লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘরের মাঠে সাফের শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশনে ফেভারিট বাংলাদেশ

ঘরের মাঠে প্রায় ১৪ বছরের ব্যবধান কাটিয়ে আবারও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরার বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের সামনে। ২০০৩ সালে সর্বশেষ এই ট্রফি জিতেছিল বাংলাদেশ, যার পর পার হয়ে গেছে আরও ৯টি আসর। আগামী ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া সাফের ১৫তম আসরে মাঠের লড়াই, অভিজ্ঞতা ও দলগত সামর্থ্যে স্বাগতিকদেরই সবার চেয়ে এগিয়ে রাখছেন ফুটবল বোদ্ধারা।

এবারের সাফে অংশ নিচ্ছে মোট ছয়টি দেশ—বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। ২০২৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত সবশেষ আসরে আটটি দল খেলেছিল, যেখানে আমন্ত্রিত দল হিসেবে কুয়েত ও লেবানন অংশ নেয় এবং কুয়েতকে হারিয়ে ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তবে এবার ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারছে না শক্তিশালী নেপাল। এছাড়া ভারত তাদের সিনিয়র জাতীয় দল না পাঠিয়ে অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠাচ্ছে। অংশগ্রহণকারী বাকি দলগুলোর মধ্যে ভুটান ও মালদ্বীপে প্রবাসী ফুটবলারদের উপস্থিতি কম হলেও শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান বেশ চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা একাদশের ১১ জনের মধ্যে ৯ জনই বংশোদ্ভূত, যারা অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, নরওয়ে, সুইডেন ও ইংল্যান্ডের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন। অন্যদিকে পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন ফুটবলার ইউরোপের লিগে নিয়মিত খেলে থাকেন।

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থান তৈরির মূলে রয়েছে হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, জায়ান আহমেদ, সুকি, ইতোফুসা ও ফাহামিদুল ইসলামের মতো অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান প্রবাসী খেলোয়াড়দের সংযুক্তি। একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে আটটি সাফে অংশ নেওয়া জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্যের মতে, এবার শিরোপা জয়ের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। তিনি জানান, ঘরের মাঠের সুবিধা, ভারতের জাতীয় দল না থাকা এবং নেপালের অনুপস্থিতির কারণে বাংলাদেশ অনেকটাই চাপমুক্ত থেকে ফাইনাল খেলার দাবি রাখে। বাংলাদেশকে মূল চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। তবে সম্প্রতি আসিয়ান কাপের তিন ম্যাচে থমাস ডুলির অধীনে বাংলাদেশ ১৩টি গোল হজম করার ঘটনাকে কেবল গোলরক্ষকের ভুল না বলে পুরো দলের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন বিপ্লব। তিনি মনে করেন, খেলোয়াড়দের মানসিক সমর্থন দেওয়া গেলে গোলরক্ষকরা সাফে তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবেন।

২০০৩ সালের সাফজয়ী স্ট্রাইকার আলফাজ আহমেদও মনে করেন বাংলাদেশই এবারের টুর্নামেন্টের সেরা দল এবং বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের উপস্থিতি থাকায় শিরোপা না পাওয়াটা বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য হবে। তবে সাফল্য অর্জনে প্রধান কোচ থমাস ডুলির কৌশল, পরিকল্পনা ও একাদশ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আলফাজ আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে দল ভোগানো 'নাম্বার নাইন' বা আক্রমণভাগের দুর্বলতা কাটানোই হবে বড় পরীক্ষা। উইং থেকে সঠিক বল সরবরাহ পেলে এবং অ্যাটাকিং থার্ডে টাইমিং ঠিক থাকলে সুকি ও ফারহানরা কার্যকর ভূমিকা রেখে গোল করতে সক্ষম হবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন

ঘরের মাঠে সাফের শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশনে ফেভারিট বাংলাদেশ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ঘরের মাঠে প্রায় ১৪ বছরের ব্যবধান কাটিয়ে আবারও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরার বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের সামনে। ২০০৩ সালে সর্বশেষ এই ট্রফি জিতেছিল বাংলাদেশ, যার পর পার হয়ে গেছে আরও ৯টি আসর। আগামী ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া সাফের ১৫তম আসরে মাঠের লড়াই, অভিজ্ঞতা ও দলগত সামর্থ্যে স্বাগতিকদেরই সবার চেয়ে এগিয়ে রাখছেন ফুটবল বোদ্ধারা।

এবারের সাফে অংশ নিচ্ছে মোট ছয়টি দেশ—বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। ২০২৩ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত সবশেষ আসরে আটটি দল খেলেছিল, যেখানে আমন্ত্রিত দল হিসেবে কুয়েত ও লেবানন অংশ নেয় এবং কুয়েতকে হারিয়ে ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তবে এবার ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারছে না শক্তিশালী নেপাল। এছাড়া ভারত তাদের সিনিয়র জাতীয় দল না পাঠিয়ে অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠাচ্ছে। অংশগ্রহণকারী বাকি দলগুলোর মধ্যে ভুটান ও মালদ্বীপে প্রবাসী ফুটবলারদের উপস্থিতি কম হলেও শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান বেশ চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা একাদশের ১১ জনের মধ্যে ৯ জনই বংশোদ্ভূত, যারা অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, নরওয়ে, সুইডেন ও ইংল্যান্ডের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেন। অন্যদিকে পাকিস্তানের বেশ কয়েকজন ফুটবলার ইউরোপের লিগে নিয়মিত খেলে থাকেন।

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থান তৈরির মূলে রয়েছে হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, জায়ান আহমেদ, সুকি, ইতোফুসা ও ফাহামিদুল ইসলামের মতো অভিজ্ঞ ও প্রতিভাবান প্রবাসী খেলোয়াড়দের সংযুক্তি। একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে বাংলাদেশের হয়ে আটটি সাফে অংশ নেওয়া জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্যের মতে, এবার শিরোপা জয়ের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। তিনি জানান, ঘরের মাঠের সুবিধা, ভারতের জাতীয় দল না থাকা এবং নেপালের অনুপস্থিতির কারণে বাংলাদেশ অনেকটাই চাপমুক্ত থেকে ফাইনাল খেলার দাবি রাখে। বাংলাদেশকে মূল চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। তবে সম্প্রতি আসিয়ান কাপের তিন ম্যাচে থমাস ডুলির অধীনে বাংলাদেশ ১৩টি গোল হজম করার ঘটনাকে কেবল গোলরক্ষকের ভুল না বলে পুরো দলের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন বিপ্লব। তিনি মনে করেন, খেলোয়াড়দের মানসিক সমর্থন দেওয়া গেলে গোলরক্ষকরা সাফে তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবেন।

২০০৩ সালের সাফজয়ী স্ট্রাইকার আলফাজ আহমেদও মনে করেন বাংলাদেশই এবারের টুর্নামেন্টের সেরা দল এবং বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের উপস্থিতি থাকায় শিরোপা না পাওয়াটা বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য হবে। তবে সাফল্য অর্জনে প্রধান কোচ থমাস ডুলির কৌশল, পরিকল্পনা ও একাদশ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আলফাজ আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে দল ভোগানো 'নাম্বার নাইন' বা আক্রমণভাগের দুর্বলতা কাটানোই হবে বড় পরীক্ষা। উইং থেকে সঠিক বল সরবরাহ পেলে এবং অ্যাটাকিং থার্ডে টাইমিং ঠিক থাকলে সুকি ও ফারহানরা কার্যকর ভূমিকা রেখে গোল করতে সক্ষম হবেন।