লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেপাল-পেওনিয়ারসহ ডিজিটাল পেমেন্ট সেবার নতুন নীতিমালা জারি করল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অনলাইন লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করতে নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (২৯ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ (এফইপিডি) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নতুন এই 'ব্যাংক-মধ্যস্থতাকারী আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল লেনদেন কাঠামো'র মাধ্যমে পেপাল, পেওনিয়ার ও স্ট্রাইপের মতো আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাগুলো বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবে।

নতুন এই নীতিমালার আওতায় অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে চুক্তি করে বৈদেশিক লেনদেন ও আউটওয়ার্ড রেমিট্যান্স সেবা প্রদানের সুযোগ পাবে। ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট (ডিভিএ) বা ডিজিটাল ওয়ালেট চালু করতে পারবে, যা সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এসব লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং গ্রাহক পরিচয় যাচাই (কেওয়াইসি) সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে পালন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এই নতুন ব্যবস্থার ফলে বিদেশ ভ্রমণ, চিকিৎসা, শিক্ষা, ই-ভিসা ফি, হোটেল বুকিং, সফটওয়্যার ও আইটি সেবার বিল, আন্তর্জাতিক সাবস্ক্রিপশন এবং অনলাইন কেনাকাটার অর্থ পরিশোধ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) ও রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাবধারীরাও এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া ফ্রিল্যান্সার ও ই-কমার্স উদ্যোক্তারা তাদের বৈদেশিক আয় সহজে দেশে আনতে পারবেন এবং বাংলাদেশে আসা বিদেশি পর্যটকরা স্থানীয় মার্চেন্ট পয়েন্টে ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারবেন।

সেবাটি চালুর আগে ব্যাংকগুলোকে তাদের কারিগরি পরিকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিস্তারিত তথ্যসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে পূর্বানুমতি বা স্বীকৃতি নিতে হবে। পাশাপাশি অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং গ্রাহক যাচাই নীতি মেনে নিয়মিত লেনদেনের প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এই নীতিমালা কার্যকর হওয়ার ফলে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ও ই-কমার্স খাতের জন্য এটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে এনসিপি বহরে হামলার ঘটনায় ছাত্রদল নেতাসহ ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

পেপাল-পেওনিয়ারসহ ডিজিটাল পেমেন্ট সেবার নতুন নীতিমালা জারি করল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৪৬:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অনলাইন লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করতে নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (২৯ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ (এফইপিডি) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নতুন এই 'ব্যাংক-মধ্যস্থতাকারী আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল লেনদেন কাঠামো'র মাধ্যমে পেপাল, পেওনিয়ার ও স্ট্রাইপের মতো আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবাগুলো বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবে।

নতুন এই নীতিমালার আওতায় অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে চুক্তি করে বৈদেশিক লেনদেন ও আউটওয়ার্ড রেমিট্যান্স সেবা প্রদানের সুযোগ পাবে। ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট (ডিভিএ) বা ডিজিটাল ওয়ালেট চালু করতে পারবে, যা সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এসব লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং গ্রাহক পরিচয় যাচাই (কেওয়াইসি) সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে পালন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এই নতুন ব্যবস্থার ফলে বিদেশ ভ্রমণ, চিকিৎসা, শিক্ষা, ই-ভিসা ফি, হোটেল বুকিং, সফটওয়্যার ও আইটি সেবার বিল, আন্তর্জাতিক সাবস্ক্রিপশন এবং অনলাইন কেনাকাটার অর্থ পরিশোধ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) ও রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাবধারীরাও এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া ফ্রিল্যান্সার ও ই-কমার্স উদ্যোক্তারা তাদের বৈদেশিক আয় সহজে দেশে আনতে পারবেন এবং বাংলাদেশে আসা বিদেশি পর্যটকরা স্থানীয় মার্চেন্ট পয়েন্টে ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারবেন।

সেবাটি চালুর আগে ব্যাংকগুলোকে তাদের কারিগরি পরিকাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিস্তারিত তথ্যসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে পূর্বানুমতি বা স্বীকৃতি নিতে হবে। পাশাপাশি অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং গ্রাহক যাচাই নীতি মেনে নিয়মিত লেনদেনের প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। এই নীতিমালা কার্যকর হওয়ার ফলে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ও ই-কমার্স খাতের জন্য এটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।