লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সমালোচনার মুখে গুগল আর্থের নতুন এআই ফিচার স্থগিত

বিশ্বজুড়ে উন্মোচনের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গুগল আর্থের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভিত্তিক ছবি তৈরির ফিচারটি বন্ধ করে দিয়েছে গুগল। স্যাটেলাইট ছবিতে কৃত্রিমভাবে নানা ধরনের ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর দৃশ্য তৈরির ঝুঁকি এবং এর অপব্যবহারের আশঙ্কায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বাস্তব স্যাটেলাইট ছবিতে নিজেদের ইচ্ছামতো বিভিন্ন ঘটনার দৃশ্য যুক্ত করতে পারছিলেন, যা ভুল তথ্য ও অপপ্রচার ছড়ানোর বড় ঝুঁকি তৈরি করেছিল। ৩১ জুলাই এক বিবৃতিতে গুগল জানিয়েছে, যদিও ভূ-স্থানিক বা জিওস্পেশাল পেশাজীবীরা ফিচারটি ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করছিলেন, তবুও কিছু নীতিমালা লঙ্ঘনকারী স্ক্রিনশট তাদের নজরে এসেছে। আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফিচারটি আপাতত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

৩০ জুলাই গুগল এই টুলটি চালুর সময় জানিয়েছিল, এটি শিক্ষার্থীদের ইতিহাসভিত্তিক দৃশ্য কল্পনা, রিয়েল এস্টেট বিপণন এবং বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে সহায়তা করবে। গুগল আর্থের পণ্য ব্যবস্থাপক ব্রায়ান হোরোভিটজ জানিয়েছিলেন, ব্যবহারকারীরা স্যাটেলাইট, আকাশ থেকে তোলা ও থ্রিডি ছবির ওপর 'ন্যানো বানানা' এআই মডেল ব্যবহার করে নিজের পছন্দমতো ছবি তৈরি করতে সক্ষম হবেন। এর জন্য কোনো স্থানে জুম করে 'ক্রিয়েট ইমেজ' অপশনে গিয়ে কমান্ড লিখে দিলেই চলত।

তবে ফিচারটি চালুর পর থেকেই ওএসআইএনটি বা ওপেন-সোর্স গোয়েন্দা বিশ্লেষণের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিক ও গবেষকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দেয়। তাদের মতে, স্যাটেলাইট ছবি যুদ্ধ, দুর্যোগ, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও পরিবেশগত পরিবর্তনের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে এআই দিয়ে কৃত্রিম দৃশ্য যোগ করার সুযোগ থাকলে তা বিভ্রান্তি ছড়ানোর নতুন পথ খুলে দেবে। ওয়াশিংটন পোস্টের ভিজ্যুয়াল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ইভান হিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মন্তব্য করেন, এই প্রযুক্তির অপব্যবহারের সুযোগ কার্যত সীমাহীন ছিল।

গবেষক হেনক ভ্যান এস দাবি করেন, কোনো কার্যকর ফিল্টার ছাড়াই তিনি মেক্সিকো সীমান্তে শরণার্থী, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, আমস্টারডামে বিমান দুর্ঘটনা এবং গাজার হাসপাতালে বোমা হামলার গর্ত তৈরির মতো ভুয়া দৃশ্য তৈরি করতে পেরেছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও এই ঝুঁকি তুলে ধরতে টুলটি ব্যবহার করে ইরানে অগ্নিকাণ্ড, ওয়াশিংটন ডিসিতে বন্যা, আইফেল টাওয়ার ধসে পড়া এবং গিজার পিরামিড ধ্বংসের মতো কাল্পনিক ছবি প্রকাশ করেছে।

গুগল জানিয়েছে, এআই দিয়ে তৈরি এসব ছবি মূল মানচিত্রে অন্য ব্যবহারকারীদের জন্য প্রদর্শিত হচ্ছিল না এবং প্রতিটি ছবিতে এআই-নির্মিত জলছাপও ছিল। ২০০৫ সালে যাত্রা শুরু করা গুগল আর্থের এই ম্যাপিং প্ল্যাটফর্মটি সাধারণত কয়েক বছর পরপর স্যাটেলাইট মানচিত্র হালনাগাদ করে থাকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রায়পুরা প্রেসক্লাবে দুর্বৃত্তদের তাণ্ডব ও লুটপাট, ৩ লাখ টাকার ক্ষতি

