লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলসিতে আমদানি করা জিরা জব্দ, মালামাল ফেরত চেয়ে ব্যবসায়ীর আবেদন

ভারত থেকে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) ব্যবহার করে বৈধভাবে আমদানি করা ৬ হাজার ৩০০ কেজি জিরা ফেরত চেয়ে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন এক ব্যবসায়ী। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ শুল্ক গুদামের কর্মকর্তার কাছে বৃহস্পতিবার বিকেলে এই আবেদন জমা দেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ের মামারবাজার এলাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আফজালুর রহমান। তাঁর দাবি, সরকার নির্ধারিত শুল্ক, ভ্যাট ও কর পরিশোধ করে আমদানি করা ২১০ বস্তা জিরা ৫৫ বিজিবি বেআইনিভাবে জব্দ করে কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করেছে, যা তাকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলেছে।

আবেদনে ব্যবসায়ী উল্লেখ করেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘আফসানা স্টোর ক্রাশার’-এর নামে বৈধ আমদানি-রপ্তানি লাইসেন্স রয়েছে। গত ১৬ জুলাই এলসি নম্বর সি-৬৩২৬-এর মাধ্যমে তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৩০০ বস্তা জিরা আমদানি করা হয়। এরপর ১৯ জুলাই প্রয়োজনীয় শুল্ক, ভ্যাট ও কর পরিশোধ করে মালামাল নিজ গুদামে নেওয়া হয়েছিল।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আমদানি করা ৩০০ বস্তা জিরার মধ্যে ২১০ বস্তা গত ২২ জুলাই ঢাকার এক ক্রেতার কাছে পাঠানোর জন্য একটি কাভার্ড ভ্যানে তোলা হয়। একই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বালিখাল এলাকায় পৌঁছালে ৫৫ বিজিবির একটি দল গাড়িটি আটক করে। ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আফজালুর রহমানের অভিযোগ, চালক মালামালের কাগজপত্রের ফটোকপি দেখালেও বিজিবি তা গ্রহণ না করে ট্রাকসহ জিরা হেফাজতে নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে তিনি মূল কাগজপত্র নিয়ে বিজিবি কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, জব্দ করা জিরা জিআর-১৬০/২৬ নম্বর মামলায় শায়েস্তাগঞ্জ শুল্ক গুদামে পাঠানো হয়েছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে অবশ্য ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান জানান, সীমান্ত থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার অভ্যন্তরে ঢাকা-সিলেট পুরোনো মহাসড়কের তেলিয়াপাড়া রেলক্রসিং এলাকায় চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে জিরাগুলো জব্দ করা হয়। এছাড়া ব্যবসায়ীর দাখিল করা কাগজপত্র সম্পর্কে কাস্টমস কর্মকর্তারা তাদের জানিয়েছেন যে সেগুলো জাল।

শায়েস্তাগঞ্জ শুল্ক গুদামের কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ব্যবসায়ী আফজালুর রহমানের আবেদনটি বিভাগীয় কাস্টমস কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা আবেদনটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। ব্যবসায়ী আফজালুর রহমান তার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বিজিবি তার মালামাল বেআইনিভাবে আটক করেছে এবং তার কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে যাচাই করলে সত্যতা পাওয়া যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢামেকের ৮ তলা থেকে লাফিয়ে চিকিৎসাধীন তরুণীর মৃত্যু

এলসিতে আমদানি করা জিরা জব্দ, মালামাল ফেরত চেয়ে ব্যবসায়ীর আবেদন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৪৫:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

ভারত থেকে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) ব্যবহার করে বৈধভাবে আমদানি করা ৬ হাজার ৩০০ কেজি জিরা ফেরত চেয়ে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন এক ব্যবসায়ী। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ শুল্ক গুদামের কর্মকর্তার কাছে বৃহস্পতিবার বিকেলে এই আবেদন জমা দেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ের মামারবাজার এলাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আফজালুর রহমান। তাঁর দাবি, সরকার নির্ধারিত শুল্ক, ভ্যাট ও কর পরিশোধ করে আমদানি করা ২১০ বস্তা জিরা ৫৫ বিজিবি বেআইনিভাবে জব্দ করে কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করেছে, যা তাকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলেছে।

আবেদনে ব্যবসায়ী উল্লেখ করেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘আফসানা স্টোর ক্রাশার’-এর নামে বৈধ আমদানি-রপ্তানি লাইসেন্স রয়েছে। গত ১৬ জুলাই এলসি নম্বর সি-৬৩২৬-এর মাধ্যমে তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৩০০ বস্তা জিরা আমদানি করা হয়। এরপর ১৯ জুলাই প্রয়োজনীয় শুল্ক, ভ্যাট ও কর পরিশোধ করে মালামাল নিজ গুদামে নেওয়া হয়েছিল।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আমদানি করা ৩০০ বস্তা জিরার মধ্যে ২১০ বস্তা গত ২২ জুলাই ঢাকার এক ক্রেতার কাছে পাঠানোর জন্য একটি কাভার্ড ভ্যানে তোলা হয়। একই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বালিখাল এলাকায় পৌঁছালে ৫৫ বিজিবির একটি দল গাড়িটি আটক করে। ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আফজালুর রহমানের অভিযোগ, চালক মালামালের কাগজপত্রের ফটোকপি দেখালেও বিজিবি তা গ্রহণ না করে ট্রাকসহ জিরা হেফাজতে নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে তিনি মূল কাগজপত্র নিয়ে বিজিবি কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, জব্দ করা জিরা জিআর-১৬০/২৬ নম্বর মামলায় শায়েস্তাগঞ্জ শুল্ক গুদামে পাঠানো হয়েছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে অবশ্য ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান জানান, সীমান্ত থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার অভ্যন্তরে ঢাকা-সিলেট পুরোনো মহাসড়কের তেলিয়াপাড়া রেলক্রসিং এলাকায় চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে জিরাগুলো জব্দ করা হয়। এছাড়া ব্যবসায়ীর দাখিল করা কাগজপত্র সম্পর্কে কাস্টমস কর্মকর্তারা তাদের জানিয়েছেন যে সেগুলো জাল।

শায়েস্তাগঞ্জ শুল্ক গুদামের কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ব্যবসায়ী আফজালুর রহমানের আবেদনটি বিভাগীয় কাস্টমস কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা আবেদনটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। ব্যবসায়ী আফজালুর রহমান তার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বিজিবি তার মালামাল বেআইনিভাবে আটক করেছে এবং তার কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে যাচাই করলে সত্যতা পাওয়া যাবে।