লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদকের জোয়ারে ভাসছে বদরগঞ্জ, ধরা পড়ে চুনোপুঁটি, অধরা রাঘববোয়াল

রংপুর জেলার বদরগঞ্জ পৌর শহরসহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল এখন মাদকের ভয়াবহ জোয়ারে ভাসছে। এলাকায় মাদক কারবারি ও সেবনকারীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই অবৈধ কারবার পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালু লুটেরা সবুজ সোনার মেম্বার এবং মাদক ব্যবসায়ী ইলিয়াস আলী প্রকাশ্যে এই মাদক ব্যবসার কলকাঠি নাড়ছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বদরগঞ্জ উপজেলায় মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা দেড় শতাধিক। তবে মাদকসেবীর সংখ্যা নারী, পুরুষ ও যুবক-যুবতীসহ সব মিলিয়ে ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সহজলভ্য হওয়ায় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নাগেরহাট বন্দরটি তিনটি উপজেলার সীমান্ত জোন হওয়ায় এটি মাদক কেনাবেচার প্রধান স্পটে পরিণত হয়েছে। এছাড়া রাধানগর ইউনিয়নের শালপাড়া এলাকার জুলফিকার আলী, তার স্ত্রী ও ছোট বোন কুমিল্লা থেকে মাদকের চালান আনেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন অভিযোগ করেছেন ওই গ্রামের আনিছুল হক, রফিকুল মিয়া ও ফজলুল হকসহ অনেকে।

নাগেরহাট বাজারের ব্যবসায়ী আতিকুর, মাহফুজ ও দিপু জানান, বন্দরটি মাদক কেনাবেচার প্রধান স্পট হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে মাদক কারবারি ও সেবীদের আনাগোনায় এলাকাটি অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এখানে মাদক কেনাবেচা ওপেন সিক্রেট হলেও পুলিশকে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। নাগেরহাটের পূর্ব দিকে শাহিন ও তার স্ত্রী লায়লা বেগমসহ কয়েকজন নারী দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করছেন। একই এলাকার ইয়াবা ও ফেনসিডিল ব্যবসার ডন এলাহী বকসের বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা থাকলেও তার পার্টনার মোতালেব ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া ইলিয়াস আলী গরুর ওষুধের ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা ও ফেনসিডিল বিক্রি করেন, যার বিরুদ্ধে বদরগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী থানায় ৯টির বেশি মাদক মামলা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিক্রেতা জানান, কুতুবপুর ডাংগলপাড়ার সাজেদুল, সাইদার রহমান, বাগানপাড়ার ইলিয়াস আলী এবং নয়াপাড়ার মোতালেব ইয়াবা, ফেনসিডিল ও হেরোইন পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অবৈধ মাদকের হোতাদের কোনোদিন স্পর্শ করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অনেক সময় পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা এসে মাদক বিক্রেতাদের সঙ্গে দেখা করে ‘খুশি’ হয়ে ফিরে যান। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে এলাকাটি মাদক কারবারিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এছাড়া রাধানগর ইউপির জুলফিকার আলী, সেলিনা ও মুকুল চন্দ্র, কুতুবপুর ইউপির সাজেদুল রহমান, সাইদার রহমান, শাহিন, রোস্তম অটো চুরির পাশাপাশি মাদক ব্যবসায় জড়িত। তাদের সহযোগী হিসেবে কৃষ্ণনগরের মুকুল মিয়া, লোহানীপাড়ার মশিয়ার রহমান, ওহিদুল এবং মোছলমারীর রুবেলসহ অনেকে কাজ করেন। এসব কারবারি ইউপি সদস্য মাহবুবার রহমানের আশীর্বাদপুষ্ট।

এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার জানান, রেজিস্টার না দেখে মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের সঠিক পরিসংখ্যান বলা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রংপুরের উপপরিচালক আবু জাফর জানান, শুধুমাত্র রংপুর শহরে অফিস থাকায় উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করা কঠিন। এছাড়া জনবল ও যানবাহন সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তা সত্ত্বেও তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন। এদিকে অভিযুক্ত সবুজ মেম্বার ও ইলিয়াস আলী বালু ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও মাদক ব্যবসার সাথে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিটি করপোরেশন হচ্ছে কক্সবাজার, শুরু হলো প্রশাসনিক কার্যক্রম

