লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সয়াবিন তেলের সংকট কাটেনি, বাজারে চড়া ডিম ও মুরগির দাম

বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাজারে এখনো সরবরাহ সংকট কাটেনি। এদিকে ডিম ও মুরগির চড়া দাম নিয়ে বিপাকে সাধারণ ক্রেতারা।

বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভোজ্যতেল বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো গত কয়েকদিন ধরেই সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণের অনুমোদন দেওয়া হলেও বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, সেগুনবাগিচা ও শান্তিনগরের খুচরা বাজারগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, এখনো এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট রয়েছে।

খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, নতুন দাম ঘোষণার পরও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। শান্তিনগর বাজারের বিক্রেতা এনামুল হক জানান, নতুন দরের তেল বাজারে না আসা পর্যন্ত কোম্পানিগুলো স্বাভাবিকভাবে অর্ডার নিচ্ছে না। দোকানিদের ভাষ্যমতে, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সরবরাহকারীরা চাহিদামতো তেল দিচ্ছেন না। এমনকি কয়েক দফা অর্ডারের পর সামান্য পরিমাণ তেল পাওয়া গেলেও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের মুদি দোকানি মো. তাহের জানান, ২০০ টাকার একটি তেলের বোতলে তাদের কমিশন কমিয়ে দেড় টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং অধিকাংশ দোকানে দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল পাওয়া গেলেও এক লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও সংকটের সুযোগে পুরোনো দামের তেল বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।

তেলের পাশাপাশি রাজধানীর বাজারে ডিম ও মুরগির দামও চড়া। ব্রয়লার মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এলাকাভেদে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮৫ থেকে ১৯৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত। তবে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ঝিঙা ৭০-৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০-৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, দেশি লাউ ৫০-৭০ টাকা, কচুর মুখি ৬০-৭০ টাকা এবং করলা ৬০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢেঁড়সের দাম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এছাড়া কাঁচা মরিচের দাম কমে ৮০-১২০ টাকা এবং শসা ৪০-৫০ টাকায় নেমেছে। তবে বরবটি, টমেটো, গাজর ও কাকরোলের দাম এখনো বেশি এবং পেঁয়াজের দাম সামান্য কমে ৫৫-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

নতুন নির্ধারিত দরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৯৯ টাকা থেকে বেড়ে ২০৪ টাকা হয়েছে। তবে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

কাঁচা মরিচের দাম কমে ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে নেমেছে। তবে বরবটি, টমেটো, গাজর ও কাকরোলের দাম এখনো তুলনামূলক বেশি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বরমীর শতবর্ষী তুন্দুল রুটির স্বাদে জমে ওঠে রুটি মহল

সয়াবিন তেলের সংকট কাটেনি, বাজারে চড়া ডিম ও মুরগির দাম

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভোজ্যতেল বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো গত কয়েকদিন ধরেই সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণের অনুমোদন দেওয়া হলেও বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, সেগুনবাগিচা ও শান্তিনগরের খুচরা বাজারগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, এখনো এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট রয়েছে।

খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, নতুন দাম ঘোষণার পরও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। শান্তিনগর বাজারের বিক্রেতা এনামুল হক জানান, নতুন দরের তেল বাজারে না আসা পর্যন্ত কোম্পানিগুলো স্বাভাবিকভাবে অর্ডার নিচ্ছে না। দোকানিদের ভাষ্যমতে, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সরবরাহকারীরা চাহিদামতো তেল দিচ্ছেন না। এমনকি কয়েক দফা অর্ডারের পর সামান্য পরিমাণ তেল পাওয়া গেলেও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের মুদি দোকানি মো. তাহের জানান, ২০০ টাকার একটি তেলের বোতলে তাদের কমিশন কমিয়ে দেড় টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং অধিকাংশ দোকানে দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল পাওয়া গেলেও এক লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও সংকটের সুযোগে পুরোনো দামের তেল বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে।

তেলের পাশাপাশি রাজধানীর বাজারে ডিম ও মুরগির দামও চড়া। ব্রয়লার মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এলাকাভেদে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮৫ থেকে ১৯৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত। তবে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ঝিঙা ৭০-৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০-৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, দেশি লাউ ৫০-৭০ টাকা, কচুর মুখি ৬০-৭০ টাকা এবং করলা ৬০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢেঁড়সের দাম কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এছাড়া কাঁচা মরিচের দাম কমে ৮০-১২০ টাকা এবং শসা ৪০-৫০ টাকায় নেমেছে। তবে বরবটি, টমেটো, গাজর ও কাকরোলের দাম এখনো বেশি এবং পেঁয়াজের দাম সামান্য কমে ৫৫-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

নতুন নির্ধারিত দরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৯৯ টাকা থেকে বেড়ে ২০৪ টাকা হয়েছে। তবে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

কাঁচা মরিচের দাম কমে ৮০ থেকে ১২০ টাকা এবং শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে নেমেছে। তবে বরবটি, টমেটো, গাজর ও কাকরোলের দাম এখনো তুলনামূলক বেশি।