লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ

সৌদি আরবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং হরমুজ প্রণালির কাছে তেলবাহী জাহাজে আক্রমণের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বিগত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে।

পরিস্থিতি ঘোলাটে হয় বুধবার, যখন ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি স্থাপনায় হামলা জানায়। দাম্মামের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে চালানো হামলায় দুইজন নিহত ও আটজন আহত হন। পাশাপাশি দেশটির একটি তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় আরও দুইজন প্রাণ হারান। অন্যদিকে, একই দিনে উত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলে তথাকথিত 'অবৈধ' তেল স্থানান্তরের অভিযোগে চারটি জাহাজে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটি জানায়, হরমুজ প্রণালির পশ্চিমে আরও তিনটি জাহাজ মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরান সতর্ক করেছে যে, উসকানি অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আরও বিস্তৃত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

সংকট ঘনীভূত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে অবস্থিত কিছু কূটনৈতিক মিশন থেকে কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মিশন থেকেও কূটনীতিকদের স্বজনদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে দেশটি। অন্যদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়াত্ত তেল কোম্পানি আরামকো তাদের ধাহরান সদর দপ্তরের কর্মীদের কার্যালয় থেকে সরিয়ে নিয়েছে এবং দূর থেকে কাজ করার নির্দেশ জারি করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কায় বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের ওপর নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রায় আট মাস আগে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের তৈরি করা কার্যত অবরোধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে স্মরণকালের অন্যতম বড় সংকট তৈরির উপক্রম হয়েছিল। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রথম কয়েক সপ্তাহে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং প্রণালিটি বন্ধ হয়ে গেলে দর ১৫০ ডলারে উঠতে পারে বলেও বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। সংঘাতের মধ্যে গত এপ্রিলে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে উঠলেও মে মাসের শেষে তা ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে এবং জুলাইয়ের শুরুতে যুদ্ধবিরতির আশায় তা ৭১ ডলারে পৌঁছায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতা ভেস্তে গিয়ে প্রণালিতে পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়ায় তেলের দাম আবার বাড়তে থাকে। তবে জ্বালানি তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগরে স্থলভাগের পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহন বাড়ায় পারস্য উপসাগর থেকে তেল রপ্তানি বর্তমানে যুদ্ধপূর্ব মাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

তেলের মূল্যের এই উল্লম্ফনের সাথে সাথে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির শঙ্কা ও ঋণ গ্রহণের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ভয়ে বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধস নেমেছে। ইউরোপের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর স্টক্স ইউরোপ ৬০০ সূচক ১ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক ০.৭ শতাংশ কমেছে। এশিয়ার বাজারে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ২.৭ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩.৫ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ৩ শতাংশ দর হারায়। তেলের উচ্চমূল্যের প্রভাব পড়েছে বিমান পরিবহন খাতেও; যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান এয়ারলাইনসের শেয়ার দর প্রাক্-বাজার লেনদেনে প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে। জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক ব্যয়ের কারণে চলতি বছর লোকসানের আশঙ্কার কথা জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আগে ঘোষিত লাভজনক পূর্বাভাস থেকেও সরে এসেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন করে হামলা হলে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও এআই স্থাপনায় আঘাতের হুমকি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:১৫:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং হরমুজ প্রণালির কাছে তেলবাহী জাহাজে আক্রমণের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বিগত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে।

পরিস্থিতি ঘোলাটে হয় বুধবার, যখন ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি স্থাপনায় হামলা জানায়। দাম্মামের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে চালানো হামলায় দুইজন নিহত ও আটজন আহত হন। পাশাপাশি দেশটির একটি তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় আরও দুইজন প্রাণ হারান। অন্যদিকে, একই দিনে উত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলে তথাকথিত 'অবৈধ' তেল স্থানান্তরের অভিযোগে চারটি জাহাজে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটি জানায়, হরমুজ প্রণালির পশ্চিমে আরও তিনটি জাহাজ মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরান সতর্ক করেছে যে, উসকানি অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আরও বিস্তৃত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

সংকট ঘনীভূত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে অবস্থিত কিছু কূটনৈতিক মিশন থেকে কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মিশন থেকেও কূটনীতিকদের স্বজনদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে দেশটি। অন্যদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়াত্ত তেল কোম্পানি আরামকো তাদের ধাহরান সদর দপ্তরের কর্মীদের কার্যালয় থেকে সরিয়ে নিয়েছে এবং দূর থেকে কাজ করার নির্দেশ জারি করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কায় বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের ওপর নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রায় আট মাস আগে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের তৈরি করা কার্যত অবরোধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে স্মরণকালের অন্যতম বড় সংকট তৈরির উপক্রম হয়েছিল। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রথম কয়েক সপ্তাহে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং প্রণালিটি বন্ধ হয়ে গেলে দর ১৫০ ডলারে উঠতে পারে বলেও বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। সংঘাতের মধ্যে গত এপ্রিলে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে উঠলেও মে মাসের শেষে তা ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে এবং জুলাইয়ের শুরুতে যুদ্ধবিরতির আশায় তা ৭১ ডলারে পৌঁছায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতা ভেস্তে গিয়ে প্রণালিতে পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়ায় তেলের দাম আবার বাড়তে থাকে। তবে জ্বালানি তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগরে স্থলভাগের পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহন বাড়ায় পারস্য উপসাগর থেকে তেল রপ্তানি বর্তমানে যুদ্ধপূর্ব মাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

তেলের মূল্যের এই উল্লম্ফনের সাথে সাথে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির শঙ্কা ও ঋণ গ্রহণের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ভয়ে বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধস নেমেছে। ইউরোপের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর স্টক্স ইউরোপ ৬০০ সূচক ১ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক ০.৭ শতাংশ কমেছে। এশিয়ার বাজারে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ২.৭ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩.৫ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ৩ শতাংশ দর হারায়। তেলের উচ্চমূল্যের প্রভাব পড়েছে বিমান পরিবহন খাতেও; যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান এয়ারলাইনসের শেয়ার দর প্রাক্-বাজার লেনদেনে প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে। জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক ব্যয়ের কারণে চলতি বছর লোকসানের আশঙ্কার কথা জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আগে ঘোষিত লাভজনক পূর্বাভাস থেকেও সরে এসেছে।