লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার অভিযোগে ৪৯ জন আটক ও গ্রেপ্তার

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবির আন্দোলনের আড়ালে পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ তুলেছে পুলিশ। এই আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে রাজধানীর মিরপুর ও গাজীপুরে পুলিশের গাড়ি ও বক্সে আগুন এবং হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় গত রোববার ঢাকা ও গাজীপুর থেকে মোট ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়েছে।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানান, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং ৮ জনকে থানা-পুলিশ আটক করেছে। ডিবির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান জানান, আটক ব্যক্তিরা মিরপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার অনুসারী এবং তাঁদের কয়েকজনের দলীয় পদ-পদবি রয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, ইলিয়াস মোল্লার ভাগনে আলিফ মোল্লা শতাধিক ব্যক্তিকে সংগঠিত করে শ্রমিকদের আন্দোলনে পাঠিয়েছিলেন এবং এই ব্যক্তিরাই সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুর চালিয়েছেন।

সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিরপুরে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। তাঁরা স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক নন, বরং বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিলেন। সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে জনমনে আতঙ্ক ও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে উসকানি দেওয়া এবং ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ৯ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার ভোরে কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কালিয়াকৈর উপজেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ সিকদার, মৌচাক ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন, ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আরিফুল হোসেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম মিয়া, যুবলীগের সক্রিয় সদস্য মোহাম্মদ মেহেদী হাসান মিজান, আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ রাসেল, সৈকত শেখ ও মিজানুর রহমান।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম জানান, শ্রমিকদের আন্দোলনে যুক্ত থাকার অভিযোগে নয়, বরং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর বাইরে শিল্প পুলিশ ৯ জন এবং গাজীপুর মহানগর পুলিশ ১৩ জনকে আটক করেছে বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

শিল্প পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক গাজী জসিম উদ্দিন বাসসকে বলেছেন, শ্রমিকদের দাবি বিবেচনায় সরকার ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে এবং মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগের কথা শ্রমিকদের জানানো হয়েছিল। এরপরও সহিংসতা অব্যাহত থাকায় এর পেছনে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক মিল্টন, সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর

শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার অভিযোগে ৪৯ জন আটক ও গ্রেপ্তার

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবির আন্দোলনের আড়ালে পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ তুলেছে পুলিশ। এই আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে রাজধানীর মিরপুর ও গাজীপুরে পুলিশের গাড়ি ও বক্সে আগুন এবং হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় গত রোববার ঢাকা ও গাজীপুর থেকে মোট ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়েছে।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানান, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং ৮ জনকে থানা-পুলিশ আটক করেছে। ডিবির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান জানান, আটক ব্যক্তিরা মিরপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার অনুসারী এবং তাঁদের কয়েকজনের দলীয় পদ-পদবি রয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, ইলিয়াস মোল্লার ভাগনে আলিফ মোল্লা শতাধিক ব্যক্তিকে সংগঠিত করে শ্রমিকদের আন্দোলনে পাঠিয়েছিলেন এবং এই ব্যক্তিরাই সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুর চালিয়েছেন।

সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিরপুরে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। তাঁরা স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক নন, বরং বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিলেন। সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে জনমনে আতঙ্ক ও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে উসকানি দেওয়া এবং ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ৯ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার ভোরে কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কালিয়াকৈর উপজেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ সিকদার, মৌচাক ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন, ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আরিফুল হোসেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম মিয়া, যুবলীগের সক্রিয় সদস্য মোহাম্মদ মেহেদী হাসান মিজান, আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ রাসেল, সৈকত শেখ ও মিজানুর রহমান।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম জানান, শ্রমিকদের আন্দোলনে যুক্ত থাকার অভিযোগে নয়, বরং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর বাইরে শিল্প পুলিশ ৯ জন এবং গাজীপুর মহানগর পুলিশ ১৩ জনকে আটক করেছে বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

শিল্প পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক গাজী জসিম উদ্দিন বাসসকে বলেছেন, শ্রমিকদের দাবি বিবেচনায় সরকার ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে এবং মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগের কথা শ্রমিকদের জানানো হয়েছিল। এরপরও সহিংসতা অব্যাহত থাকায় এর পেছনে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।