লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারের ছয় মাসের অগ্রগতি হতাশাজনক: এবি পার্টি

বিএনপি সরকারের গত ছয় মাসের কার্যক্রমকে চরম হতাশাজনক বলে অভিহিত করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। রাজধানীর বিজয় নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ সকাল সাড়ে ১১টায় “সরকারের ছয় মাস: প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা! জনগণের সামনে পূর্ণাঙ্গ খতিয়ান” শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এই অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বক্তব্য রাখেন।

এবি পার্টির নেতারা অভিযোগ করেন, ‘৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামত’, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এর মতো স্বপ্নময় প্রতিশ্রুতির কথা বলে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকার বাস্তবে দলীয়করণ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকট, ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস এবং অর্থনীতিকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তারা আরও বলেন, সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পথে না হেঁটে জনগণের মতামতকে পায়ে দলিত করে এক নতুন ধরনের বাংলাদেশ গড়ার বার্তা দিচ্ছে। প্রথম ছয় মাসে জনগণ যে নতুন সম্ভাবনা আশা করেছিল, তা চরম হতাশায় পর্যবসিত হয়েছে বলে দলটি মনে করে।

দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের মেয়াদের ১০ ভাগের ১ ভাগ সময় হলো ছয় মাস, যা মূল্যায়নের জন্য কম নয়। তবে এই সময়ে অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, শাসন ব্যবস্থা, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং গণতান্ত্রিক চর্চার সূচকে তেমন কোনো আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। বরং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের চেয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা খুবই হতাশাজনক। তিনি দাবি করেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসে পূর্বের মাফিয়া চক্র এখনো বিদ্যমান। জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে সব দলকে নিয়ে এক টেবিলে বসার পরামর্শ দিলেও সরকার তা শোনেনি, যার ফলে এই সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষের জীবন সংগ্রাম অবর্ণনীয় কষ্টে নিপতিত হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে শত শত কল-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, সেই সাথে ১ হাজারেরও বেশি নতুন কল-কারখানা চালুর ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

মজিবুর রহমান মঞ্জু আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার আচরণে মিতব্যয়িতা ও সাদামাটা জীবনযাপনের বার্তা দিলেও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এর কোনো ছায়া নেই। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন যে, সরকার যেভাবে দেশ চালাচ্ছে তাতে বিরোধী দলের আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না, জনদুর্ভোগের কারণে সাধারণ নাগরিকরাই ধৈর্য হারিয়ে রাস্তায় নামবে।

দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতার কালচার আবার ফিরে আসছে যা কাম্য ছিল না, তবে রাজনৈতিক সহনশীলতা এখনো বজায় রয়েছে, যা একটি ইতিবাচক দিক। তিনি ভারতের সাথে সরকারের সম্পর্ককে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচির ৮-১০টি দফা অমান্য করার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিএনপি তাদের ওয়াদা অনুযায়ী ক্রীড়াঙ্গন, বিচারবিভাগ, দুদক এবং নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণমুক্ত রাখেনি। গুম ও মানবাধিকার বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশ বাতিল করে আওয়ামী আইনের চেয়েও দুর্বল আইন করা হয়েছে এবং যারা গুমের সাথে জড়িত তাদেরকেই তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তিনি জ্বালানি খাতকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ছাড়া বেসরকারি করণের বিরোধিতা করেন এবং জঙ্গি ইস্যু মোকাবিলায় সব দলকে নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন। সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এফসিএ এবং এনইসি সদস্য ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীর ওপর ছিনতাইকারীর হাম/লা, রগ কে/টে দেওয়ার অভিযোগ

সরকারের ছয় মাসের অগ্রগতি হতাশাজনক: এবি পার্টি

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৪৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

বিএনপি সরকারের গত ছয় মাসের কার্যক্রমকে চরম হতাশাজনক বলে অভিহিত করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। রাজধানীর বিজয় নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ সকাল সাড়ে ১১টায় “সরকারের ছয় মাস: প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা! জনগণের সামনে পূর্ণাঙ্গ খতিয়ান” শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এই অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বক্তব্য রাখেন।

এবি পার্টির নেতারা অভিযোগ করেন, ‘৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামত’, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এর মতো স্বপ্নময় প্রতিশ্রুতির কথা বলে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকার বাস্তবে দলীয়করণ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকট, ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস এবং অর্থনীতিকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তারা আরও বলেন, সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পথে না হেঁটে জনগণের মতামতকে পায়ে দলিত করে এক নতুন ধরনের বাংলাদেশ গড়ার বার্তা দিচ্ছে। প্রথম ছয় মাসে জনগণ যে নতুন সম্ভাবনা আশা করেছিল, তা চরম হতাশায় পর্যবসিত হয়েছে বলে দলটি মনে করে।

দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের মেয়াদের ১০ ভাগের ১ ভাগ সময় হলো ছয় মাস, যা মূল্যায়নের জন্য কম নয়। তবে এই সময়ে অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, শাসন ব্যবস্থা, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং গণতান্ত্রিক চর্চার সূচকে তেমন কোনো আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। বরং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের চেয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা খুবই হতাশাজনক। তিনি দাবি করেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসে পূর্বের মাফিয়া চক্র এখনো বিদ্যমান। জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে সব দলকে নিয়ে এক টেবিলে বসার পরামর্শ দিলেও সরকার তা শোনেনি, যার ফলে এই সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষের জীবন সংগ্রাম অবর্ণনীয় কষ্টে নিপতিত হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে শত শত কল-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, সেই সাথে ১ হাজারেরও বেশি নতুন কল-কারখানা চালুর ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

মজিবুর রহমান মঞ্জু আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার আচরণে মিতব্যয়িতা ও সাদামাটা জীবনযাপনের বার্তা দিলেও দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এর কোনো ছায়া নেই। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন যে, সরকার যেভাবে দেশ চালাচ্ছে তাতে বিরোধী দলের আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না, জনদুর্ভোগের কারণে সাধারণ নাগরিকরাই ধৈর্য হারিয়ে রাস্তায় নামবে।

দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতার কালচার আবার ফিরে আসছে যা কাম্য ছিল না, তবে রাজনৈতিক সহনশীলতা এখনো বজায় রয়েছে, যা একটি ইতিবাচক দিক। তিনি ভারতের সাথে সরকারের সম্পর্ককে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচির ৮-১০টি দফা অমান্য করার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিএনপি তাদের ওয়াদা অনুযায়ী ক্রীড়াঙ্গন, বিচারবিভাগ, দুদক এবং নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণমুক্ত রাখেনি। গুম ও মানবাধিকার বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশ বাতিল করে আওয়ামী আইনের চেয়েও দুর্বল আইন করা হয়েছে এবং যারা গুমের সাথে জড়িত তাদেরকেই তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তিনি জ্বালানি খাতকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ছাড়া বেসরকারি করণের বিরোধিতা করেন এবং জঙ্গি ইস্যু মোকাবিলায় সব দলকে নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দেন। সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এফসিএ এবং এনইসি সদস্য ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান উপস্থিত ছিলেন।