লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুবাইয়ে সম্পদ: ৭৩ বাংলাদেশির তথ্য চেয়ে অনুসন্ধানে দুদক

দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ৭৩ বাংলাদেশির বিষয়ে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ৭৩ জন বাংলাদেশির বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদ ও আর্থিক তথ্য চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি। দুদকের উপ-পরিচালক আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে এবং সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল এই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তদন্তাধীন তালিকায় রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল এবং সাবেক পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতসহ আরও অনেকে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের (ইউএনসিএসি) আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই মাধ্যমের সাহায্যে দুর্নীতি ও আর্থিক অপরাধের তদন্তে বিভিন্ন সদস্য দেশ নথি ও তথ্য আদান-প্রদান করে থাকে।

দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আখতারুল ইসলাম জানান, তদন্তকারী দল ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে। এছাড়া নির্বাচন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর অধিকতর অনুসন্ধানের জন্য এই ৭৩ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তাধীন ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ দুবাইয়ের অভিজাত এলাকা দুবাই মেরিনা ও পাম জুমেইরাহতে ফ্ল্যাট ও বাড়ি কিনেছেন এবং গোল্ডেন ভিসাও গ্রহণ করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় দুদক এই ব্যক্তিদের পেশাগত পরিচয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি।

উল্লেখ্য, দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে এই অনুসন্ধানের সূত্রপাত সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশনায়। ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালত দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন। সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ (সিফোরএডিএস) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্যাক্স অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল পর্যন্ত দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির মালিকানায় ৯৭২টি সম্পত্তি ছিল, যার নথিভুক্ত মূল্য প্রায় ৩১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গবেষণায় এসব সম্পত্তির মধ্যে ৬৪টি দুবাই মেরিনায় এবং ১৯টি পাম জুমেইরাহতে থাকার তথ্য উঠে আসে। এছাড়া বাংলাদেশিদের মালিকানায় অন্তত ১০০টি ভিলা ও পাঁচটি ভবনের তথ্য পাওয়া গেছে।

২০২২ সালের মে মাসে প্রকাশিত সিফোরএডিএসের এক গবেষণায় সম্পত্তিগুলোর মূল্য প্রায় ৩১৫ মিলিয়ন ডলার বলা হয়েছিল।

চীনে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে ড্র করল বাংলাদেশ হকি দল

দুবাইয়ে সম্পদ: ৭৩ বাংলাদেশির তথ্য চেয়ে অনুসন্ধানে দুদক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:১১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুবাইয়ে অর্থপাচারের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ৭৩ জন বাংলাদেশির বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদ ও আর্থিক তথ্য চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি। দুদকের উপ-পরিচালক আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে এবং সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল এই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তদন্তাধীন তালিকায় রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল এবং সাবেক পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাতসহ আরও অনেকে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের (ইউএনসিএসি) আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের কাছে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই মাধ্যমের সাহায্যে দুর্নীতি ও আর্থিক অপরাধের তদন্তে বিভিন্ন সদস্য দেশ নথি ও তথ্য আদান-প্রদান করে থাকে।

দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আখতারুল ইসলাম জানান, তদন্তকারী দল ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে। এছাড়া নির্বাচন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর অধিকতর অনুসন্ধানের জন্য এই ৭৩ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্তাধীন ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ দুবাইয়ের অভিজাত এলাকা দুবাই মেরিনা ও পাম জুমেইরাহতে ফ্ল্যাট ও বাড়ি কিনেছেন এবং গোল্ডেন ভিসাও গ্রহণ করেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় দুদক এই ব্যক্তিদের পেশাগত পরিচয় এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি।

উল্লেখ্য, দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে এই অনুসন্ধানের সূত্রপাত সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশনায়। ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালত দুদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন। সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ (সিফোরএডিএস) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্যাক্স অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল পর্যন্ত দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির মালিকানায় ৯৭২টি সম্পত্তি ছিল, যার নথিভুক্ত মূল্য প্রায় ৩১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গবেষণায় এসব সম্পত্তির মধ্যে ৬৪টি দুবাই মেরিনায় এবং ১৯টি পাম জুমেইরাহতে থাকার তথ্য উঠে আসে। এছাড়া বাংলাদেশিদের মালিকানায় অন্তত ১০০টি ভিলা ও পাঁচটি ভবনের তথ্য পাওয়া গেছে।

২০২২ সালের মে মাসে প্রকাশিত সিফোরএডিএসের এক গবেষণায় সম্পত্তিগুলোর মূল্য প্রায় ৩১৫ মিলিয়ন ডলার বলা হয়েছিল।