মাদকের জোয়ারে ভাসছে বদরগঞ্জ, ধরা পড়ে চুনোপুঁটি, অধরা রাঘববোয়াল

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৫৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

রংপুর জেলার বদরগঞ্জ পৌর শহরসহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল এখন মাদকের ভয়াবহ জোয়ারে ভাসছে। এলাকায় মাদক কারবারি ও সেবনকারীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই অবৈধ কারবার পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বালু লুটেরা সবুজ সোনার মেম্বার এবং মাদক ব্যবসায়ী ইলিয়াস আলী প্রকাশ্যে এই মাদক ব্যবসার কলকাঠি নাড়ছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বদরগঞ্জ উপজেলায় মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা দেড় শতাধিক। তবে মাদকসেবীর সংখ্যা নারী, পুরুষ ও যুবক-যুবতীসহ সব মিলিয়ে ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সহজলভ্য হওয়ায় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নাগেরহাট বন্দরটি তিনটি উপজেলার সীমান্ত জোন হওয়ায় এটি মাদক কেনাবেচার প্রধান স্পটে পরিণত হয়েছে। এছাড়া রাধানগর ইউনিয়নের শালপাড়া এলাকার জুলফিকার আলী, তার স্ত্রী ও ছোট বোন কুমিল্লা থেকে মাদকের চালান আনেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন অভিযোগ করেছেন ওই গ্রামের আনিছুল হক, রফিকুল মিয়া ও ফজলুল হকসহ অনেকে।

নাগেরহাট বাজারের ব্যবসায়ী আতিকুর, মাহফুজ ও দিপু জানান, বন্দরটি মাদক কেনাবেচার প্রধান স্পট হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে মাদক কারবারি ও সেবীদের আনাগোনায় এলাকাটি অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এখানে মাদক কেনাবেচা ওপেন সিক্রেট হলেও পুলিশকে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। নাগেরহাটের পূর্ব দিকে শাহিন ও তার স্ত্রী লায়লা বেগমসহ কয়েকজন নারী দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করছেন। একই এলাকার ইয়াবা ও ফেনসিডিল ব্যবসার ডন এলাহী বকসের বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা থাকলেও তার পার্টনার মোতালেব ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া ইলিয়াস আলী গরুর ওষুধের ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা ও ফেনসিডিল বিক্রি করেন, যার বিরুদ্ধে বদরগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী থানায় ৯টির বেশি মাদক মামলা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বিক্রেতা জানান, কুতুবপুর ডাংগলপাড়ার সাজেদুল, সাইদার রহমান, বাগানপাড়ার ইলিয়াস আলী এবং নয়াপাড়ার মোতালেব ইয়াবা, ফেনসিডিল ও হেরোইন পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অবৈধ মাদকের হোতাদের কোনোদিন স্পর্শ করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অনেক সময় পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা এসে মাদক বিক্রেতাদের সঙ্গে দেখা করে ‘খুশি’ হয়ে ফিরে যান। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে এলাকাটি মাদক কারবারিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এছাড়া রাধানগর ইউপির জুলফিকার আলী, সেলিনা ও মুকুল চন্দ্র, কুতুবপুর ইউপির সাজেদুল রহমান, সাইদার রহমান, শাহিন, রোস্তম অটো চুরির পাশাপাশি মাদক ব্যবসায় জড়িত। তাদের সহযোগী হিসেবে কৃষ্ণনগরের মুকুল মিয়া, লোহানীপাড়ার মশিয়ার রহমান, ওহিদুল এবং মোছলমারীর রুবেলসহ অনেকে কাজ করেন। এসব কারবারি ইউপি সদস্য মাহবুবার রহমানের আশীর্বাদপুষ্ট।

এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার জানান, রেজিস্টার না দেখে মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের সঠিক পরিসংখ্যান বলা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর রংপুরের উপপরিচালক আবু জাফর জানান, শুধুমাত্র রংপুর শহরে অফিস থাকায় উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করা কঠিন। এছাড়া জনবল ও যানবাহন সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তা সত্ত্বেও তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন। এদিকে অভিযুক্ত সবুজ মেম্বার ও ইলিয়াস আলী বালু ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও মাদক ব্যবসার সাথে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন।