লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের কেশম দ্বীপে দফায় দফায় মার্কিন হামলা, বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল এলাকা

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহতে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে বিভিন্ন ইরানি সংবাদমাধ্যম।

আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই হামলার খবর প্রকাশ পেয়েছে। যদিও বিস্ফোরণের কারণ, হতাহতের সংখ্যা কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহতে সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে এসেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছোট পরিসরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। এসব অভিযানকে তারা প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানকে জাহাজ হামলার সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখতেই এই অভিযানগুলো চালানো হচ্ছে।

এই হামলার খবরটি এমন এক সময়ে এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে অনেকটা খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন। সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে লড়াই কয়েক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে এবং তারা যুদ্ধজয়ের অবস্থানে রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কিনা তা তিনি জানেন না।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই বিস্ফোরণের খবর এলো। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশ বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, এই যোগাযোগ সহজ করতে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন।

এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করলে পালটা প্রতিক্রিয়ায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক সই করলেও প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে খেজুর গুড় সংগ্রহের মৌসুম শুরু, লক্ষ্য ১০০ কোটি টাকা

ইরানের কেশম দ্বীপে দফায় দফায় মার্কিন হামলা, বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল এলাকা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহতে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে বিভিন্ন ইরানি সংবাদমাধ্যম।

আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই হামলার খবর প্রকাশ পেয়েছে। যদিও বিস্ফোরণের কারণ, হতাহতের সংখ্যা কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহতে সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে এসেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছোট পরিসরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। এসব অভিযানকে তারা প্রতিরক্ষামূলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের ভাষ্যমতে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানকে জাহাজ হামলার সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখতেই এই অভিযানগুলো চালানো হচ্ছে।

এই হামলার খবরটি এমন এক সময়ে এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে অনেকটা খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন। সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে লড়াই কয়েক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে এবং তারা যুদ্ধজয়ের অবস্থানে রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কিনা তা তিনি জানেন না।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই বিস্ফোরণের খবর এলো। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশ বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, এই যোগাযোগ সহজ করতে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন।

এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করলে পালটা প্রতিক্রিয়ায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক সই করলেও প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়।