লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

যুক্তরাজ্যের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন লেবার পার্টির নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সোমবার রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সোমবার দায়িত্ব নেওয়ার আগে বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই মন্ত্রিসভার নাম ঘোষণা করা হলে তা অপ্রয়োজনীয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি জানান, সিদ্ধান্তগুলো চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন এবং সোমবার তা ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যেই নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে র্যাচেল রিভসের উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এবং বিচারমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নাম সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে।

লন্ডনের ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (টিইউসি) সদর দপ্তরে লেবার নেতা হিসেবে প্রথম ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, তার মন্ত্রিসভায় দলের সব অংশ এবং দেশের সব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে। তিনি শ্রমজীবী মানুষের কাছে নতুন আশা ফিরিয়ে আনা এবং ওয়েস্টমিনস্টারকেন্দ্রিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে তিনি গত ৪০ বছরের নিওলিবারেল অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করেন এবং পুনঃশিল্পায়নের পরিকল্পনার কথা জানান। দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ইংল্যান্ডের সামাজিক সেবা (সোশ্যাল কিয়ার) ব্যবস্থার সংস্কারের কথা উল্লেখ করেন বার্নহ্যাম। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই খাতে বড় ধরনের রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে এনএইচএস-এর মতো সামাজিক সেবা বিনামূল্যে পাওয়া যায় না এবং উচ্চ ব্যয়ের কারণে অনেককে বাড়িঘর পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়। তিনি বলেন, এই অবস্থায় সামাজিক সেবা ব্যবস্থা ফেলে রাখা যায় না।

রাজনৈতিক অঙ্গনে তার এই দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। বিরোধী রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ দাবি করেছেন, বার্নহ্যামের কোনো জনসমর্থনের ম্যান্ডেট নেই, তাই দ্রুত সাধারণ নির্বাচন হওয়া উচিত। অন্যদিকে, লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা স্যার এড ডেভি সহযোগিতামূলক রাজনীতির আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছেন। কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান কেভিন হলিনরেক দাবি করেছেন, বার্নহ্যামের উচিত সংসদের গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ভেঙে এমপিদের সামনে সরকারের পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করা।

উল্লেখ্য, মাত্র এক মাস আগে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে ফেরেন বার্নহ্যাম। এরপর ৩৭৯ জন এমপি এবং ১১টি ট্রেড ইউনিয়নের সমর্থনে তিনি একমাত্র নেতৃত্বপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। জুন মাসে স্যার কিয়ার স্টারমার নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর এই পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। দলের নেতারা আশা করছেন, বার্নহ্যামের নেতৃত্ব লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে, যা গত ১৮ মাস ধরে জনমত জরিপে পিছিয়ে ছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:১৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাজ্যের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন লেবার পার্টির নতুন নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সোমবার রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতের পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সোমবার দায়িত্ব নেওয়ার আগে বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই মন্ত্রিসভার নাম ঘোষণা করা হলে তা অপ্রয়োজনীয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি জানান, সিদ্ধান্তগুলো চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন এবং সোমবার তা ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যেই নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে র্যাচেল রিভসের উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড এবং বিচারমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নাম সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে।

লন্ডনের ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস (টিইউসি) সদর দপ্তরে লেবার নেতা হিসেবে প্রথম ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, তার মন্ত্রিসভায় দলের সব অংশ এবং দেশের সব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে। তিনি শ্রমজীবী মানুষের কাছে নতুন আশা ফিরিয়ে আনা এবং ওয়েস্টমিনস্টারকেন্দ্রিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের অঙ্গীকার করে তিনি গত ৪০ বছরের নিওলিবারেল অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করেন এবং পুনঃশিল্পায়নের পরিকল্পনার কথা জানান। দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ইংল্যান্ডের সামাজিক সেবা (সোশ্যাল কিয়ার) ব্যবস্থার সংস্কারের কথা উল্লেখ করেন বার্নহ্যাম। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই খাতে বড় ধরনের রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে এনএইচএস-এর মতো সামাজিক সেবা বিনামূল্যে পাওয়া যায় না এবং উচ্চ ব্যয়ের কারণে অনেককে বাড়িঘর পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়। তিনি বলেন, এই অবস্থায় সামাজিক সেবা ব্যবস্থা ফেলে রাখা যায় না।

রাজনৈতিক অঙ্গনে তার এই দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। বিরোধী রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ দাবি করেছেন, বার্নহ্যামের কোনো জনসমর্থনের ম্যান্ডেট নেই, তাই দ্রুত সাধারণ নির্বাচন হওয়া উচিত। অন্যদিকে, লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা স্যার এড ডেভি সহযোগিতামূলক রাজনীতির আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছেন। কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান কেভিন হলিনরেক দাবি করেছেন, বার্নহ্যামের উচিত সংসদের গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ভেঙে এমপিদের সামনে সরকারের পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করা।

উল্লেখ্য, মাত্র এক মাস আগে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদে ফেরেন বার্নহ্যাম। এরপর ৩৭৯ জন এমপি এবং ১১টি ট্রেড ইউনিয়নের সমর্থনে তিনি একমাত্র নেতৃত্বপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। জুন মাসে স্যার কিয়ার স্টারমার নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর এই পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। দলের নেতারা আশা করছেন, বার্নহ্যামের নেতৃত্ব লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে, যা গত ১৮ মাস ধরে জনমত জরিপে পিছিয়ে ছিল।