লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভুটান সীমান্তে এক দিনে ১০৮ বৌদ্ধ প্যাগোডা নির্মাণ

ভারতের সীমান্তঘেঁষা এলাকায় এক দিনে ১০৮টি বৌদ্ধ প্যাগোডা নির্মাণ করেছে ভুটান। রোববার দেশটির ৪০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবী এই স্থাপনাগুলো নির্মাণে অংশ নেন। ভুটানের নতুন ‘মাইন্ডফুলনেস’ শহর গড়ে তোলার জায়গায় নদীর তীর ধরে ১২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্যাগোডাগুলো স্থাপন করা হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর উচ্চাভিলাষী এই শহর প্রকল্পের সঙ্গে ধর্মীয় ঐতিহ্যকে যুক্ত করতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি প্যাগোডার উচ্চতা প্রায় ১৫ মিটার বা ৫০ ফুটের মতো। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যরাতের পর কাজ শুরু করে ৪০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবী এসব স্থাপনা তৈরিতে অংশ নেন। তাদের ভাষ্যমতে, এগুলো পাথর ও মাটিতে স্থায়ী রূপ পাওয়া প্রার্থনার প্রতীক। বৌদ্ধধর্মে ১০৮ সংখ্যাটিকে পবিত্র হিসেবে গণ্য করা হয় এবং ভুটানে এই ধর্ম ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

এই আয়োজনে দেশটির প্রায় দুই লাখ মানুষ অংশ নেন, যা ভুটানের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক বলেন, ‘এক দিনে ১০৮টি প্যাগোডা নির্মাণের উদ্যোগ সফল হবে কি না, তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন ছিলাম। কিন্তু সবকিছু সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।’

রাজার পরিকল্পনায় এবং ডেনমার্কের স্থপতিদের নকশায় গড়ে উঠছে গেলে ফু মাইন্ডফুলনেস সিটি। ভুটানের নেতারা আশা করছেন, এই শহর দেশের অর্থনীতিকে চাঙা করবে এবং তরুণদের দেশেই থাকার ব্যাপারে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি টেকসই ব্যবসা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, শিক্ষা, পর্যটন ও আর্থিক সেবা খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করাও এ প্রকল্পের লক্ষ্য। ভুটান বর্তমানে বেকারত্ব বৃদ্ধি, জন্মহার কমে যাওয়া এবং দক্ষ কর্মীদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার মতো অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

দক্ষিণ ভুটানে ভারতের সীমান্তঘেঁষা এলাকায় শহরটি গড়ে তোলা হচ্ছে, যা বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাসের একটি ছোট শহর। রাজধানী থিম্পু থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২৪০ কিলোমিটার। ২০২৪ সালে রাজকীয় সনদের মাধ্যমে রাজা এই বিশেষ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্লেষকেরা বিনিয়োগ আকর্ষণের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, ভারতের ধনকুবের গৌতম আদানি এতে যুক্ত হয়েছেন। জানুয়ারিতে তিনি প্রকল্পটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হন। প্রকল্প এলাকাটি ভারতের আসাম রাজ্যের রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং ২০২৯ সালে সেখানে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া জলবিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিটকয়েন উৎপাদনের পাশাপাশি শহরটির উন্নয়নে ডিজিটাল সম্পদ ব্যবহারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ভুটান।

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টায় কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

ভুটান সীমান্তে এক দিনে ১০৮ বৌদ্ধ প্যাগোডা নির্মাণ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩২:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

ভারতের সীমান্তঘেঁষা এলাকায় এক দিনে ১০৮টি বৌদ্ধ প্যাগোডা নির্মাণ করেছে ভুটান। রোববার দেশটির ৪০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবী এই স্থাপনাগুলো নির্মাণে অংশ নেন। ভুটানের নতুন ‘মাইন্ডফুলনেস’ শহর গড়ে তোলার জায়গায় নদীর তীর ধরে ১২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্যাগোডাগুলো স্থাপন করা হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর উচ্চাভিলাষী এই শহর প্রকল্পের সঙ্গে ধর্মীয় ঐতিহ্যকে যুক্ত করতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি প্যাগোডার উচ্চতা প্রায় ১৫ মিটার বা ৫০ ফুটের মতো। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যরাতের পর কাজ শুরু করে ৪০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবী এসব স্থাপনা তৈরিতে অংশ নেন। তাদের ভাষ্যমতে, এগুলো পাথর ও মাটিতে স্থায়ী রূপ পাওয়া প্রার্থনার প্রতীক। বৌদ্ধধর্মে ১০৮ সংখ্যাটিকে পবিত্র হিসেবে গণ্য করা হয় এবং ভুটানে এই ধর্ম ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

এই আয়োজনে দেশটির প্রায় দুই লাখ মানুষ অংশ নেন, যা ভুটানের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ। অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক বলেন, ‘এক দিনে ১০৮টি প্যাগোডা নির্মাণের উদ্যোগ সফল হবে কি না, তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন ছিলাম। কিন্তু সবকিছু সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।’

রাজার পরিকল্পনায় এবং ডেনমার্কের স্থপতিদের নকশায় গড়ে উঠছে গেলে ফু মাইন্ডফুলনেস সিটি। ভুটানের নেতারা আশা করছেন, এই শহর দেশের অর্থনীতিকে চাঙা করবে এবং তরুণদের দেশেই থাকার ব্যাপারে উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি টেকসই ব্যবসা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, শিক্ষা, পর্যটন ও আর্থিক সেবা খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ করাও এ প্রকল্পের লক্ষ্য। ভুটান বর্তমানে বেকারত্ব বৃদ্ধি, জন্মহার কমে যাওয়া এবং দক্ষ কর্মীদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার মতো অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

দক্ষিণ ভুটানে ভারতের সীমান্তঘেঁষা এলাকায় শহরটি গড়ে তোলা হচ্ছে, যা বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাসের একটি ছোট শহর। রাজধানী থিম্পু থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২৪০ কিলোমিটার। ২০২৪ সালে রাজকীয় সনদের মাধ্যমে রাজা এই বিশেষ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্লেষকেরা বিনিয়োগ আকর্ষণের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, ভারতের ধনকুবের গৌতম আদানি এতে যুক্ত হয়েছেন। জানুয়ারিতে তিনি প্রকল্পটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হন। প্রকল্প এলাকাটি ভারতের আসাম রাজ্যের রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং ২০২৯ সালে সেখানে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া জলবিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিটকয়েন উৎপাদনের পাশাপাশি শহরটির উন্নয়নে ডিজিটাল সম্পদ ব্যবহারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ভুটান।