লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতি চুপ্পুকে অনেক আগেই বিদায় করা উচিত ছিল: এটিএম আজহার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে অনেক আগেই বিদায় করা উচিত ছিল। তিনি মন্তব্য করেন, তাকে এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদে রাখা বিএনপির জন্য একটি বড় ভুল এবং তারা পদে পদে এর খেসারত দেবে। আজহারুল ইসলাম বলেন, এই রাষ্ট্রপতি সরাসরি জুলাই-বিরোধী এবং খুনি হাসিনার দোসর। তাই তাকে দ্রুত সাংবিধানিক পদ থেকে অপসারণ করে আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে সাংবিধানিক দায়িত্ব ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হলে কোনো পদই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না।

বৃহস্পতিবার রংপুরের বদরগঞ্জে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের আর কোনো গড়িমসি করার সুযোগ নেই। জনগণের রায় উপেক্ষা করে দেশ পরিচালনা করলে সরকারকে তার রাজনৈতিক পরিণতি বহন করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকর করা না হলে জাতীয় সংসদের ভেতরে সাংবিধানিকভাবে এবং সংসদের বাইরে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, দেশের জনগণ ভোটের মাধ্যমে সরকার নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের মাধ্যমে দেওয়া রায়ও রাষ্ট্রের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে। জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতকে অগ্রাহ্য করা কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের কাজ হতে পারে না। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে ক্ষমতায় টিকে থাকার সংস্কৃতি অতীতে বাংলাদেশে বারবার রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে জানিয়ে তিনি বর্তমান সরকারকে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা দেশবাসী বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে আবারও হতাশ হচ্ছে। তার অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার যে ধরনের রাজনৈতিক আচরণ ও বিরোধী মত দমনের সংস্কৃতি অনুসরণ করেছিল, বিএনপিও ধীরে ধীরে সেই একই পথে হাঁটছে। ক্ষমতায় আসার আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে জনগণ তার জবাব দেবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে নির্বাচন, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের আস্থা অর্জনের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ, বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতির সংকটে থাকা মানুষ রাজনৈতিক সংঘাত নয়, বরং একটি জবাবদিহিমূলক কল্যাণমুখী রাষ্ট্র চায়। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি সংসদে জনগণের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেন এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভার শেষে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও কর্তৃত্ববাদী মনোভাব থেকে বেরিয়ে এসে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় বাসা ভাড়া নিয়ে জাল নোটের কারবার, আটক ১

রাষ্ট্রপতি চুপ্পুকে অনেক আগেই বিদায় করা উচিত ছিল: এটিএম আজহার

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে অনেক আগেই বিদায় করা উচিত ছিল। তিনি মন্তব্য করেন, তাকে এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদে রাখা বিএনপির জন্য একটি বড় ভুল এবং তারা পদে পদে এর খেসারত দেবে। আজহারুল ইসলাম বলেন, এই রাষ্ট্রপতি সরাসরি জুলাই-বিরোধী এবং খুনি হাসিনার দোসর। তাই তাকে দ্রুত সাংবিধানিক পদ থেকে অপসারণ করে আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থেকে সাংবিধানিক দায়িত্ব ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হলে কোনো পদই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না।

বৃহস্পতিবার রংপুরের বদরগঞ্জে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের আর কোনো গড়িমসি করার সুযোগ নেই। জনগণের রায় উপেক্ষা করে দেশ পরিচালনা করলে সরকারকে তার রাজনৈতিক পরিণতি বহন করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকর করা না হলে জাতীয় সংসদের ভেতরে সাংবিধানিকভাবে এবং সংসদের বাইরে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, দেশের জনগণ ভোটের মাধ্যমে সরকার নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের মাধ্যমে দেওয়া রায়ও রাষ্ট্রের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে। জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতকে অগ্রাহ্য করা কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের কাজ হতে পারে না। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে ক্ষমতায় টিকে থাকার সংস্কৃতি অতীতে বাংলাদেশে বারবার রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে জানিয়ে তিনি বর্তমান সরকারকে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করা দেশবাসী বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে আবারও হতাশ হচ্ছে। তার অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার যে ধরনের রাজনৈতিক আচরণ ও বিরোধী মত দমনের সংস্কৃতি অনুসরণ করেছিল, বিএনপিও ধীরে ধীরে সেই একই পথে হাঁটছে। ক্ষমতায় আসার আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে জনগণ তার জবাব দেবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে নির্বাচন, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের আস্থা অর্জনের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ, বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতির সংকটে থাকা মানুষ রাজনৈতিক সংঘাত নয়, বরং একটি জবাবদিহিমূলক কল্যাণমুখী রাষ্ট্র চায়। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি সংসদে জনগণের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেন এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভার শেষে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও কর্তৃত্ববাদী মনোভাব থেকে বেরিয়ে এসে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।