লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামের রোগীর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এডিনো ভাইরাস, শনাক্ত শিশু হাসপাতালে

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে এডিনো ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হামের রোগী এডিনো ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাদের শারীরিক জটিলতা বহুগুণ বেড়ে যায় এবং রোগীর অবস্থা দ্রুত সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। বর্তমান হাম পরিস্থিতি বিশ্লেষণে এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব শিশুর অবস্থা খারাপ এবং যাদের শরীরে প্রচলিত ওষুধ কাজ করছে না, তাদের ‘রেসপিরেটরি প্যানেল টেস্ট’ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত ৩৫ শিশুর নমুনা পরীক্ষা করে ১৬ জনের শরীরে এডিনো ভাইরাস পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের মতে, এই সহসংক্রমণের ফলে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তাদের ফুসফুস অক্সিজেন নিতে অক্ষম হয়ে পড়ে, যাকে তারা ‘সাদা ফুসফুস’ লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

এডিনো ভাইরাস নতুন কোনো জীবাণু নয়, এটি দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশে বিদ্যমান। সাধারণত জ্বর, সর্দি ও কাশির মতো সাধারণ উপসর্গ দেখা দিলেও হামের সঙ্গে এর সংক্রমণ মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। গত ২৩ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম ব্যবস্থাপনাবিষয়ক সভায় শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টি উত্থাপন করেছিল। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশিদ হাম ও এডিনো ভাইরাসের এমন সহসংক্রমণের বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। সিডিসির বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যে শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক গুরুত্ব না পাওয়ার ঘটনাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন।

দেশে এ বছর মার্চ মাসে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এবং ৮৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলার ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলা ও পৌরসভায় হাম–রুবেলার টিকা দেওয়া শুরু করে। এরপর ১২ এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, বরিশাল ও ময়মনসিংহ—এই চার সিটি করপোরেশনে টিকা দিতে থাকে। এরপর ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে হাম–রুবেলার টিকার জাতীয় ক্যাম্পেইন শুরু করে। ক্যাম্পেইন শেষ হয় ২০ মে। স্বাস্থ্য বিভাগ ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষমাত্রা ঠিক করে। কিন্তু জুন মাসে ভিটামিন এ জাতীয় ক্যাম্পেইনের সময় জানা যায়, ওই বয়সী শিশু আছে ২ কোটি ২৬ লাখ। ৪৬ লাখ শিশুকে হিসাবের বাইরে রেখে সরকার ক্যাম্পেইন শেষ করে। গতকালও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১ হাজার ২২ জন চিকিৎসা নিতে আসে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই আন্দোলনে জড়িত ৩৫ শতাংশ পুলিশ কর্মকর্তা এখনো স্বপদে বহাল

হামের রোগীর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এডিনো ভাইরাস, শনাক্ত শিশু হাসপাতালে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩১:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে এডিনো ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হামের রোগী এডিনো ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাদের শারীরিক জটিলতা বহুগুণ বেড়ে যায় এবং রোগীর অবস্থা দ্রুত সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। বর্তমান হাম পরিস্থিতি বিশ্লেষণে এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব শিশুর অবস্থা খারাপ এবং যাদের শরীরে প্রচলিত ওষুধ কাজ করছে না, তাদের ‘রেসপিরেটরি প্যানেল টেস্ট’ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত ৩৫ শিশুর নমুনা পরীক্ষা করে ১৬ জনের শরীরে এডিনো ভাইরাস পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের মতে, এই সহসংক্রমণের ফলে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তাদের ফুসফুস অক্সিজেন নিতে অক্ষম হয়ে পড়ে, যাকে তারা ‘সাদা ফুসফুস’ লক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

এডিনো ভাইরাস নতুন কোনো জীবাণু নয়, এটি দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশে বিদ্যমান। সাধারণত জ্বর, সর্দি ও কাশির মতো সাধারণ উপসর্গ দেখা দিলেও হামের সঙ্গে এর সংক্রমণ মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। গত ২৩ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম ব্যবস্থাপনাবিষয়ক সভায় শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই বিষয়টি উত্থাপন করেছিল। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশিদ হাম ও এডিনো ভাইরাসের এমন সহসংক্রমণের বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। সিডিসির বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যে শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক গুরুত্ব না পাওয়ার ঘটনাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন।

দেশে এ বছর মার্চ মাসে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এবং ৮৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলার ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলা ও পৌরসভায় হাম–রুবেলার টিকা দেওয়া শুরু করে। এরপর ১২ এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, বরিশাল ও ময়মনসিংহ—এই চার সিটি করপোরেশনে টিকা দিতে থাকে। এরপর ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে হাম–রুবেলার টিকার জাতীয় ক্যাম্পেইন শুরু করে। ক্যাম্পেইন শেষ হয় ২০ মে। স্বাস্থ্য বিভাগ ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষমাত্রা ঠিক করে। কিন্তু জুন মাসে ভিটামিন এ জাতীয় ক্যাম্পেইনের সময় জানা যায়, ওই বয়সী শিশু আছে ২ কোটি ২৬ লাখ। ৪৬ লাখ শিশুকে হিসাবের বাইরে রেখে সরকার ক্যাম্পেইন শেষ করে। গতকালও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১ হাজার ২২ জন চিকিৎসা নিতে আসে।