লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আফগানিস্তানের মতো ভুল কি ট্রাম্প আবারও করছেন ইরানে?

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পাঁচ বছর পূর্ণ হতে চলল এই আগস্ট মাসে। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট কাবুল তালেবানের দখলে যাওয়ার পর মার্কিন বাহিনীর তাড়াহুড়ো করে দেশ ছাড়ার দৃশ্য বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর শুরু হওয়া ওই অভিযান এখন একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবেই স্বীকৃত। এই দীর্ঘ যুদ্ধে ২ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মার্কিন ও ৪৫০ জন ব্রিটিশ সেনার প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া প্রাণ হারিয়েছেন অগণিত বেসামরিক মানুষ। আল-কায়েদাকে পরাস্ত করা গেলেও তালেবান আবারও ক্ষমতায় ফিরে এসে দমন-পীড়নমূলক শাসন চালাচ্ছে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর রাষ্ট্র গঠনের ব্যর্থতার এক চরম উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ন্যাশনাল ওয়ার কলেজের অধ্যাপক কার্টার মালকাসিয়ান, যিনি হেলমান্দ ও কাবুলে মার্কিন বাহিনীর বেসামরিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন, তিনি আফগানিস্তানে ২০ বছর সেনা রাখার মূল যুক্তিটিকে ত্রুটিপূর্ণ বলে মনে করেন। তাঁর মতে, সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হওয়ার ভয় দেখিয়ে যে যুদ্ধের অজুহাত দেওয়া হয়েছিল, তা অতিরঞ্জিত ছিল। গত পাঁচ বছরে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো সন্ত্রাসী হামলা হয়নি, অথচ এই যুদ্ধে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছে এবং ৭ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল।

ইরাকের ক্ষেত্রেও যুদ্ধের কারণগুলো ছিল ভ্রান্ত। ২০০২ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ দাবি করেছিলেন, সাদ্দাম হোসেনের সরকারের কাছে রাসায়নিক ও জৈবিক অস্ত্রের মজুত রয়েছে এবং তারা পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সেখানে আগ্রাসন চালায় এবং সামান্য লাভের আশায় ব্যাপক ক্ষতি করে ২০১১ সালে তারা সেখান থেকে বিদায় নেয়। ‘আর কখনোই নয়!’ সেই সময় এবং তার পর থেকে এটিই ছিল সবার আবেগপূর্ণ দাবি। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন ও পাকিস্তানে এই যুদ্ধগুলোর কারণে প্রায় ৯ লাখ ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতিকে সেই একই বিপর্যয়কর ধারার পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে হুমকি অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করছেন, যেমনটা অতীতে ইরাকের ক্ষেত্রে করা হয়েছিল। যদিও ইরানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই এবং তা অর্জনের কোনো শক্ত প্রমাণও নেই, তবুও ট্রাম্পের এই নীতিকে ছায়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের শামিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সাইমন টিসডালের মতে, ট্রাম্প এখন গণতন্ত্রের আদর্শের চেয়ে অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারে বেশি মনোযোগী, যা যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিকে আবারও অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈশ্বরদীতে চুরির সময় গণপিটুনিতে নিহত ১, আহত ৩

আফগানিস্তানের মতো ভুল কি ট্রাম্প আবারও করছেন ইরানে?

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩০:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পাঁচ বছর পূর্ণ হতে চলল এই আগস্ট মাসে। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট কাবুল তালেবানের দখলে যাওয়ার পর মার্কিন বাহিনীর তাড়াহুড়ো করে দেশ ছাড়ার দৃশ্য বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর শুরু হওয়া ওই অভিযান এখন একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবেই স্বীকৃত। এই দীর্ঘ যুদ্ধে ২ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মার্কিন ও ৪৫০ জন ব্রিটিশ সেনার প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া প্রাণ হারিয়েছেন অগণিত বেসামরিক মানুষ। আল-কায়েদাকে পরাস্ত করা গেলেও তালেবান আবারও ক্ষমতায় ফিরে এসে দমন-পীড়নমূলক শাসন চালাচ্ছে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর রাষ্ট্র গঠনের ব্যর্থতার এক চরম উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ন্যাশনাল ওয়ার কলেজের অধ্যাপক কার্টার মালকাসিয়ান, যিনি হেলমান্দ ও কাবুলে মার্কিন বাহিনীর বেসামরিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন, তিনি আফগানিস্তানে ২০ বছর সেনা রাখার মূল যুক্তিটিকে ত্রুটিপূর্ণ বলে মনে করেন। তাঁর মতে, সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হওয়ার ভয় দেখিয়ে যে যুদ্ধের অজুহাত দেওয়া হয়েছিল, তা অতিরঞ্জিত ছিল। গত পাঁচ বছরে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো সন্ত্রাসী হামলা হয়নি, অথচ এই যুদ্ধে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছে এবং ৭ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল।

ইরাকের ক্ষেত্রেও যুদ্ধের কারণগুলো ছিল ভ্রান্ত। ২০০২ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ দাবি করেছিলেন, সাদ্দাম হোসেনের সরকারের কাছে রাসায়নিক ও জৈবিক অস্ত্রের মজুত রয়েছে এবং তারা পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সেখানে আগ্রাসন চালায় এবং সামান্য লাভের আশায় ব্যাপক ক্ষতি করে ২০১১ সালে তারা সেখান থেকে বিদায় নেয়। ‘আর কখনোই নয়!’ সেই সময় এবং তার পর থেকে এটিই ছিল সবার আবেগপূর্ণ দাবি। ব্রাউন ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন ও পাকিস্তানে এই যুদ্ধগুলোর কারণে প্রায় ৯ লাখ ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতিকে সেই একই বিপর্যয়কর ধারার পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে হুমকি অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করছেন, যেমনটা অতীতে ইরাকের ক্ষেত্রে করা হয়েছিল। যদিও ইরানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নেই এবং তা অর্জনের কোনো শক্ত প্রমাণও নেই, তবুও ট্রাম্পের এই নীতিকে ছায়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের শামিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সাইমন টিসডালের মতে, ট্রাম্প এখন গণতন্ত্রের আদর্শের চেয়ে অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারে বেশি মনোযোগী, যা যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতিকে আবারও অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।