লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি জাতীয় মুনাফেক ও বেইমানের দল: রাবি শিবির সেক্রেটারি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান বিএনপিকে ‘জাতীয় মুনাফেক ও বেইমানের দল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।

সমাবেশে মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের ম্যান্ডেট ও গণভোটের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছে। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল—একটি জনগণের ম্যান্ডেট ও প্রত্যাশা নিয়ে গণভোট, অন্যটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সরকার ৪৯ শতাংশ ভোট নিয়ে ক্ষমতায় এলেও ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায়ের প্রতি সম্মান দেখায়নি, যা জাতির সঙ্গে বেইমানি। তিনি দাবি করেন, ১৯৯৫ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনরত রাজনৈতিক দলগুলোর মন্ত্রীরা যখন নিরপেক্ষ ব্যবস্থাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছিলেন, তখন জনগণের তোপের মুখে তাদের পদত্যাগ করতে হয়েছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিএনপি বর্তমানে দেশের বাইরে গিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের রায় মেনে না নিলে ছাত্রশিবির আপামর জনতাকে সঙ্গে নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে এবং প্রয়োজনে বিচার নিশ্চিত করতে রাজপথে শহীদ হতেও প্রস্তুত থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বিজয়-২৪ হল, বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়াম, বিভিন্ন আবাসিক হল এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জোহা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। কর্মসূচিতে সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় তারা “জুলাই সনদ মেনে নে, নইলে গদি ছাইড়া দে”, “একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর”, “আলী-রায়হান-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ”, “চান্দা লাগলে চান্দা নে, জুলাই সনদ মাইনা নে”, “গণভোটের গণরায়, মানতে হবে, মেনে নাও”, “লীগ ধর, জেলে ভর” এবং “আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে?”—এমনসব স্লোগান দিতে থাকেন।

বিক্ষোভ-পরবর্তী সমাবেশে রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীবের সঞ্চালনায় সংগঠনটির অফিস সম্পাদক শামীম পাটোয়ারী বলেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্রসমাজ শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে বিদায় করেছিল। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষেই আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলাম। মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার মাধ্যমে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চেয়েছে। কিন্তু বিএনপি সরকারের মুনাফেকি চরিত্র দেখা যাচ্ছে। যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধান মানতেন, তাহলে তিনি এখন শিলংয়ে থাকতেন আর তারেক রহমান লন্ডনে থাকতেন। বিএনপিকে জুলাই সনদের দাবি মেনে নিতেই হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশের যানবাহনে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

বিএনপি জাতীয় মুনাফেক ও বেইমানের দল: রাবি শিবির সেক্রেটারি

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান বিএনপিকে ‘জাতীয় মুনাফেক ও বেইমানের দল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।

সমাবেশে মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের ম্যান্ডেট ও গণভোটের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছে। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল—একটি জনগণের ম্যান্ডেট ও প্রত্যাশা নিয়ে গণভোট, অন্যটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সরকার ৪৯ শতাংশ ভোট নিয়ে ক্ষমতায় এলেও ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায়ের প্রতি সম্মান দেখায়নি, যা জাতির সঙ্গে বেইমানি। তিনি দাবি করেন, ১৯৯৫ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনরত রাজনৈতিক দলগুলোর মন্ত্রীরা যখন নিরপেক্ষ ব্যবস্থাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছিলেন, তখন জনগণের তোপের মুখে তাদের পদত্যাগ করতে হয়েছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিএনপি বর্তমানে দেশের বাইরে গিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের রায় মেনে না নিলে ছাত্রশিবির আপামর জনতাকে সঙ্গে নিয়ে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে এবং প্রয়োজনে বিচার নিশ্চিত করতে রাজপথে শহীদ হতেও প্রস্তুত থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বিজয়-২৪ হল, বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়াম, বিভিন্ন আবাসিক হল এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জোহা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। কর্মসূচিতে সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় তারা “জুলাই সনদ মেনে নে, নইলে গদি ছাইড়া দে”, “একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর”, “আলী-রায়হান-মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ”, “চান্দা লাগলে চান্দা নে, জুলাই সনদ মাইনা নে”, “গণভোটের গণরায়, মানতে হবে, মেনে নাও”, “লীগ ধর, জেলে ভর” এবং “আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে?”—এমনসব স্লোগান দিতে থাকেন।

বিক্ষোভ-পরবর্তী সমাবেশে রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীবের সঞ্চালনায় সংগঠনটির অফিস সম্পাদক শামীম পাটোয়ারী বলেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্রসমাজ শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে বিদায় করেছিল। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষেই আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলাম। মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার মাধ্যমে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চেয়েছে। কিন্তু বিএনপি সরকারের মুনাফেকি চরিত্র দেখা যাচ্ছে। যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধান মানতেন, তাহলে তিনি এখন শিলংয়ে থাকতেন আর তারেক রহমান লন্ডনে থাকতেন। বিএনপিকে জুলাই সনদের দাবি মেনে নিতেই হবে।