লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলামি নেতৃত্বের আদর্শ ও ইমাম হোসাইনের আত্মত্যাগ

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় নাতি ইমাম হোসাইন (রা.) নবীজির ইন্তেকালের মাত্র ৫০ বছর পর কারবালার প্রান্তরে ফোরাত নদীর তীরে এক অসম যুদ্ধে নির্মমভাবে শাহাদত বরণ করেন। এই বিয়োগান্ত হত্যাকাণ্ডের শোক যুগ যুগ ধরে মুসলিম উম্মাহকে ব্যথিত করে আসছে। বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন অঙ্গনেও এই শোকের প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়, যার মধ্যে নজরুলের কাব্যে কারবালার ঘটনার বর্ণনা এবং মীর মশররফ হোসেনের বিষাদ সিন্ধু বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

প্রতি বছর ১০ মুহাররম জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়। বিভিন্ন জাতীয় নেতারা তাদের বাণীতে ইমাম হোসাইনের সত্য ও ন্যায়ের জন্য আত্মত্যাগ এবং অসত্যের সামনে মাথানত না করার আদর্শ তুলে ধরেন। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্যই তিনি এই শাহাদতের নজরানা পেশ করেছিলেন বলে তারা উল্লেখ করেন। মওলানা মুহাম্মদ আলি জরহরের উর্দু কবিতার ভাষায়, প্রতিটি কারবালার পরেই ইসলাম নতুন প্রাণ ফিরে পায়।

তবে ইমাম হোসাইন কেন মদিনা থেকে মক্কায় এবং পরবর্তীতে কুফার উপকণ্ঠে কারবালায় যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, তা গভীরভাবে ভাববার বিষয়। তৎকালীন সময়ে নামাজ, রোজা ও হজের মতো ইবাদত ঠিকমতোই পালিত হতো, তবুও কেন তাকে শাহাদত বরণ করতে হলো? তার দ্বিখণ্ডিত মাথা মোবারক কেন ইবনে জিয়াদের সামনে এবং এজিদের দরবারে অপমানজনকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল—এই প্রশ্নগুলো যারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য ইমামের শাহাদত নিয়ে বয়ান দেন, তাদের গুরুত্বসহকারে চিন্তা করা প্রয়োজন।

ইমাম হোসাইন (রা.) মূলত ইসলামি রাষ্ট্র, খেলাফত ও উম্মাহর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত ছিলেন। তিনি এমন এক বিপদের ঘনঘটা দেখতে পাচ্ছিলেন যা অন্যরা উপলব্ধি করতে পারেননি। তার মূল উৎকণ্ঠা ছিল উম্মাহর জাতীয় নেতৃত্ব ও খেলাফতের সর্বোচ্চ আসন এমন কোনো অযোগ্য, পাপাচারী স্বৈরাচারির হাতে ন্যস্ত হওয়া, যে আল্লাহ ও রাসুলের হালাল-হারামের বিধান নিয়ে বেপরোয়া ছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

গফরগাঁওয়ে ছেলেকে জিম্মি করে মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলামি নেতৃত্বের আদর্শ ও ইমাম হোসাইনের আত্মত্যাগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:১২:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় নাতি ইমাম হোসাইন (রা.) নবীজির ইন্তেকালের মাত্র ৫০ বছর পর কারবালার প্রান্তরে ফোরাত নদীর তীরে এক অসম যুদ্ধে নির্মমভাবে শাহাদত বরণ করেন। এই বিয়োগান্ত হত্যাকাণ্ডের শোক যুগ যুগ ধরে মুসলিম উম্মাহকে ব্যথিত করে আসছে। বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন অঙ্গনেও এই শোকের প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়, যার মধ্যে নজরুলের কাব্যে কারবালার ঘটনার বর্ণনা এবং মীর মশররফ হোসেনের বিষাদ সিন্ধু বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

প্রতি বছর ১০ মুহাররম জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়। বিভিন্ন জাতীয় নেতারা তাদের বাণীতে ইমাম হোসাইনের সত্য ও ন্যায়ের জন্য আত্মত্যাগ এবং অসত্যের সামনে মাথানত না করার আদর্শ তুলে ধরেন। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্যই তিনি এই শাহাদতের নজরানা পেশ করেছিলেন বলে তারা উল্লেখ করেন। মওলানা মুহাম্মদ আলি জরহরের উর্দু কবিতার ভাষায়, প্রতিটি কারবালার পরেই ইসলাম নতুন প্রাণ ফিরে পায়।

তবে ইমাম হোসাইন কেন মদিনা থেকে মক্কায় এবং পরবর্তীতে কুফার উপকণ্ঠে কারবালায় যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, তা গভীরভাবে ভাববার বিষয়। তৎকালীন সময়ে নামাজ, রোজা ও হজের মতো ইবাদত ঠিকমতোই পালিত হতো, তবুও কেন তাকে শাহাদত বরণ করতে হলো? তার দ্বিখণ্ডিত মাথা মোবারক কেন ইবনে জিয়াদের সামনে এবং এজিদের দরবারে অপমানজনকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল—এই প্রশ্নগুলো যারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য ইমামের শাহাদত নিয়ে বয়ান দেন, তাদের গুরুত্বসহকারে চিন্তা করা প্রয়োজন।

ইমাম হোসাইন (রা.) মূলত ইসলামি রাষ্ট্র, খেলাফত ও উম্মাহর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত ছিলেন। তিনি এমন এক বিপদের ঘনঘটা দেখতে পাচ্ছিলেন যা অন্যরা উপলব্ধি করতে পারেননি। তার মূল উৎকণ্ঠা ছিল উম্মাহর জাতীয় নেতৃত্ব ও খেলাফতের সর্বোচ্চ আসন এমন কোনো অযোগ্য, পাপাচারী স্বৈরাচারির হাতে ন্যস্ত হওয়া, যে আল্লাহ ও রাসুলের হালাল-হারামের বিধান নিয়ে বেপরোয়া ছিল।