাকা চাঁদা আদায়

ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকা পারাপারের প্রতিটি ট্রিপ থেকে ২০ টাকা করে চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন মাঝিরা। ওয়াইজঘাট তিন ফেরি থেকে কেরানীগঞ্জের ব্রিজঘাট পর্যন্ত যাত্রী পারাপারে প্রতিটি নৌকা থেকে ৫০ টাকা ভাড়া পাওয়া যায়, যার বড় একটি অংশ ইজারাদারকে চাঁদা হিসেবে দিতে হয়। এতে সারাদিনে একজন মাঝিকে ২৫ থেকে ৩০ বার নৌকা চালিয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগী মাঝি আলম হোসেন ও সোহেল জানান, আগে বৈঠা দিয়ে নৌকা চালালেও দ্রুত যাতায়াতের জন্য এখন তারা ইঞ্জিন ব্যবহার করছেন। প্রতিটি নৌকায় পাঁচজন যাত্রী নিয়ে তারা পারাপার করেন এবং জনপ্রতি ১০ টাকা ভাড়া নেন। এই ৫০ টাকা আয়ের পর ২০ টাকা ইজারাদারকে দিয়ে তেল ও আনুষঙ্গিক খরচ মেটানোর পর তাদের হাতে কিছুই থাকে না। এই অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদ জানাতে তারা বিআইডব্লিউটিএ অফিসে সমবেত হয়েছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, ওয়াইজঘাট তিন ফেরিঘাট ও সদরঘাট লেবার হ্যান্ডেলিং শুল্ক আদায়ের কেন্দ্রটি বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভূঁইয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন। স্থানীয়দের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি এই ঘাট দখল করেন এবং ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ইজারা নিয়ে এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন। ওয়াইজঘাটে প্রায় দুই শতাধিক মাঝি নিয়মিত যাত্রী পারাপার করেন, যাদের কাছ থেকে দৈনিক লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সুমন ভূঁইয়া ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।

বিআইডব্লিউটিএর পোর্ট অফিসার মোবারক হোসেন মজুমদার জানান, ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা ফাইবার বোটের ক্ষেত্রে যাত্রী পরিবহনের ভিত্তিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা ঘাট টোল আদায়ের শর্তে ইজারা দেওয়া হয়েছে। মাঝিদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি ইজারাদারের প্রতিনিধি জাকির হোসেনকে তলব করলেও সমস্যার কোনো সুরাহা হয়নি।

এদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করে সুমন ভূঁইয়া দাবি করেন, মাঝিদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি বৈধভাবে ইজারা নিয়েছেন এবং বিআইডব্লিউটিএ নির্ধারিত টোল অনুযায়ী যাত্রীপ্রতি দুই টাকা করে আদায়ের নিয়ম রয়েছে। তার ভাষ্যমতে, মাঝিরা নিজেরাই সাতজন করে যাত্রী তুলে ৭০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে এবং সেই নিয়ম অনুযায়ী মাঝিরাই তাকে ২০ টাকা করে দিচ্ছে।

ওয়াইজঘাট তিন ফেরি থেকে কেরানীগঞ্জের ব্রিজঘাটে পারাপারের নৌকার মাঝি আলম হোসেন ও সোহেল আমার দেশকে জানান, তারা বুড়িগঙ্গার নৌকার মাঝি। নৌকায় ওয়াইজঘাট থেকে কেরানীগঞ্জের ব্রিজঘাট পর্যন্ত নদীপথে নৌকা পারাপারের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। আগে বৈঠা দিয়ে নৌকা চালাতেন। সম্প্রতি দ্রুত যাতায়াতের জন্য নৌকায় ইঞ্জিন লাগিয়েছেন। ওয়াইজঘাট তিন ফেরি থেকে কেরানীগঞ্জের ব্রিজঘাট পর্যন্ত নৌকায় মানুষ পারাপার করেন। এজন্য যাত্রীপ্রতি তাদের ১০ টাকা করে ভাড়া দিতে হয়। পাঁচজন যাত্রী হলেই নৌকা ছেড়ে দিতে হয়। পাঁচজনর কাছ থেকে তারা মোট পেয়ে থাকেন ৫০ টাকা। এ ৫০ টাকা থেকে ২০ টাকা চাঁদা দিতে হয় ঘাট ইজারাদার ও সদরঘাট শ্রমিক দলের সভাপতি সুমন ভূঁইয়া ও তার লোকজনকে। যতবার লোক নিয়ে ঘাটে আসবে মাঝিরা, ততবারই ২০ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। এরকম প্রতিদিন একজন মাঝিকে ২৫ থেকে ৩০ বার লোক বহনের জন্য সারাদিনে ৫০০-৬০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, বন্ধ মেট্রোরেল স্টেশন

