লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যের চিভনিং স্কলারশিপ: ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদন শুরু

যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য অন্যতম জনপ্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি হলো চিভনিং স্কলারশিপ। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য এই বৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদনের সুযোগ পাবেন। বৃত্তির বিস্তারিত তথ্য ও আবেদনের নিয়মাবলি chevening.org ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

চিভনিং হলো যুক্তরাজ্য সরকারের প্রধান আন্তর্জাতিক বৃত্তি কর্মসূচি, যা ১৯৮৩ সালে চালু হয়। এটি মূলত যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) এবং বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ পেশাজীবীদের জন্য এই বৃত্তি প্রদান করা হয়। এর আওতায় যুক্তরাজ্যের ১৫০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো একটিতে এক বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ রয়েছে।

এটি একটি সম্পূর্ণ অর্থায়নভিত্তিক বা ফুল ফ্রি স্কলারশিপ। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, যাতায়াতের বিমানভাড়া, আবাসন খরচ এবং মাসিক জীবনযাপন ভাতা সুবিধাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জন শিক্ষার্থী এই বৃত্তির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেছেন। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ থেকে ২২ জন তরুণ পেশাজীবীকে এই বৃত্তির জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

চিভনিং মূলত পেশাজীবীদের জন্য একটি বৃত্তি। আবেদনের জন্য প্রার্থীর ন্যূনতম দুই বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এই অভিজ্ঞতার মধ্যে ছাত্রজীবনে করা ইন্টার্নশিপ বা পার্টটাইম কাজের সময়কালও গণ্য করা হয়। সাধারণত উন্নয়ন সংস্থা, ইয়ুথ ফোরাম, স্বাস্থ্য, আইন পেশা এবং সরকারি চাকুরিজীবীদের মধ্য থেকে বৃত্তি পাওয়ার হার বেশি দেখা যায়। তবে পেশাদার সাংবাদিকেরাও এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারেন।

আবেদনের যোগ্যতার ক্ষেত্রে স্নাতক পর্যায়ে অন্তত দ্বিতীয় শ্রেণির ডিগ্রি থাকা আবশ্যক। এছাড়া ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে আইইএলটিএসে ন্যূনতম ৬.৫ স্কোর থাকতে হবে। বৃত্তির জন্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রার্থীর নেতৃত্বদানের ক্ষমতা, সামাজিক দক্ষতা, নেটওয়ার্কিং দক্ষতা এবং নিজের দেশ ও সমাজের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলার সক্ষমতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আবেদনকারীদের অবশ্যই অনলাইনে সংশ্লিষ্ট কোর্সে আবেদনের পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় দুটি রেফারেন্স লেটার, পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সর্বশেষ অর্জিত ডিগ্রির সনদপত্র জমা দিতে হবে। চূড়ান্ত নির্বাচনের পর ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশনে মৌখিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। বৃত্তি পাওয়ার পর পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে অন্তত দুই বছর কাজ করার অঙ্গীকার করতে হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

চিঠি লিখে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ও হারমোনিয়াম পেল ক্ষুদে শিল্পী অনুশ্রী

যুক্তরাজ্যের চিভনিং স্কলারশিপ: ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদন শুরু

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৪২:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য অন্যতম জনপ্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি হলো চিভনিং স্কলারশিপ। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য এই বৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদনের সুযোগ পাবেন। বৃত্তির বিস্তারিত তথ্য ও আবেদনের নিয়মাবলি chevening.org ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

চিভনিং হলো যুক্তরাজ্য সরকারের প্রধান আন্তর্জাতিক বৃত্তি কর্মসূচি, যা ১৯৮৩ সালে চালু হয়। এটি মূলত যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) এবং বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ পেশাজীবীদের জন্য এই বৃত্তি প্রদান করা হয়। এর আওতায় যুক্তরাজ্যের ১৫০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো একটিতে এক বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ রয়েছে।

এটি একটি সম্পূর্ণ অর্থায়নভিত্তিক বা ফুল ফ্রি স্কলারশিপ। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, যাতায়াতের বিমানভাড়া, আবাসন খরচ এবং মাসিক জীবনযাপন ভাতা সুবিধাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জন শিক্ষার্থী এই বৃত্তির মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করেছেন। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ থেকে ২২ জন তরুণ পেশাজীবীকে এই বৃত্তির জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

চিভনিং মূলত পেশাজীবীদের জন্য একটি বৃত্তি। আবেদনের জন্য প্রার্থীর ন্যূনতম দুই বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এই অভিজ্ঞতার মধ্যে ছাত্রজীবনে করা ইন্টার্নশিপ বা পার্টটাইম কাজের সময়কালও গণ্য করা হয়। সাধারণত উন্নয়ন সংস্থা, ইয়ুথ ফোরাম, স্বাস্থ্য, আইন পেশা এবং সরকারি চাকুরিজীবীদের মধ্য থেকে বৃত্তি পাওয়ার হার বেশি দেখা যায়। তবে পেশাদার সাংবাদিকেরাও এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারেন।

আবেদনের যোগ্যতার ক্ষেত্রে স্নাতক পর্যায়ে অন্তত দ্বিতীয় শ্রেণির ডিগ্রি থাকা আবশ্যক। এছাড়া ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে আইইএলটিএসে ন্যূনতম ৬.৫ স্কোর থাকতে হবে। বৃত্তির জন্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রার্থীর নেতৃত্বদানের ক্ষমতা, সামাজিক দক্ষতা, নেটওয়ার্কিং দক্ষতা এবং নিজের দেশ ও সমাজের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলার সক্ষমতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আবেদনকারীদের অবশ্যই অনলাইনে সংশ্লিষ্ট কোর্সে আবেদনের পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় দুটি রেফারেন্স লেটার, পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সর্বশেষ অর্জিত ডিগ্রির সনদপত্র জমা দিতে হবে। চূড়ান্ত নির্বাচনের পর ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশনে মৌখিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। বৃত্তি পাওয়ার পর পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে অন্তত দুই বছর কাজ করার অঙ্গীকার করতে হয়।