লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিমের হালি ৫৫ টাকা, বাজারে মাছ ও সবজির দাম লাগামহীন

রাজধানীর কাঁচাবাজারে ডিমের দাম বেড়ে প্রতি পিস ১৪ টাকা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় সব ধরনের মাছ ও সবজির দামও নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের চরম বিপাকে ফেলেছে।

রাজধানীর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্বস্তি মিলছে না সাধারণ ক্রেতাদের। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম আরও বৃদ্ধি পেয়ে এখন প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ১৪ টাকায়। এর পাশাপাশি মাছ এবং বিভিন্ন ধরনের সবজির দামও নতুন করে বেড়েছে। বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে গরুর মাংস এবং মুরগির দাম আগের মতোই প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকায় এবং হালি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। আগে এক ডজন ডিম কিনলে বিক্রেতারা কিছুটা ছাড় দিলেও এখন আর সেই সুযোগ থাকছে না। ডিম বিক্রেতা রাজিব হোসেন বলেন, ডিমের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে, কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস আগের মতোই প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সবজির বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পেঁপে বাদে প্রায় সব সবজিই উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে, যার প্রতি কেজির দাম ৪০ টাকা। বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ অধিকাংশ সাধারণ সবজি প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে আসা শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। এছাড়া লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা, টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, ঝিঙে ও করলা ৮০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি লাউয়ের দাম ৫০ থেকে ৭০ টাকা। বাজারে সাধারণ শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা হলেও দেশি শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে। কাঁচা মরিচের দাম গত সপ্তাহের ১২০ টাকা থেকে বেড়ে এ সপ্তাহে প্রতি কেজি ১৬০ টাকায় ঠেকেছে।

শাকের বাজার অবশ্য কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লাল শাক ও কলমি শাক প্রতি আঁটি ১০ টাকা, ডাঁটা শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ থেকে ৫০ টাকা, লাউ শাক ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং কচু শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে আসা ক্রেতা নাইম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারে সবজির দাম কেজিতে অন্তত ১০ টাকা করে বেড়েছে। ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। দিনে ৫০০-৬০০ টাকা আয় করা মানুষের পক্ষে চাল, মাছ ও সবজি কেনা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে বাজার তদারকির দাবি জানান।

মাছের বাজারেও চড়া দামের কারণে ক্রেতাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই ও কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে ক্রেতাদের প্রতি কেজিতে এক হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।

রায়ের বাজারের মাছ বিক্রেতা ইমরান মিয়া জানান, মাঝারি আকারের রুই মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং মাছের কেজি আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। তিনি আরও জানান, মাছের আকার, মান এবং তা জীবিত নাকি মৃত—তার ওপর দাম নির্ভর করে। বাজার ও সরবরাহের তারতম্যের কারণে বিভিন্ন বাজারে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কম-বেশি হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বরমীর শতবর্ষী তুন্দুল রুটির স্বাদে জমে ওঠে রুটি মহল

ডিমের হালি ৫৫ টাকা, বাজারে মাছ ও সবজির দাম লাগামহীন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩২:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্বস্তি মিলছে না সাধারণ ক্রেতাদের। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম আরও বৃদ্ধি পেয়ে এখন প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ১৪ টাকায়। এর পাশাপাশি মাছ এবং বিভিন্ন ধরনের সবজির দামও নতুন করে বেড়েছে। বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে গরুর মাংস এবং মুরগির দাম আগের মতোই প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ টাকায় এবং হালি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। আগে এক ডজন ডিম কিনলে বিক্রেতারা কিছুটা ছাড় দিলেও এখন আর সেই সুযোগ থাকছে না। ডিম বিক্রেতা রাজিব হোসেন বলেন, ডিমের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে, কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস আগের মতোই প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সবজির বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পেঁপে বাদে প্রায় সব সবজিই উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে, যার প্রতি কেজির দাম ৪০ টাকা। বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ অধিকাংশ সাধারণ সবজি প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে আসা শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। এছাড়া লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা, টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, ঝিঙে ও করলা ৮০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি লাউয়ের দাম ৫০ থেকে ৭০ টাকা। বাজারে সাধারণ শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা হলেও দেশি শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে। কাঁচা মরিচের দাম গত সপ্তাহের ১২০ টাকা থেকে বেড়ে এ সপ্তাহে প্রতি কেজি ১৬০ টাকায় ঠেকেছে।

শাকের বাজার অবশ্য কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লাল শাক ও কলমি শাক প্রতি আঁটি ১০ টাকা, ডাঁটা শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ থেকে ৫০ টাকা, লাউ শাক ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং কচু শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে আসা ক্রেতা নাইম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারে সবজির দাম কেজিতে অন্তত ১০ টাকা করে বেড়েছে। ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। দিনে ৫০০-৬০০ টাকা আয় করা মানুষের পক্ষে চাল, মাছ ও সবজি কেনা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। তিনি সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে বাজার তদারকির দাবি জানান।

মাছের বাজারেও চড়া দামের কারণে ক্রেতাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই ও কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে ক্রেতাদের প্রতি কেজিতে এক হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।

রায়ের বাজারের মাছ বিক্রেতা ইমরান মিয়া জানান, মাঝারি আকারের রুই মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং মাছের কেজি আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। তিনি আরও জানান, মাছের আকার, মান এবং তা জীবিত নাকি মৃত—তার ওপর দাম নির্ভর করে। বাজার ও সরবরাহের তারতম্যের কারণে বিভিন্ন বাজারে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কম-বেশি হতে পারে।