বুড়িগঙ্গায় নৌকার মাঝিদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৫০০ টাকা চাঁদা আদায়

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৪৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকা পারাপারের প্রতিটি ট্রিপ থেকে ২০ টাকা করে চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন মাঝিরা। ওয়াইজঘাট তিন ফেরি থেকে কেরানীগঞ্জের ব্রিজঘাট পর্যন্ত যাত্রী পারাপারে প্রতিটি নৌকা থেকে ৫০ টাকা ভাড়া পাওয়া যায়, যার বড় একটি অংশ ইজারাদারকে চাঁদা হিসেবে দিতে হয়। এতে সারাদিনে একজন মাঝিকে ২৫ থেকে ৩০ বার নৌকা চালিয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগী মাঝি আলম হোসেন ও সোহেল জানান, আগে বৈঠা দিয়ে নৌকা চালালেও দ্রুত যাতায়াতের জন্য এখন তারা ইঞ্জিন ব্যবহার করছেন। প্রতিটি নৌকায় পাঁচজন যাত্রী নিয়ে তারা পারাপার করেন এবং জনপ্রতি ১০ টাকা ভাড়া নেন। এই ৫০ টাকা আয়ের পর ২০ টাকা ইজারাদারকে দিয়ে তেল ও আনুষঙ্গিক খরচ মেটানোর পর তাদের হাতে কিছুই থাকে না। এই অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদ জানাতে তারা বিআইডব্লিউটিএ অফিসে সমবেত হয়েছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, ওয়াইজঘাট তিন ফেরিঘাট ও সদরঘাট লেবার হ্যান্ডেলিং শুল্ক আদায়ের কেন্দ্রটি বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভূঁইয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন। স্থানীয়দের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি এই ঘাট দখল করেন এবং ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ইজারা নিয়ে এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন। ওয়াইজঘাটে প্রায় দুই শতাধিক মাঝি নিয়মিত যাত্রী পারাপার করেন, যাদের কাছ থেকে দৈনিক লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সুমন ভূঁইয়া ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।

বিআইডব্লিউটিএর পোর্ট অফিসার মোবারক হোসেন মজুমদার জানান, ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা ফাইবার বোটের ক্ষেত্রে যাত্রী পরিবহনের ভিত্তিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা ঘাট টোল আদায়ের শর্তে ইজারা দেওয়া হয়েছে। মাঝিদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি ইজারাদারের প্রতিনিধি জাকির হোসেনকে তলব করলেও সমস্যার কোনো সুরাহা হয়নি।

এদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করে সুমন ভূঁইয়া দাবি করেন, মাঝিদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি বৈধভাবে ইজারা নিয়েছেন এবং বিআইডব্লিউটিএ নির্ধারিত টোল অনুযায়ী যাত্রীপ্রতি দুই টাকা করে আদায়ের নিয়ম রয়েছে। তার ভাষ্যমতে, মাঝিরা নিজেরাই সাতজন করে যাত্রী তুলে ৭০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে এবং সেই নিয়ম অনুযায়ী মাঝিরাই তাকে ২০ টাকা করে দিচ্ছে।

ওয়াইজঘাট তিন ফেরি থেকে কেরানীগঞ্জের ব্রিজঘাটে পারাপারের নৌকার মাঝি আলম হোসেন ও সোহেল আমার দেশকে জানান, তারা বুড়িগঙ্গার নৌকার মাঝি। নৌকায় ওয়াইজঘাট থেকে কেরানীগঞ্জের ব্রিজঘাট পর্যন্ত নদীপথে নৌকা পারাপারের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। আগে বৈঠা দিয়ে নৌকা চালাতেন। সম্প্রতি দ্রুত যাতায়াতের জন্য নৌকায় ইঞ্জিন লাগিয়েছেন। ওয়াইজঘাট তিন ফেরি থেকে কেরানীগঞ্জের ব্রিজঘাট পর্যন্ত নৌকায় মানুষ পারাপার করেন। এজন্য যাত্রীপ্রতি তাদের ১০ টাকা করে ভাড়া দিতে হয়। পাঁচজন যাত্রী হলেই নৌকা ছেড়ে দিতে হয়। পাঁচজনর কাছ থেকে তারা মোট পেয়ে থাকেন ৫০ টাকা। এ ৫০ টাকা থেকে ২০ টাকা চাঁদা দিতে হয় ঘাট ইজারাদার ও সদরঘাট শ্রমিক দলের সভাপতি সুমন ভূঁইয়া ও তার লোকজনকে। যতবার লোক নিয়ে ঘাটে আসবে মাঝিরা, ততবারই ২০ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। এরকম প্রতিদিন একজন মাঝিকে ২৫ থেকে ৩০ বার লোক বহনের জন্য সারাদিনে ৫০০-৬০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়।