সমালোচনার মুখে গুগল আর্থের নতুন এআই ফিচার স্থগিত

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:০১:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বজুড়ে উন্মোচনের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গুগল আর্থের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভিত্তিক ছবি তৈরির ফিচারটি বন্ধ করে দিয়েছে গুগল। স্যাটেলাইট ছবিতে কৃত্রিমভাবে নানা ধরনের ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর দৃশ্য তৈরির ঝুঁকি এবং এর অপব্যবহারের আশঙ্কায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বাস্তব স্যাটেলাইট ছবিতে নিজেদের ইচ্ছামতো বিভিন্ন ঘটনার দৃশ্য যুক্ত করতে পারছিলেন, যা ভুল তথ্য ও অপপ্রচার ছড়ানোর বড় ঝুঁকি তৈরি করেছিল। ৩১ জুলাই এক বিবৃতিতে গুগল জানিয়েছে, যদিও ভূ-স্থানিক বা জিওস্পেশাল পেশাজীবীরা ফিচারটি ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করছিলেন, তবুও কিছু নীতিমালা লঙ্ঘনকারী স্ক্রিনশট তাদের নজরে এসেছে। আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফিচারটি আপাতত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

৩০ জুলাই গুগল এই টুলটি চালুর সময় জানিয়েছিল, এটি শিক্ষার্থীদের ইতিহাসভিত্তিক দৃশ্য কল্পনা, রিয়েল এস্টেট বিপণন এবং বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে সহায়তা করবে। গুগল আর্থের পণ্য ব্যবস্থাপক ব্রায়ান হোরোভিটজ জানিয়েছিলেন, ব্যবহারকারীরা স্যাটেলাইট, আকাশ থেকে তোলা ও থ্রিডি ছবির ওপর 'ন্যানো বানানা' এআই মডেল ব্যবহার করে নিজের পছন্দমতো ছবি তৈরি করতে সক্ষম হবেন। এর জন্য কোনো স্থানে জুম করে 'ক্রিয়েট ইমেজ' অপশনে গিয়ে কমান্ড লিখে দিলেই চলত।

তবে ফিচারটি চালুর পর থেকেই ওএসআইএনটি বা ওপেন-সোর্স গোয়েন্দা বিশ্লেষণের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিক ও গবেষকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দেয়। তাদের মতে, স্যাটেলাইট ছবি যুদ্ধ, দুর্যোগ, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও পরিবেশগত পরিবর্তনের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সেখানে এআই দিয়ে কৃত্রিম দৃশ্য যোগ করার সুযোগ থাকলে তা বিভ্রান্তি ছড়ানোর নতুন পথ খুলে দেবে। ওয়াশিংটন পোস্টের ভিজ্যুয়াল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ইভান হিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মন্তব্য করেন, এই প্রযুক্তির অপব্যবহারের সুযোগ কার্যত সীমাহীন ছিল।

গবেষক হেনক ভ্যান এস দাবি করেন, কোনো কার্যকর ফিল্টার ছাড়াই তিনি মেক্সিকো সীমান্তে শরণার্থী, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, আমস্টারডামে বিমান দুর্ঘটনা এবং গাজার হাসপাতালে বোমা হামলার গর্ত তৈরির মতো ভুয়া দৃশ্য তৈরি করতে পেরেছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও এই ঝুঁকি তুলে ধরতে টুলটি ব্যবহার করে ইরানে অগ্নিকাণ্ড, ওয়াশিংটন ডিসিতে বন্যা, আইফেল টাওয়ার ধসে পড়া এবং গিজার পিরামিড ধ্বংসের মতো কাল্পনিক ছবি প্রকাশ করেছে।

গুগল জানিয়েছে, এআই দিয়ে তৈরি এসব ছবি মূল মানচিত্রে অন্য ব্যবহারকারীদের জন্য প্রদর্শিত হচ্ছিল না এবং প্রতিটি ছবিতে এআই-নির্মিত জলছাপও ছিল। ২০০৫ সালে যাত্রা শুরু করা গুগল আর্থের এই ম্যাপিং প্ল্যাটফর্মটি সাধারণত কয়েক বছর পরপর স্যাটেলাইট মানচিত্র হালনাগাদ করে থাকে।