লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একক হামলায় ইরানে সরকার উৎখাত কি ইসরায়েলের পক্ষে সম্ভব

ইসরায়েলে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন, যেখানে সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি জনসমর্থন কমতে দেখা গেছে। এমন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে নেতানিয়াহু ইরানে ফের হামলা চালানোর আভাস দিয়ে বলেছেন, তেহরানের সরকার উৎখাত করাই তাঁর দেশের মূল লক্ষ্য। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করার ক্ষমতা ইসরায়েলের থাকলেও সামরিক সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে সরকার পতন ঘটানো যাবে, সে বিষয়ে তেল আবিবের সুনির্দিষ্ট কোনো কৌশল নেই।

গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) গবেষক আরবান কনিংহাম জানান, ইসরায়েলের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের মজুত রয়েছে এবং তাদের যুদ্ধবিমানে মাঝআকাশে জ্বালানি ভরার সক্ষমতাও আছে। ফলে তারা আকাশসীমায় আধিপত্য বজায় রেখে ইরানের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে পুনর্বার হামলা চালাতে পারবে। কিন্তু কেবল আকাশপথে হামলা চালিয়ে একটি দেশের সরকার পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। গত বছরের মার্চে নেতানিয়াহু নিজেও স্বীকার করেছিলেন যে শুধু বিমান হামলা দিয়ে কোনো শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো যায় না, এর জন্য স্থল অভিযান প্রয়োজন।

স্থল অভিযানের মাধ্যমে তেহরানের ক্ষমতা পরিবর্তনের বিষয়টিও ইসরায়েলের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। তুরস্কের কায়সেরি শহরের আবদুল্লাহ গুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক চাগলার কুরচ মনে করেন, বোমা ফেলে ইরানের সামরিক শক্তি সাময়িকভাবে দুর্বল করা গেলেও দেশটির পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, লুকিয়ে রাখা অস্ত্রব্যবস্থাগুলো টিকে যাবে। ইরানে সরকার উৎখাত করতে হলে সেখানে সেনা মোতায়েন করতে হবে এবং কয়েক বছর ধরে অবস্থান করার মতো বড় ধরনের প্রস্তুতি থাকতে হবে, যা এককভাবে ইসরায়েল বা এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও সুদীর্ঘ ও জটিল এক সামরিক প্রয়াস।

ইরানের মাটির অনেক গভীরে থাকা সামরিক স্থাপনা এবং পারমাণবিক ঘাঁটিতে আঘাত হানার জন্য যে ধরনের বাংকারবিধ্বংসী অস্ত্রের প্রয়োজন, তা ইসরায়েলের সামরিক বহরে নেই। ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমান থেকে ইরানের ফোরদো ও নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের জিবিইউ-৫৭ বাংকারবিধ্বংসী বোমা ফেলা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশেষ সামরিক প্রযুক্তি ও ভারী অস্ত্র ছাড়া পাহাড়ের নিচে সুরক্ষিত ইরানের ঘাঁটিতে ইসরায়েলের পক্ষে একা বড় ক্ষতি সাধন করা প্রায় অসম্ভব।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহু বৈঠক করেছেন এবং মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরায়েল সফর করে গেছেন। চলতি সপ্তাহে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানে নতুন করে হামলার একটি প্রস্তাব ওয়াশিংটনকে দিয়েছিল ইসরায়েল, তবে তা ট্রাম্পের অনুমোদন পায়নি। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে মূলত হামলার সময়সূচি নিয়ে মতভিন্নতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প নতুন কোনো বড় যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

ইরানের সামরিক সক্ষমতাও ইসরায়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দুই দফা হামলা মোকাবিলার পরও তেহরানের পাল্টা আঘাত হানার সামর্থ্য রয়ে গেছে। রুসির জ্যেষ্ঠ গবেষক সিদ্ধার্থ কৌশল জানান, ইরানের কাছে বিপুল পরিমাণ জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের (এএসসিএম) মজুত রয়েছে, যা তারা পুরোনো চীনা প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে নিজ দেশেই তৈরি করে। যদিও ইরানের লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণের কিছু সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবুও দেশটির দক্ষিণ অঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চলগুলো বিমান হামলা থেকে সুরক্ষা পাওয়ার প্রাকৃতিক দেয়াল হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া ইরান কেবল ইসরায়েল নয়, প্রতিবেশি উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালাতে সক্ষম।

