লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লজিস্টিকস উন্নয়ন ও বাণিজ্য ব্যয় কমাতে সমন্বিত পরিকল্পনার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

আমদানি-রপ্তানি পণ্য খালাসের জটিলতা নিরসন, লজিস্টিকস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সামগ্রিক বাণিজ্য ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জোর আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ন্যাশনাল ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন কমিটির দশম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্য চালান খালাসের ক্ষেত্রে সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের জন্য সরকার বিভিন্ন দপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাণিজ্য প্রক্রিয়াকে সহজতর করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই উদ্যোগের সুফল যেন দ্রুত ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছায়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্র অনুযায়ী, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির অধীনে বাংলাদেশের ৫৪টি নির্ধারিত পদক্ষেপের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৭টি বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাটাগরি-এ’র ২১টি এবং ক্যাটাগরি-বি’র ১৮টি বাধ্যবাধকতা ডব্লিউটিওকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া ক্যাটাগরি-সি’র ১৫টি পদক্ষেপের মধ্যে আটটি সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট সাতটি ২০৩০ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে বাকি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর সভায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এনবিআরের সদস্য ড. আল আমিন প্রামাণিক সভায় জানান, ঝুঁকি বিশ্লেষণভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার বা এআরএমএস আগামী অক্টোবরের মধ্যে কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি চালু হলে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে। এছাড়া এনবিআর অথোরাইজড ইকোনমিক অপারেটর সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কাস্টমস সেবায় পণ্য বন্দরে পৌঁছানোর আগেই খালাস প্রক্রিয়া শুরু এবং অনলাইন অটো-ম্যানিফেস্ট রেজিস্ট্রেশনের সুবিধা চালু করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের তথ্য সহায়তার জন্য ন্যাশনাল ইনকোয়ারি পয়েন্টও সক্রিয় রয়েছে।

বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির সব কার্যক্রম এককভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সহযোগিতায় বাকি কাজগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী অভিন্ন কার্যপদ্ধতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন যাতে একই ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিন্নতা কমে আসে। এছাড়া খাদ্যপণ্যের মান পরীক্ষা এবং পরীক্ষাগার সুবিধার উন্নয়নে সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, এনবিআর, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং সভাটি পরিচালনা করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন।

জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম চালু হবে: শিক্ষামন্ত্রী

লজিস্টিকস উন্নয়ন ও বাণিজ্য ব্যয় কমাতে সমন্বিত পরিকল্পনার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমদানি-রপ্তানি পণ্য খালাসের জটিলতা নিরসন, লজিস্টিকস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সামগ্রিক বাণিজ্য ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জোর আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ন্যাশনাল ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন কমিটির দশম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্য চালান খালাসের ক্ষেত্রে সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের জন্য সরকার বিভিন্ন দপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাণিজ্য প্রক্রিয়াকে সহজতর করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই উদ্যোগের সুফল যেন দ্রুত ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছায়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্র অনুযায়ী, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির অধীনে বাংলাদেশের ৫৪টি নির্ধারিত পদক্ষেপের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৭টি বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে ক্যাটাগরি-এ’র ২১টি এবং ক্যাটাগরি-বি’র ১৮টি বাধ্যবাধকতা ডব্লিউটিওকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া ক্যাটাগরি-সি’র ১৫টি পদক্ষেপের মধ্যে আটটি সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট সাতটি ২০৩০ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে বাকি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর সভায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এনবিআরের সদস্য ড. আল আমিন প্রামাণিক সভায় জানান, ঝুঁকি বিশ্লেষণভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার বা এআরএমএস আগামী অক্টোবরের মধ্যে কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি চালু হলে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে। এছাড়া এনবিআর অথোরাইজড ইকোনমিক অপারেটর সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। কাস্টমস সেবায় পণ্য বন্দরে পৌঁছানোর আগেই খালাস প্রক্রিয়া শুরু এবং অনলাইন অটো-ম্যানিফেস্ট রেজিস্ট্রেশনের সুবিধা চালু করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের তথ্য সহায়তার জন্য ন্যাশনাল ইনকোয়ারি পয়েন্টও সক্রিয় রয়েছে।

বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির সব কার্যক্রম এককভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সহযোগিতায় বাকি কাজগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী অভিন্ন কার্যপদ্ধতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন যাতে একই ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিন্নতা কমে আসে। এছাড়া খাদ্যপণ্যের মান পরীক্ষা এবং পরীক্ষাগার সুবিধার উন্নয়নে সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, এনবিআর, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং সভাটি পরিচালনা করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন।