লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে ফের সরগরম সচিবালয়ের অন্দরমহল

প্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়টি বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব এবং জনপ্রশাসন সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ে সচিবালয়ে নানা গুঞ্জন চলছে। একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদে নতুন মুখ আসবে, নাকি বর্তমান কর্মকর্তাদের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে, তা নিয়ে চলছে বিশদ বিশ্লেষণ।

চলতি মাসেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহছানুল হকের দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক মেয়াদের ইতি ঘটছে। অন্যদিকে, গত ২৯ জুলাই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান খানকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। একই দিনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলামকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ৫৯ বছর পূর্তিতে অবসরে পাঠানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা হয়।

সচিবালয়ের গুঞ্জন অনুযায়ী, জনপ্রশাসন সচিব এহছানুল হকের মেয়াদ শেষ হলে সেখানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সালেহ আহমেদকে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুস সাত্তার মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্বে আসতে পারেন। বিকল্প হিসেবে ড. নাসিমুল গনির চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে তাকে বহাল রেখে মুখ্য সচিবের পদে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়েও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আলোচনা চলছে, তবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেই কাউকে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপি সরকারের।

প্রশাসনে বড় ধরনের পদোন্নতির বিষয়টিও বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি সরকার ১৭৯ জন উপসচিবকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে। এর মধ্যে ১৭২ জনকে এক প্রজ্ঞাপনে এবং বিদেশে কর্মরত সাত উপসচিবকে অন্য এক প্রজ্ঞাপনে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তবে এই তালিকায় অবসরপ্রাপ্ত, শাস্তিপ্রাপ্ত এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিতর্কিত ভূমিকা রাখা কর্মকর্তাদের নাম থাকায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে অবসরে যাওয়ার পর পদোন্নতি পাওয়ার ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরবর্তীতে সরকার ওই কর্মকর্তার পদোন্নতি বাতিল করে। সাবেক আমলা ও বিশেষজ্ঞরা এই ত্রুটিকে সরকারের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হিসেবে আখ্যা দিয়ে ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব আবদুল আউয়াল মজুমদার আমার দেশকে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর। প্রধানমন্ত্রী যাকে নির্ভরযোগ্য মনে করবেন, তাকেই নিয়োগ দেবেন, এটাই স্বাভাবিক। তিনি উল্লেখ করেন, নিয়মিত আমলাদের পারস্পরিক অভিযোগ ও বিষোদ্গার সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে, যার ফলে সরকার পরিচিত বা আস্থাশীল ব্যক্তিদেরই বিভিন্ন পদে বসাতে চায়। তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ অনেক কর্মকর্তাকে বঞ্চিত করেছে, বর্তমান সরকার তাদের গুরুত্ব দিতেই পারে। তবে সৎ, দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তাদেরই পদোন্নতি পাওয়া উচিত বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া গত ২৩ জুলাই নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিবসহ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই আন্দোলনে জড়িত ৩৫ শতাংশ পুলিশ কর্মকর্তা এখনো স্বপদে বহাল

প্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে ফের সরগরম সচিবালয়ের অন্দরমহল

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৪১:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

প্রশাসনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিষয়টি বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব এবং জনপ্রশাসন সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ে সচিবালয়ে নানা গুঞ্জন চলছে। একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদে নতুন মুখ আসবে, নাকি বর্তমান কর্মকর্তাদের চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে, তা নিয়ে চলছে বিশদ বিশ্লেষণ।

চলতি মাসেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহছানুল হকের দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক মেয়াদের ইতি ঘটছে। অন্যদিকে, গত ২৯ জুলাই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান খানকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। একই দিনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলামকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ৫৯ বছর পূর্তিতে অবসরে পাঠানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা হয়।

সচিবালয়ের গুঞ্জন অনুযায়ী, জনপ্রশাসন সচিব এহছানুল হকের মেয়াদ শেষ হলে সেখানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সালেহ আহমেদকে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুস সাত্তার মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্বে আসতে পারেন। বিকল্প হিসেবে ড. নাসিমুল গনির চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে তাকে বহাল রেখে মুখ্য সচিবের পদে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়েও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আলোচনা চলছে, তবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেই কাউকে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপি সরকারের।

প্রশাসনে বড় ধরনের পদোন্নতির বিষয়টিও বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি সরকার ১৭৯ জন উপসচিবকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে। এর মধ্যে ১৭২ জনকে এক প্রজ্ঞাপনে এবং বিদেশে কর্মরত সাত উপসচিবকে অন্য এক প্রজ্ঞাপনে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তবে এই তালিকায় অবসরপ্রাপ্ত, শাস্তিপ্রাপ্ত এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিতর্কিত ভূমিকা রাখা কর্মকর্তাদের নাম থাকায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে অবসরে যাওয়ার পর পদোন্নতি পাওয়ার ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরবর্তীতে সরকার ওই কর্মকর্তার পদোন্নতি বাতিল করে। সাবেক আমলা ও বিশেষজ্ঞরা এই ত্রুটিকে সরকারের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হিসেবে আখ্যা দিয়ে ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব আবদুল আউয়াল মজুমদার আমার দেশকে বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর। প্রধানমন্ত্রী যাকে নির্ভরযোগ্য মনে করবেন, তাকেই নিয়োগ দেবেন, এটাই স্বাভাবিক। তিনি উল্লেখ করেন, নিয়মিত আমলাদের পারস্পরিক অভিযোগ ও বিষোদ্গার সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে, যার ফলে সরকার পরিচিত বা আস্থাশীল ব্যক্তিদেরই বিভিন্ন পদে বসাতে চায়। তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ অনেক কর্মকর্তাকে বঞ্চিত করেছে, বর্তমান সরকার তাদের গুরুত্ব দিতেই পারে। তবে সৎ, দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তাদেরই পদোন্নতি পাওয়া উচিত বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া গত ২৩ জুলাই নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিবসহ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।