লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টার্মিনালে আগুন: গ্যাস সরবরাহ কমে ২২০ কোটিতে, চরম ভোগান্তি

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। দৈনিক ৩৮০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে গ্যাস সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে ২২০ কোটি ঘনফুটে। এর ফলে রাজধানীর বাসাবাড়িতে রান্নার চুলা জ্বলছে না, সিএনজি স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে এবং ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানার উৎপাদন। দেড় দশক ধরে গ্যাস খাতে চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি থাকলেও সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।

গত মঙ্গলবার মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দেশে সাধারণত দৈনিক গড়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও দুর্ঘটনার পর তা ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমেছে। মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি ও দেশীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামিটের দুটি টার্মিনাল রয়েছে, যেখান থেকে দেশের মোট চাহিদার ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হয়। গড়ে প্রতিদিন ১০৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস আসত এলএনজি থেকে, যা দুর্ঘটনার পর কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৬ কোটি ঘনফুটে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পেট্রোবাংলা ও এক্সিলারেটের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, এলএনজির কোনো ঘাটতি নেই, মূলত দুর্ঘটনার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল এসে কাজ শুরু করেছে। এক্সিলারেট টার্মিনালের দুটি বয়লারের মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি চালু করা সম্ভব হলে দৈনিক আরও ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো যাবে। নতুন এলএনজি নিয়ে আসা জাহাজটি আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢাকার বাসিন্দারা। বিশেষ করে মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে গ্যাস না থাকায় অনেকে বৈদ্যুতিক চুলা ও এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির ২৭ লাখের বেশি আবাসিক গ্রাহক তীব্র স্বল্পচাপের মুখোমুখি হচ্ছেন। তিতাসের দৈনিক ২২০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে গতকাল সরবরাহ ছিল মাত্র ১২০ কোটি ঘনফুট, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে তারা ১৫০ থেকে ১৫৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেয়ে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে দুঃখপ্রকাশের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে তিতাস কর্তৃপক্ষ। মোহাম্মদপুরের হাউজিং সোসাইটি, জাকির হোসেন রোড ও তাজমহল রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে গ্যাস নেই বলে ফেসবুকে অভিযোগ করেছেন তানজিনা আহমেদ, শেরেজা তাজিন জামান ও ইফফাত পুতুলের মতো ভুক্তভোগীরা। সাজেদা আকতার নামের এক বাসিন্দা জানান, প্রতি মাসে নিয়মিত গ্যাস বিল দিয়েও তাদের এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও হাহাকার চলছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারহান নূর জানান, অধিকাংশ স্টেশনে গ্যাসের চাপ শূন্য থেকে ২ পিএসআইয়ে নেমে এসেছে, যার ফলে অনেক স্টেশন বন্ধ রাখতে হয়েছে। অন্যদিকে, শিল্পকারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) পরিচালক খোরশেদ আলম জানান, গ্যাসচালিত জেনারেটর চালাতে যেখানে ১০ পিএসআই চাপ প্রয়োজন, সেখানে পাওয়া যাচ্ছে ১ পিএসআইয়েরও কম। এর ফলে অনেক কারখানা বন্ধ রয়েছে এবং কেউ কেউ বেশি দামে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে দিনে গ্যাসের চাহিদা ২৫২ কোটি ঘনফুট। সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদার সময় ১১০ থেকে ১২০ কোটি ঘনফুট চায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তবে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে ৭৫ কোটি ঘনফুটে, যা সাধারণত ৯০ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট থাকে। ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫ হাজার মেগাওয়াট থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। তবে বৃষ্টির কারণে গরম কম থাকায় আপাতত ৫০০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে। পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, সবচেয়ে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় গ্যাস থেকে। সরবরাহ কমায় এখন তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বেশি চালাতে হচ্ছে, যা পিডিবির লোকসান ও সরকারের ভর্তুকির ওপর চাপ বাড়াবে।

দেশের জ্বালানি খাতের এই সংকটের মূলে রয়েছে দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গত তিন দশকে দেশে বড় কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়নি। ২০১৭ সালেও দেশে দিনে গ্যাস উৎপাদন হতো ২৭০ কোটি ঘনফুট, যা বর্তমানে ১৬৫ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে। ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হলেও তা স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে না। বিশ্ববাজারে দাম ব্যাপক বেড়ে গেলে ২০২২ সালের জুলাই থেকে টানা সাত মাস খোলাবাজারের এলএনজি কেনা বন্ধ রেখেছিল তৎকালীন সরকার। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, শুরু থেকেই বলা হয়েছে এলএনজি কোনো সমাধান নয়। আমদানিনির্ভরতা থেকেই নিয়মিত ভোগান্তি হচ্ছে এবং নানা কারণে সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।

৩০০ কোটি ঘনফুট পেলে মোটামুটি সংকট এড়ানো যায়।

১৭০ কোটি ঘনফুট পেলে মোটামুটি চালানো যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

টার্মিনালে আগুন: গ্যাস সরবরাহ কমে ২২০ কোটিতে, চরম ভোগান্তি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৫৭:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দেশে গ্যাসের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। দৈনিক ৩৮০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে গ্যাস সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে ২২০ কোটি ঘনফুটে। এর ফলে রাজধানীর বাসাবাড়িতে রান্নার চুলা জ্বলছে না, সিএনজি স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে এবং ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানার উৎপাদন। দেড় দশক ধরে গ্যাস খাতে চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি থাকলেও সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।

গত মঙ্গলবার মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, দেশে সাধারণত দৈনিক গড়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও দুর্ঘটনার পর তা ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমেছে। মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি ও দেশীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামিটের দুটি টার্মিনাল রয়েছে, যেখান থেকে দেশের মোট চাহিদার ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হয়। গড়ে প্রতিদিন ১০৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস আসত এলএনজি থেকে, যা দুর্ঘটনার পর কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৬ কোটি ঘনফুটে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পেট্রোবাংলা ও এক্সিলারেটের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, এলএনজির কোনো ঘাটতি নেই, মূলত দুর্ঘটনার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল এসে কাজ শুরু করেছে। এক্সিলারেট টার্মিনালের দুটি বয়লারের মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি চালু করা সম্ভব হলে দৈনিক আরও ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো যাবে। নতুন এলএনজি নিয়ে আসা জাহাজটি আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢাকার বাসিন্দারা। বিশেষ করে মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে গ্যাস না থাকায় অনেকে বৈদ্যুতিক চুলা ও এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির ২৭ লাখের বেশি আবাসিক গ্রাহক তীব্র স্বল্পচাপের মুখোমুখি হচ্ছেন। তিতাসের দৈনিক ২২০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে গতকাল সরবরাহ ছিল মাত্র ১২০ কোটি ঘনফুট, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে তারা ১৫০ থেকে ১৫৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেয়ে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে দুঃখপ্রকাশের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে তিতাস কর্তৃপক্ষ। মোহাম্মদপুরের হাউজিং সোসাইটি, জাকির হোসেন রোড ও তাজমহল রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে গ্যাস নেই বলে ফেসবুকে অভিযোগ করেছেন তানজিনা আহমেদ, শেরেজা তাজিন জামান ও ইফফাত পুতুলের মতো ভুক্তভোগীরা। সাজেদা আকতার নামের এক বাসিন্দা জানান, প্রতি মাসে নিয়মিত গ্যাস বিল দিয়েও তাদের এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও হাহাকার চলছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারহান নূর জানান, অধিকাংশ স্টেশনে গ্যাসের চাপ শূন্য থেকে ২ পিএসআইয়ে নেমে এসেছে, যার ফলে অনেক স্টেশন বন্ধ রাখতে হয়েছে। অন্যদিকে, শিল্পকারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) পরিচালক খোরশেদ আলম জানান, গ্যাসচালিত জেনারেটর চালাতে যেখানে ১০ পিএসআই চাপ প্রয়োজন, সেখানে পাওয়া যাচ্ছে ১ পিএসআইয়েরও কম। এর ফলে অনেক কারখানা বন্ধ রয়েছে এবং কেউ কেউ বেশি দামে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে দিনে গ্যাসের চাহিদা ২৫২ কোটি ঘনফুট। সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদার সময় ১১০ থেকে ১২০ কোটি ঘনফুট চায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তবে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে ৭৫ কোটি ঘনফুটে, যা সাধারণত ৯০ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট থাকে। ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫ হাজার মেগাওয়াট থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। তবে বৃষ্টির কারণে গরম কম থাকায় আপাতত ৫০০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে। পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, সবচেয়ে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় গ্যাস থেকে। সরবরাহ কমায় এখন তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র বেশি চালাতে হচ্ছে, যা পিডিবির লোকসান ও সরকারের ভর্তুকির ওপর চাপ বাড়াবে।

দেশের জ্বালানি খাতের এই সংকটের মূলে রয়েছে দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গত তিন দশকে দেশে বড় কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়নি। ২০১৭ সালেও দেশে দিনে গ্যাস উৎপাদন হতো ২৭০ কোটি ঘনফুট, যা বর্তমানে ১৬৫ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে। ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হলেও তা স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে না। বিশ্ববাজারে দাম ব্যাপক বেড়ে গেলে ২০২২ সালের জুলাই থেকে টানা সাত মাস খোলাবাজারের এলএনজি কেনা বন্ধ রেখেছিল তৎকালীন সরকার। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, শুরু থেকেই বলা হয়েছে এলএনজি কোনো সমাধান নয়। আমদানিনির্ভরতা থেকেই নিয়মিত ভোগান্তি হচ্ছে এবং নানা কারণে সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।

৩০০ কোটি ঘনফুট পেলে মোটামুটি সংকট এড়ানো যায়।

১৭০ কোটি ঘনফুট পেলে মোটামুটি চালানো যায়।