লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিআইএ ঘাঁটিতে ইরানি হামলা: নেপথ্যে রাশিয়ার গোয়েন্দা সহায়তার অভিযোগ

ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোটের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বৈঠকে মিলিত হন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈঠকের প্রধান এজেন্ডা ছিল ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, তবে এর নেপথ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানের ক্রমবর্ধমান হামলার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের শুরু থেকেই তেহরান মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এর মধ্যে ৩ মার্চ দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্যমতে, রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতরে থাকা একটি সিআইএ স্টেশনে হামলা চালানো হয়। ৬ মার্চ সিএনএন জানায়, পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও সেনাসদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করতে মস্কো তেহরানকে সহায়তা করছে।

রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে ইরানি ড্রোন হামলার ঘটনার পর মার্কিন গোয়েন্দারা এতে রাশিয়ার সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন। হামলার নির্ভুল নিশানা ও কার্যকারিতা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এর পেছনে রুশ সহায়তার প্রমাণ থাকতে পারে। প্যারিসের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অব ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চের সহকারী অধ্যাপক নিকোল গ্রাজেভস্কি এই তথ্যকে ‘বাস্তবসম্মত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, ইরানের কাছে রাশিয়ার মতো মহাকাশভিত্তিক উচ্চ সক্ষমতা বা নজরদারির জন্য পর্যাপ্ত সামরিক স্যাটেলাইট নেই, যা তাদের রুশদের সঙ্গে কোনো চুক্তির দিকে ইঙ্গিত করে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ইরান নিজস্ব গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক বা হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স ব্যবহারেও দক্ষ।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর মস্কো ও তেহরানের সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পর ইরান শাহেদ ড্রোন ও ফাতেহ-১১০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়ে ওঠে। গত বছর দুই দেশ ২০ বছর মেয়াদি ‘সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। যদিও রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রে রুদেনকো দাবি করেছিলেন যে, এই চুক্তি কোনো সামরিক জোট নয়, তবে বিভিন্ন সময় রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘কোমেটা-এম’ অ্যান্টি-জ্যামিং নেভিগেশন সিস্টেম সরবরাহ করে ইরানি ড্রোনের সক্ষমতা বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করলেও রাশিয়া তা ‘ফেক নিউজ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

নিকোল গ্রাজেভস্কির মতে, এই সংঘাত মস্কোর জন্য সুবিধাজনক, কারণ এটি ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে বৈশ্বিক মনোযোগ ঘুরিয়ে দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি দুর্বল করার সুযোগ তৈরি করে। তিনি মনে করেন, রাশিয়া চায় না ইরান পুরোপুরি ধসে পড়ুক, তাই তারা একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রেখে ইরানকে টিকে থাকার মতো সহায়তা দিচ্ছে। তবে গ্রাজেভস্কি আরও যোগ করেন যে, রাশিয়ার সহায়তা ইরানের জন্য বাড়তি সুবিধা হলেও, তাদের নিজস্ব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী যুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার সকালে ইরাক সীমান্তবর্তী শালামচে ক্রসিংয়ে এক হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছে, যার জবাবে ইরান জর্ডানসহ একাধিক দেশে হামলা চালিয়েছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা টানা ১২তম রাতের মতো অব্যাহত ছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

তৈরি পোশাক খাতে বিদেশি ছাড়াই শতভাগ দেশি কর্মসংস্থান সম্ভব: মাহদী আমিন

সিআইএ ঘাঁটিতে ইরানি হামলা: নেপথ্যে রাশিয়ার গোয়েন্দা সহায়তার অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:১৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোটের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বৈঠকে মিলিত হন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈঠকের প্রধান এজেন্ডা ছিল ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, তবে এর নেপথ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানের ক্রমবর্ধমান হামলার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের শুরু থেকেই তেহরান মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এর মধ্যে ৩ মার্চ দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্যমতে, রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতরে থাকা একটি সিআইএ স্টেশনে হামলা চালানো হয়। ৬ মার্চ সিএনএন জানায়, পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও সেনাসদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করতে মস্কো তেহরানকে সহায়তা করছে।

রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে ইরানি ড্রোন হামলার ঘটনার পর মার্কিন গোয়েন্দারা এতে রাশিয়ার সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন। হামলার নির্ভুল নিশানা ও কার্যকারিতা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এর পেছনে রুশ সহায়তার প্রমাণ থাকতে পারে। প্যারিসের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অব ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চের সহকারী অধ্যাপক নিকোল গ্রাজেভস্কি এই তথ্যকে ‘বাস্তবসম্মত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, ইরানের কাছে রাশিয়ার মতো মহাকাশভিত্তিক উচ্চ সক্ষমতা বা নজরদারির জন্য পর্যাপ্ত সামরিক স্যাটেলাইট নেই, যা তাদের রুশদের সঙ্গে কোনো চুক্তির দিকে ইঙ্গিত করে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, ইরান নিজস্ব গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক বা হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স ব্যবহারেও দক্ষ।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর মস্কো ও তেহরানের সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পর ইরান শাহেদ ড্রোন ও ফাতেহ-১১০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়ে ওঠে। গত বছর দুই দেশ ২০ বছর মেয়াদি ‘সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। যদিও রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রে রুদেনকো দাবি করেছিলেন যে, এই চুক্তি কোনো সামরিক জোট নয়, তবে বিভিন্ন সময় রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘কোমেটা-এম’ অ্যান্টি-জ্যামিং নেভিগেশন সিস্টেম সরবরাহ করে ইরানি ড্রোনের সক্ষমতা বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করলেও রাশিয়া তা ‘ফেক নিউজ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

নিকোল গ্রাজেভস্কির মতে, এই সংঘাত মস্কোর জন্য সুবিধাজনক, কারণ এটি ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে বৈশ্বিক মনোযোগ ঘুরিয়ে দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি দুর্বল করার সুযোগ তৈরি করে। তিনি মনে করেন, রাশিয়া চায় না ইরান পুরোপুরি ধসে পড়ুক, তাই তারা একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রেখে ইরানকে টিকে থাকার মতো সহায়তা দিচ্ছে। তবে গ্রাজেভস্কি আরও যোগ করেন যে, রাশিয়ার সহায়তা ইরানের জন্য বাড়তি সুবিধা হলেও, তাদের নিজস্ব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী যুদ্ধের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার সকালে ইরাক সীমান্তবর্তী শালামচে ক্রসিংয়ে এক হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছে, যার জবাবে ইরান জর্ডানসহ একাধিক দেশে হামলা চালিয়েছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা টানা ১২তম রাতের মতো অব্যাহত ছিল।