অন্য সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত শুরু হলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর বিপুল আর্থিক ও সামরিক চাপ পড়বে। ইরানের সস্তা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করতে গিয়ে ইসরায়েলকে অত্যন্ত দামি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে, যার মজুত ইতিমধ্যেই কমে এসেছে। একই সঙ্গে ইরানের ভেতরে ইসরায়েলের যে গুপ্তচর নেটওয়ার্ক ও মানব গোয়েন্দা সক্ষমতা রয়েছে, নতুন অভিযানে সাইবার হামলা বা গোপন অপারেশন চালাতে গেলে সেগুলো উন্মোচিত হয়ে স্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক বিরোধী কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দেওয়ার আলোচনার কথা জানালেও, ইরানি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সক্ষমতা না থাকায় সেই উদ্যোগ আর এগোয়নি।

১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণেও নেতানিয়াহু ইরানের শাসনব্যবস্থাকে চরম বিপজ্জনক হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। প্রায় ৩০ বছর পর ২০২৫ সালের জুন এবং চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে হামলা চালায়। তবে একের পর এক হামলা ও অর্থনৈতিক অবরোধ সত্ত্বেও তেহরানের ক্ষমতাসীন সরকারকে পতন ঘটানো যায়নি। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত সামরিক শক্তির সঙ্গে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের ব্যবধানই ইসরায়েলকে বড় কোনো একক অভিযান থেকে বিরত রাখতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলে গাজা পরিস্থিতির কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ইসরায়েল যদি যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সমর্থন ছাড়া একা হামলা চালায়, তবে ইরান কেবল ইসরায়েলি ভূখণ্ডকে লক্ষ্য করে পাল্টা জবাব দিয়ে ওয়াশিংটনকে যুদ্ধের বাইরে রাখতে পারে, যা তেল আবিবকে সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে আরও একঘরে করে তুলবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপে রেকর্ড তাপপ্রবাহে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু

একক হামলায় ইরানে সরকার উৎখাত কি ইসরায়েলের পক্ষে সম্ভব

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৪৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন, যেখানে সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি জনসমর্থন কমতে দেখা গেছে। এমন রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে নেতানিয়াহু ইরানে ফের হামলা চালানোর আভাস দিয়ে বলেছেন, তেহরানের সরকার উৎখাত করাই তাঁর দেশের মূল লক্ষ্য। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করার ক্ষমতা ইসরায়েলের থাকলেও সামরিক সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে সরকার পতন ঘটানো যাবে, সে বিষয়ে তেল আবিবের সুনির্দিষ্ট কোনো কৌশল নেই।

গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) গবেষক আরবান কনিংহাম জানান, ইসরায়েলের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের মজুত রয়েছে এবং তাদের যুদ্ধবিমানে মাঝআকাশে জ্বালানি ভরার সক্ষমতাও আছে। ফলে তারা আকাশসীমায় আধিপত্য বজায় রেখে ইরানের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে পুনর্বার হামলা চালাতে পারবে। কিন্তু কেবল আকাশপথে হামলা চালিয়ে একটি দেশের সরকার পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। গত বছরের মার্চে নেতানিয়াহু নিজেও স্বীকার করেছিলেন যে শুধু বিমান হামলা দিয়ে কোনো শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো যায় না, এর জন্য স্থল অভিযান প্রয়োজন।

স্থল অভিযানের মাধ্যমে তেহরানের ক্ষমতা পরিবর্তনের বিষয়টিও ইসরায়েলের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। তুরস্কের কায়সেরি শহরের আবদুল্লাহ গুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক চাগলার কুরচ মনে করেন, বোমা ফেলে ইরানের সামরিক শক্তি সাময়িকভাবে দুর্বল করা গেলেও দেশটির পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, লুকিয়ে রাখা অস্ত্রব্যবস্থাগুলো টিকে যাবে। ইরানে সরকার উৎখাত করতে হলে সেখানে সেনা মোতায়েন করতে হবে এবং কয়েক বছর ধরে অবস্থান করার মতো বড় ধরনের প্রস্তুতি থাকতে হবে, যা এককভাবে ইসরায়েল বা এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও সুদীর্ঘ ও জটিল এক সামরিক প্রয়াস।

