লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বন্যার পানিতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এর ফলে টানা তৃতীয় দিনের মতো বান্দরবান-চট্টগ্রাম ও বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে, যার ফলে জেলার সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল জানিয়েছেন যে বৃষ্টির তীব্রতা বর্তমানে কিছুটা কমেছে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টির ফলে জেলার সাতটি উপজেলায় বন্যা ও পাহাড়ি ঢল দেখা দিয়েছে। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দুর্গতদের সহায়তায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাইক্লোন শেল্টারে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তবে অনেকেই সরকারি কেন্দ্রের পাশাপাশি নিকটস্থ বিভিন্ন ভবন ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যার ফলে নদীতীরবর্তী কয়েকশ ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে।

টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে পাহাড়ি বসতিগুলো খালি করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ সম্মিলিতভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে কাজ করছে।

বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম মঞ্জুরুল হক বলেন, বন্যা পরিস্থিতির অবনতির ফলে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র ও অন্যান্য স্থানে অবস্থান নেওয়া দুর্গতদের মাঝে নিয়মিত শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশাসন দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে বুধবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক এনসিপির

বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বন্যার পানিতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এর ফলে টানা তৃতীয় দিনের মতো বান্দরবান-চট্টগ্রাম ও বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে, যার ফলে জেলার সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল জানিয়েছেন যে বৃষ্টির তীব্রতা বর্তমানে কিছুটা কমেছে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টির ফলে জেলার সাতটি উপজেলায় বন্যা ও পাহাড়ি ঢল দেখা দিয়েছে। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। দুর্গতদের সহায়তায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাইক্লোন শেল্টারে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তবে অনেকেই সরকারি কেন্দ্রের পাশাপাশি নিকটস্থ বিভিন্ন ভবন ও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যার ফলে নদীতীরবর্তী কয়েকশ ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে।

টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। ঝুঁকি এড়াতে পাহাড়ি বসতিগুলো খালি করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ সম্মিলিতভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে কাজ করছে।

বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম মঞ্জুরুল হক বলেন, বন্যা পরিস্থিতির অবনতির ফলে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র ও অন্যান্য স্থানে অবস্থান নেওয়া দুর্গতদের মাঝে নিয়মিত শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশাসন দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাতায়াত না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।