লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার প্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের অবসান এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনাকে এই দরপতনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের দিন তেলের বাজারে এই অস্থিরতা দেখা দেয়। দুই দেশের পক্ষ থেকেই আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ এবং সংঘাতসংশ্লিষ্ট অন্যান্য শর্ত পূরণে সম্মত হয়, তবে তেহরান দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে প্রস্তুত। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সরকারকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দিয়েছেন।

তেলের দাম কমার ফলে জ্বালানি খাতের বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দরেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে জ্বালানির ব্যয় হ্রাসের প্রত্যাশায় অন্যান্য কয়েকটি খাতের শেয়ারে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। গ্লোবাল রিস্ক ম্যানেজমেন্টের প্রধান বিশ্লেষক আর্নে লোহমান রাসমুসেনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আসা আলোচনার সংকেত কৌশলগত হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে হামলা অব্যাহত থাকায় জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকার ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান।

সোমবারের লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৬০ ডলারে নেমেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় প্রকৃত অগ্রগতি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে হামলা ও সংঘাত অব্যাহত থাকলে তেলের দাম আবারও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাঙ্গার গেমসে ফিরছেন জেনিফার লরেন্স, ভক্তদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩০:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার প্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের অবসান এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সম্ভাবনাকে এই দরপতনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের দিন তেলের বাজারে এই অস্থিরতা দেখা দেয়। দুই দেশের পক্ষ থেকেই আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ এবং সংঘাতসংশ্লিষ্ট অন্যান্য শর্ত পূরণে সম্মত হয়, তবে তেহরান দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে প্রস্তুত। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সরকারকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দিয়েছেন।

তেলের দাম কমার ফলে জ্বালানি খাতের বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দরেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে জ্বালানির ব্যয় হ্রাসের প্রত্যাশায় অন্যান্য কয়েকটি খাতের শেয়ারে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। গ্লোবাল রিস্ক ম্যানেজমেন্টের প্রধান বিশ্লেষক আর্নে লোহমান রাসমুসেনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আসা আলোচনার সংকেত কৌশলগত হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে হামলা অব্যাহত থাকায় জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকার ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান।

সোমবারের লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ দশমিক ৬০ ডলারে নেমেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় প্রকৃত অগ্রগতি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে হামলা ও সংঘাত অব্যাহত থাকলে তেলের দাম আবারও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।