লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উন্নয়নশীল দেশের ঋণ সংকটে জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থার আহ্বান

বৈশ্বিক সংকটের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো যে আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে, তা মোকাবিলায় ঋণ পুনর্গঠন, ঋণ মওকুফ এবং পরিশোধ স্থগিতকরণের মাধ্যমে একটি টেকসই ঋণ সমাধান ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি উল্লেখ করেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিশু, নারী, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের গতি বজায় রাখার স্বার্থে জাতিসংঘের নেতৃত্বে এ ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

শনিবার নিউইয়র্কে ইউনিসেফ হাউসে আয়োজিত এক বৈঠকে ইউনিসেফের মানবিক কার্যক্রম ও সরবরাহ কার্যক্রম বিষয়ক উপ-নির্বাহী পরিচালক টেড শাইবানের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি এ কথাগুলো বলেন। বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিও উপস্থিত ছিলেন।

ড. তিতুমীর জানান, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং ঋণের বাড়তি বোঝা বাংলাদেশের আর্থিক সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত করেছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সরকার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দর্শনের আলোকে একটি গণতান্ত্রিক মানবকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সরকার নারী উন্নয়নকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে সর্বজনীন জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সরকারের ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান কার্ড, ওয়ান নম্বর অ্যান্ড ওয়ান ওয়ালেট’ কৌশলের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন, বিদ্যালয়ে ভর্তি এবং সরকারি সেবাসমূহে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার আরও সহজ হবে। এছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ডিজিটাল প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা উপকরণের ব্যবহারে ইউনিসেফের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

ইউনিসেফের উপ-নির্বাহী পরিচালক টেড শাইবান বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানান এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়াকে স্বাগত জানান। তিনি বাংলাদেশের উত্থাপিত অগ্রাধিকারগুলোকে সাধুবাদ জানিয়ে শিক্ষা, প্রাথমিক শৈশব উন্নয়ন, পুষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিশুকেন্দ্রিক তথ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের

উন্নয়নশীল দেশের ঋণ সংকটে জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থার আহ্বান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০০:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

বৈশ্বিক সংকটের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো যে আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে, তা মোকাবিলায় ঋণ পুনর্গঠন, ঋণ মওকুফ এবং পরিশোধ স্থগিতকরণের মাধ্যমে একটি টেকসই ঋণ সমাধান ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি উল্লেখ করেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিশু, নারী, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের গতি বজায় রাখার স্বার্থে জাতিসংঘের নেতৃত্বে এ ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।

শনিবার নিউইয়র্কে ইউনিসেফ হাউসে আয়োজিত এক বৈঠকে ইউনিসেফের মানবিক কার্যক্রম ও সরবরাহ কার্যক্রম বিষয়ক উপ-নির্বাহী পরিচালক টেড শাইবানের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি এ কথাগুলো বলেন। বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিও উপস্থিত ছিলেন।

ড. তিতুমীর জানান, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং ঋণের বাড়তি বোঝা বাংলাদেশের আর্থিক সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত করেছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সরকার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দর্শনের আলোকে একটি গণতান্ত্রিক মানবকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সরকার নারী উন্নয়নকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে সর্বজনীন জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ করছে বলেও তিনি জানান।

বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি সরকারের ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান কার্ড, ওয়ান নম্বর অ্যান্ড ওয়ান ওয়ালেট’ কৌশলের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন, বিদ্যালয়ে ভর্তি এবং সরকারি সেবাসমূহে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার আরও সহজ হবে। এছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ডিজিটাল প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা উপকরণের ব্যবহারে ইউনিসেফের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

ইউনিসেফের উপ-নির্বাহী পরিচালক টেড শাইবান বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানান এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়াকে স্বাগত জানান। তিনি বাংলাদেশের উত্থাপিত অগ্রাধিকারগুলোকে সাধুবাদ জানিয়ে শিক্ষা, প্রাথমিক শৈশব উন্নয়ন, পুষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিশুকেন্দ্রিক তথ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।