লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মজুরি আন্দোলনের জেরে ৬৮১ কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের টানা বিক্ষোভ ও কর্মবিরতির কারণে দেশের প্রধান প্রধান শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে। সোমবার সাভার, গাজীপুর, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জের অন্তত ৬৮১টি কারখানায় উৎপাদন কাজ স্থবির হয়ে পড়ে, যার মধ্যে ৬৭৯টিই তৈরি পোশাক কারখানা। এর আগের দিন রোববারও ৫২৯টি পোশাক কারখানায় একই ধরনের বিঘ্ন ঘটেছিল।

মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত সপ্তাহ থেকেই গাজীপুর ও সাভারসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক আন্দোলন চলছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শ্রম মন্ত্রণালয় রোববার পোশাকশ্রমিকদের জন্য নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করলেও অসন্তোষ কমেনি। সোমবারও বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকরা বিক্ষোভে নামেন এবং স্থানভেদে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ জানিয়েছে, সোমবার ৬৭৯টি পোশাক কারখানার কাজ থামিয়ে শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বের হয়ে যান। এসব প্রতিষ্ঠানে সব মিলিয়ে ১৬ লাখ ৯২ হাজার ৭৮২ জন শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। এলাকাভিত্তিক হিসাবে, গাজীপুরের ৩৮২টি, মিরপুরের ৬৫টি এবং সাভার, আশুলিয়া ও জিরানি এলাকার ৯টি পোশাক কারখানায় কাজের ব্যাঘাত ঘটে।

পোশাক খাতের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্পকারখানাতেও এই আন্দোলনের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি দেশীয় জুতার কারখানা সকালে কাজ শুরু করলেও আন্দোলনকারীদের দাবির মুখে সকাল ৯টার দিকে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ছুটি দিতে বাধ্য হয়। এছাড়া আশুলিয়ায় অবস্থিত পিকার্ড বাংলাদেশের উৎপাদন কার্যক্রমও ব্যাহত হয়।

শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দফায় দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকালে সচিবালয়ে পোশাক খাতের মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরবর্তীতে বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী যৌথভাবে শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সার্বিক বিষয়ে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, কারখানা বন্ধ রাখা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, মঙ্গলবার কারখানা সচল রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে; তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। শ্রমিকনেতাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় দ্রুতই পরিস্থিতির সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মজুরি আন্দোলনের জেরে ৬৮১ কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত

মজুরি আন্দোলনের জেরে ৬৮১ কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের টানা বিক্ষোভ ও কর্মবিরতির কারণে দেশের প্রধান প্রধান শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে। সোমবার সাভার, গাজীপুর, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জের অন্তত ৬৮১টি কারখানায় উৎপাদন কাজ স্থবির হয়ে পড়ে, যার মধ্যে ৬৭৯টিই তৈরি পোশাক কারখানা। এর আগের দিন রোববারও ৫২৯টি পোশাক কারখানায় একই ধরনের বিঘ্ন ঘটেছিল।

মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত সপ্তাহ থেকেই গাজীপুর ও সাভারসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক আন্দোলন চলছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শ্রম মন্ত্রণালয় রোববার পোশাকশ্রমিকদের জন্য নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করলেও অসন্তোষ কমেনি। সোমবারও বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকরা বিক্ষোভে নামেন এবং স্থানভেদে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ জানিয়েছে, সোমবার ৬৭৯টি পোশাক কারখানার কাজ থামিয়ে শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বের হয়ে যান। এসব প্রতিষ্ঠানে সব মিলিয়ে ১৬ লাখ ৯২ হাজার ৭৮২ জন শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। এলাকাভিত্তিক হিসাবে, গাজীপুরের ৩৮২টি, মিরপুরের ৬৫টি এবং সাভার, আশুলিয়া ও জিরানি এলাকার ৯টি পোশাক কারখানায় কাজের ব্যাঘাত ঘটে।

পোশাক খাতের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্পকারখানাতেও এই আন্দোলনের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি দেশীয় জুতার কারখানা সকালে কাজ শুরু করলেও আন্দোলনকারীদের দাবির মুখে সকাল ৯টার দিকে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ছুটি দিতে বাধ্য হয়। এছাড়া আশুলিয়ায় অবস্থিত পিকার্ড বাংলাদেশের উৎপাদন কার্যক্রমও ব্যাহত হয়।

শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দফায় দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকালে সচিবালয়ে পোশাক খাতের মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরবর্তীতে বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী যৌথভাবে শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সার্বিক বিষয়ে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, কারখানা বন্ধ রাখা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, মঙ্গলবার কারখানা সচল রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে; তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। শ্রমিকনেতাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় দ্রুতই পরিস্থিতির সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।