ইরানের মাটির অনেক গভীরে থাকা সামরিক স্থাপনা এবং পারমাণবিক ঘাঁটিতে আঘাত হানার জন্য যে ধরনের বাংকারবিধ্বংসী অস্ত্রের প্রয়োজন, তা ইসরায়েলের সামরিক বহরে নেই। ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমান থেকে ইরানের ফোরদো ও নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের জিবিইউ-৫৭ বাংকারবিধ্বংসী বোমা ফেলা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশেষ সামরিক প্রযুক্তি ও ভারী অস্ত্র ছাড়া পাহাড়ের নিচে সুরক্ষিত ইরানের ঘাঁটিতে ইসরায়েলের পক্ষে একা বড় ক্ষতি সাধন করা প্রায় অসম্ভব।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহু বৈঠক করেছেন এবং মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরায়েল সফর করে গেছেন। চলতি সপ্তাহে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানে নতুন করে হামলার একটি প্রস্তাব ওয়াশিংটনকে দিয়েছিল ইসরায়েল, তবে তা ট্রাম্পের অনুমোদন পায়নি। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে মূলত হামলার সময়সূচি নিয়ে মতভিন্নতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প নতুন কোনো বড় যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

ইরানের সামরিক সক্ষমতাও ইসরায়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দুই দফা হামলা মোকাবিলার পরও তেহরানের পাল্টা আঘাত হানার সামর্থ্য রয়ে গেছে। রুসির জ্যেষ্ঠ গবেষক সিদ্ধার্থ কৌশল জানান, ইরানের কাছে বিপুল পরিমাণ জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের (এএসসিএম) মজুত রয়েছে, যা তারা পুরোনো চীনা প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে নিজ দেশেই তৈরি করে। যদিও ইরানের লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণের কিছু সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবুও দেশটির দক্ষিণ অঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চলগুলো বিমান হামলা থেকে সুরক্ষা পাওয়ার প্রাকৃতিক দেয়াল হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া ইরান কেবল ইসরায়েল নয়, প্রতিবেশি উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালাতে সক্ষম।

অন্য সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত শুরু হলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর বিপুল আর্থিক ও সামরিক চাপ পড়বে। ইরানের সস্তা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করতে গিয়ে ইসরায়েলকে অত্যন্ত দামি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে, যার মজুত ইতিমধ্যেই কমে এসেছে। একই সঙ্গে ইরানের ভেতরে ইসরায়েলের যে গুপ্তচর নেটওয়ার্ক ও মানব গোয়েন্দা সক্ষমতা রয়েছে, নতুন অভিযানে সাইবার হামলা বা গোপন অপারেশন চালাতে গেলে সেগুলো উন্মোচিত হয়ে স্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক বিরোধী কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দেওয়ার আলোচনার কথা জানালেও, ইরানি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সক্ষমতা না থাকায় সেই উদ্যোগ আর এগোয়নি।

১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণেও নেতানিয়াহু ইরানের শাসনব্যবস্থাকে চরম বিপজ্জনক হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। প্রায় ৩০ বছর পর ২০২৫ সালের জুন এবং চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে হামলা চালায়। তবে একের পর এক হামলা ও অর্থনৈতিক অবরোধ সত্ত্বেও তেহরানের ক্ষমতাসীন সরকারকে পতন ঘটানো যায়নি। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত সামরিক শক্তির সঙ্গে রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের ব্যবধানই ইসরায়েলকে বড় কোনো একক অভিযান থেকে বিরত রাখতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলে গাজা পরিস্থিতির কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ইসরায়েল যদি যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সমর্থন ছাড়া একা হামলা চালায়, তবে ইরান কেবল ইসরায়েলি ভূখণ্ডকে লক্ষ্য করে পাল্টা জবাব দিয়ে ওয়াশিংটনকে যুদ্ধের বাইরে রাখতে পারে, যা তেল আবিবকে সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে আরও একঘরে করে তুলবে।