লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে আহ্বান বিএসইসি চেয়ারম্যানের

বাংলাদেশে ব্যবসা করা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেন, কোম্পানিগুলো স্বতঃপ্রণোদিতভাবে না এলে জনস্বার্থে আইন প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশে সক্রিয় বহুজাতিক ও বড় দেশীয় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। শুক্রবার ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) সদস্যদের জন্য আয়োজিত ‘ক্যাপিটাল মার্কেট প্রোডাক্ট অ্যান্ড রুলস’ বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ভালো কোম্পানিগুলোকে দ্রুত পুঁজিবাজারে আনা না গেলে বাজারের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

মাসুদ খান বলেন, এসব কোম্পানিকে প্রথমে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পুঁজিবাজারে আসার জন্য উৎসাহিত করা হবে। তবে তারা না এলে জনস্বার্থে আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগও কমিশনের হাতে রয়েছে। তিনি জানান, বিএসইসি আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে কয়েকটি বড় ও ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনার চেষ্টা করবে। আইন প্রয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে আসেন। তবে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে না এলে সেটার অস্ত্রও আমাদের হাতে আছে।’ তিনি জানান, ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানি-পিআইসি’র সংজ্ঞা নির্ধারণের মাধ্যমে সিকিউরিটিজ আইনের ক্ষমতা প্রয়োগ করে নির্দিষ্ট কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে।

তালিকাভুক্ত হওয়ার সুবিধা তুলে ধরে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, করপোরেট ইমেজ বৃদ্ধির পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য নির্ধারিত হয়, যা ব্যবহার করে অন্য প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ বা একীভূত করা সম্ভব। এছাড়া পারিবারিক ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রজন্ম পরিবর্তনের সময় মালিকদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে অংশীদারদের সহজে ব্যবসা থেকে বের হওয়ার সুযোগ দেয়।

বড় কোম্পানিকে বাজারে আনতে সরাসরি তালিকাভুক্তি ও হাইব্রিড পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান। প্রচলিত আইপিও প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন মূলধন সংগ্রহ ও বিদ্যমান শেয়ার সরাসরি তালিকাভুক্ত করার সমন্বয়ে একটি হাইব্রিড ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘এক্সটেন্ডেড অডিট’ চালুর কথা জানান তিনি। এর মাধ্যমে আর্থিক বিবরণীর পাশাপাশি কোম্পানির জমি, যন্ত্রপাতি, মজুতপণ্য ও পাওনা সংক্রান্ত তথ্যের বাস্তবতা যাচাই করা হবে।

পুঁজিবাজারের স্থায়িত্বের বিষয়ে মাসুদ খান বলেন, বাজার মূলত সাধারণ বিনিয়োগকারী-নির্ভর, যা পরিবর্তন করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। প্রভিডেন্ট ফান্ড ও অন্যান্য তহবিলের অর্থ শেয়ারবাজারের পাশাপাশি করপোরেট বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক সূচক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এমএসসিআই বাংলাদেশকে নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা প্রত্যাহারের পথে রয়েছে এবং নভেম্বর ২০২৬ থেকে নিয়মিত পর্যালোচনা শুরু হবে। এছাড়া ডিএসইকে ক্ষমতায়ন, আধুনিক তদারকি ব্যবস্থা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সার্ভেইলেন্স চালু এবং বন্ড বাজারের উন্নয়নে মূল বোর্ডে তালিকাভুক্তির ফি কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বরমীর শতবর্ষী তুন্দুল রুটির স্বাদে জমে ওঠে রুটি মহল

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে আহ্বান বিএসইসি চেয়ারম্যানের

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে সক্রিয় বহুজাতিক ও বড় দেশীয় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। শুক্রবার ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) সদস্যদের জন্য আয়োজিত ‘ক্যাপিটাল মার্কেট প্রোডাক্ট অ্যান্ড রুলস’ বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ভালো কোম্পানিগুলোকে দ্রুত পুঁজিবাজারে আনা না গেলে বাজারের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব নয়।

মাসুদ খান বলেন, এসব কোম্পানিকে প্রথমে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পুঁজিবাজারে আসার জন্য উৎসাহিত করা হবে। তবে তারা না এলে জনস্বার্থে আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগও কমিশনের হাতে রয়েছে। তিনি জানান, বিএসইসি আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে কয়েকটি বড় ও ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনার চেষ্টা করবে। আইন প্রয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে আসেন। তবে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে না এলে সেটার অস্ত্রও আমাদের হাতে আছে।’ তিনি জানান, ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানি-পিআইসি’র সংজ্ঞা নির্ধারণের মাধ্যমে সিকিউরিটিজ আইনের ক্ষমতা প্রয়োগ করে নির্দিষ্ট কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে।

তালিকাভুক্ত হওয়ার সুবিধা তুলে ধরে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, করপোরেট ইমেজ বৃদ্ধির পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য নির্ধারিত হয়, যা ব্যবহার করে অন্য প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ বা একীভূত করা সম্ভব। এছাড়া পারিবারিক ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রজন্ম পরিবর্তনের সময় মালিকদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে অংশীদারদের সহজে ব্যবসা থেকে বের হওয়ার সুযোগ দেয়।

বড় কোম্পানিকে বাজারে আনতে সরাসরি তালিকাভুক্তি ও হাইব্রিড পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান। প্রচলিত আইপিও প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন মূলধন সংগ্রহ ও বিদ্যমান শেয়ার সরাসরি তালিকাভুক্ত করার সমন্বয়ে একটি হাইব্রিড ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘এক্সটেন্ডেড অডিট’ চালুর কথা জানান তিনি। এর মাধ্যমে আর্থিক বিবরণীর পাশাপাশি কোম্পানির জমি, যন্ত্রপাতি, মজুতপণ্য ও পাওনা সংক্রান্ত তথ্যের বাস্তবতা যাচাই করা হবে।

পুঁজিবাজারের স্থায়িত্বের বিষয়ে মাসুদ খান বলেন, বাজার মূলত সাধারণ বিনিয়োগকারী-নির্ভর, যা পরিবর্তন করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। প্রভিডেন্ট ফান্ড ও অন্যান্য তহবিলের অর্থ শেয়ারবাজারের পাশাপাশি করপোরেট বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক সূচক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এমএসসিআই বাংলাদেশকে নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা প্রত্যাহারের পথে রয়েছে এবং নভেম্বর ২০২৬ থেকে নিয়মিত পর্যালোচনা শুরু হবে। এছাড়া ডিএসইকে ক্ষমতায়ন, আধুনিক তদারকি ব্যবস্থা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সার্ভেইলেন্স চালু এবং বন্ড বাজারের উন্নয়নে মূল বোর্ডে তালিকাভুক্তির ফি কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।