লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার জেরে বিশ্ব তেলবাজারে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। জ্বালানি বিশ্লেষকদের এমন সতর্কবার্তা তুলে ধরে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগত তেলের মজুত হ্রাস, শোধন সক্ষমতার সংকট এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে বিশ্ববাজারে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হলে বিশ্ব তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। যদিও আপাতত বাজার পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে, তবে এই স্থিতি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুনে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে এমন চাপ তৈরি হবে যা কেবল তেলের বাজার নয়, পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকেই নাড়িয়ে দেবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সমঝোতা টেকেনি এবং যুদ্ধবিরতিও ভেঙে যায়।

সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে শুরু করে, যা বিশ্ববাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তার জন্ম দেয়। তবে পরিস্থিতি জটিল হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে এখনো বড় কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। এর মূল কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময় কয়েক সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক সরবরাহ সংকট এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, হরমুজ প্রণালির এই অচলাবস্থা যদি দীর্ঘায়িত হয় এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় না ফেরে, তবে বর্তমানের এই আপেক্ষিক ভারসাম্য দ্রুত ভেঙে পড়বে। এর ফলে শুধু অপরিশোধিত তেলের দামই বাড়বে না, বরং ডিজেল ও জেট ফুয়েলসহ সব ধরনের জ্বালানির বাজারেই তীব্র চাপ সৃষ্টি হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা

হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার জেরে বিশ্ব তেলবাজারে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০৪:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। জ্বালানি বিশ্লেষকদের এমন সতর্কবার্তা তুলে ধরে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগত তেলের মজুত হ্রাস, শোধন সক্ষমতার সংকট এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে বিশ্ববাজারে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ না হলে বিশ্ব তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। যদিও আপাতত বাজার পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে, তবে এই স্থিতি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুনে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে এমন চাপ তৈরি হবে যা কেবল তেলের বাজার নয়, পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকেই নাড়িয়ে দেবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সমঝোতা টেকেনি এবং যুদ্ধবিরতিও ভেঙে যায়।

সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে শুরু করে, যা বিশ্ববাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তার জন্ম দেয়। তবে পরিস্থিতি জটিল হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে এখনো বড় কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। এর মূল কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময় কয়েক সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক সরবরাহ সংকট এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, হরমুজ প্রণালির এই অচলাবস্থা যদি দীর্ঘায়িত হয় এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় না ফেরে, তবে বর্তমানের এই আপেক্ষিক ভারসাম্য দ্রুত ভেঙে পড়বে। এর ফলে শুধু অপরিশোধিত তেলের দামই বাড়বে না, বরং ডিজেল ও জেট ফুয়েলসহ সব ধরনের জ্বালানির বাজারেই তীব্র চাপ সৃষ্টি হবে।