লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইন্দোনেশিয়ায় আনাক ক্রাকাতাও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, বাতিল দুই শতাধিক ফ্লাইট

ইন্দোনেশিয়ার সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতাও আগ্নেয়গিরিতে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে নির্গত প্রকাণ্ড ছাই ও ধোঁয়ার মেঘ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ায় রাজধানী জাকার্তার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের দুই শতাধিক ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, জাকার্তার ‘সোকোর্নো-হাট্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’-এ অগ্ন্যুৎপাতের ছাই ছড়িয়ে পড়ায় এই ফ্লাইট কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই অগ্ন্যুৎপাতে ভয়াবহ ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়েছে। সুমাত্রা অঞ্চল ও বানতেন প্রদেশে প্রায় ৫০ হাজার ফুট (১৫ হাজার মিটার) উচ্চতা পর্যন্ত ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং জাভা অংশে প্রায় ২০ হাজার ফুট উঁচুতে ছাইয়ের আস্তরণ দেখা গেছে।

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা (বিএনপিবি) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থার মুখপাত্র বার্তন প্যানজাইতান স্থানীয়দের ছাইয়ের হাত থেকে বাঁচতে মাস্ক ও চশমা ব্যবহার করা, বাইরের কাজকর্ম কমানো এবং খাবার পানির উৎস ঢেকে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘কম্পাস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বায়ুমণ্ডলে ছাই ছড়িয়ে পড়ায় অনেক শিক্ষার্থী ও বাসিন্দা চোখে তীব্র জ্বালাপোড়ার সমস্যায় পড়েন। ফলে বেশ কয়েকটি স্কুল পাঠদান বাতিল করতে বাধ্য হয়। একই সঙ্গে সমুদ্র উত্তাল ও দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় জেলেরা সাগরে যাওয়া থেকে বিরত রয়েছেন। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় আক্রান্ত অঞ্চলের একাধিক স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সাগরে মাছ ধরা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, অগ্ন্যুৎপাতের কারণে তাৎক্ষণিক কোনো সুনামির ঝুঁকি নেই। উল্লেখ্য, ‘আনাক ক্রাকাতাও’ নামটির অর্থ ‘ক্রাকোতাওয়ের সন্তান’। ১৮৮৩ সালে এক ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে ক্রাকাতোয়া ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি সুনামির সৃষ্টি হয়ে ৩৬ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের পরই আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ইন্দোনেশিয়ায় আনাক ক্রাকাতাও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, বাতিল দুই শতাধিক ফ্লাইট

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০২:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতাও আগ্নেয়গিরিতে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে নির্গত প্রকাণ্ড ছাই ও ধোঁয়ার মেঘ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ায় রাজধানী জাকার্তার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটের দুই শতাধিক ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, জাকার্তার ‘সোকোর্নো-হাট্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’-এ অগ্ন্যুৎপাতের ছাই ছড়িয়ে পড়ায় এই ফ্লাইট কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই অগ্ন্যুৎপাতে ভয়াবহ ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়েছে। সুমাত্রা অঞ্চল ও বানতেন প্রদেশে প্রায় ৫০ হাজার ফুট (১৫ হাজার মিটার) উচ্চতা পর্যন্ত ধোঁয়ার কুণ্ডলী এবং জাভা অংশে প্রায় ২০ হাজার ফুট উঁচুতে ছাইয়ের আস্তরণ দেখা গেছে।

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা (বিএনপিবি) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থার মুখপাত্র বার্তন প্যানজাইতান স্থানীয়দের ছাইয়ের হাত থেকে বাঁচতে মাস্ক ও চশমা ব্যবহার করা, বাইরের কাজকর্ম কমানো এবং খাবার পানির উৎস ঢেকে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘কম্পাস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বায়ুমণ্ডলে ছাই ছড়িয়ে পড়ায় অনেক শিক্ষার্থী ও বাসিন্দা চোখে তীব্র জ্বালাপোড়ার সমস্যায় পড়েন। ফলে বেশ কয়েকটি স্কুল পাঠদান বাতিল করতে বাধ্য হয়। একই সঙ্গে সমুদ্র উত্তাল ও দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় জেলেরা সাগরে যাওয়া থেকে বিরত রয়েছেন। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় আক্রান্ত অঞ্চলের একাধিক স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সাগরে মাছ ধরা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, অগ্ন্যুৎপাতের কারণে তাৎক্ষণিক কোনো সুনামির ঝুঁকি নেই। উল্লেখ্য, ‘আনাক ক্রাকাতাও’ নামটির অর্থ ‘ক্রাকোতাওয়ের সন্তান’। ১৮৮৩ সালে এক ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে ক্রাকাতোয়া ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি সুনামির সৃষ্টি হয়ে ৩৬ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।