লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপে রেকর্ড তাপপ্রবাহে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু

ইউরোপের বিভিন্ন শহরে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম মৌসুমে প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। নতুন এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের ইতিহাসে তাপজনিত মৃত্যুর দিক থেকে এটিই হতে পারে সবচেয়ে প্রাণঘাতী গ্রীষ্ম। গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে, এসব মৃত্যুর মধ্যে ৩২ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির জন্য সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী। মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে সৃষ্ট দূষণ বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়িয়ে দিয়ে এই তাপপ্রবাহকে আরও তীব্র রূপ দিয়েছে।

গবেষণার বিস্তারিত ফলাফল 'নেচার হেলথ' সাময়িকীতে দুটি পৃথক গবেষণাপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার অন্যতম সহ-লেখক এবং লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষক ক্লেয়ার বার্নস জানান, ইউরোপের একটি বিশাল অংশে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালটি তাপজনিত মৃত্যুর রেকর্ডে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

গবেষণায় আরও তুলে ধরা হয় যে, বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ হলো ইউরোপ, আর সেখানে চরম আবহাওয়া সংক্রান্ত দুর্যোগগুলোর মধ্যে তাপপ্রবাহই সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী। চলতি বছরের মে মাসের শেষভাগ থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত নজিরবিহীন উচ্চ তাপমাত্রার মুখোমুখি হয়েছে পুরো মহাদেশটি। বিশেষ করে পশ্চিম ইউরোপে এ বছর রেকর্ডে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম প্রত্যক্ষ করা গেছে। এ সময় তাপমাত্রা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড় তাপমাত্রার তুলনায় প্রায় ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৫.২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বেশি ছিল। এমনকি কিছু দেশে নির্দিষ্ট কিছু দিনে স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল।

জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নিতে বিশ্ব নেতারা তুরস্কে একত্রিত হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ইউরোপের এই ভয়াবহ প্রাণহানির হিসাব সামনে এল। এর কিছুদিন আগেই জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে, প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখার সুযোগ এখন প্রায় শেষ। এই পরিস্থিতিতে গবেষক ক্লেয়ার বার্নস সতর্ক করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ পরিণতি ঠেকানোর লড়াইয়ে বিশ্ব অনেক পিছিয়ে পড়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয় না বাড়ালে আগামীতে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপে রেকর্ড তাপপ্রবাহে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু

ইউরোপে রেকর্ড তাপপ্রবাহে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০৩:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ইউরোপের বিভিন্ন শহরে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম মৌসুমে প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। নতুন এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের ইতিহাসে তাপজনিত মৃত্যুর দিক থেকে এটিই হতে পারে সবচেয়ে প্রাণঘাতী গ্রীষ্ম। গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে, এসব মৃত্যুর মধ্যে ৩২ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির জন্য সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী। মূলত জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে সৃষ্ট দূষণ বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়িয়ে দিয়ে এই তাপপ্রবাহকে আরও তীব্র রূপ দিয়েছে।

গবেষণার বিস্তারিত ফলাফল 'নেচার হেলথ' সাময়িকীতে দুটি পৃথক গবেষণাপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার অন্যতম সহ-লেখক এবং লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষক ক্লেয়ার বার্নস জানান, ইউরোপের একটি বিশাল অংশে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালটি তাপজনিত মৃত্যুর রেকর্ডে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

গবেষণায় আরও তুলে ধরা হয় যে, বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ হলো ইউরোপ, আর সেখানে চরম আবহাওয়া সংক্রান্ত দুর্যোগগুলোর মধ্যে তাপপ্রবাহই সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী। চলতি বছরের মে মাসের শেষভাগ থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত নজিরবিহীন উচ্চ তাপমাত্রার মুখোমুখি হয়েছে পুরো মহাদেশটি। বিশেষ করে পশ্চিম ইউরোপে এ বছর রেকর্ডে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম প্রত্যক্ষ করা গেছে। এ সময় তাপমাত্রা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড় তাপমাত্রার তুলনায় প্রায় ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৫.২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বেশি ছিল। এমনকি কিছু দেশে নির্দিষ্ট কিছু দিনে স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল।

জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নিতে বিশ্ব নেতারা তুরস্কে একত্রিত হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ইউরোপের এই ভয়াবহ প্রাণহানির হিসাব সামনে এল। এর কিছুদিন আগেই জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে, প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখার সুযোগ এখন প্রায় শেষ। এই পরিস্থিতিতে গবেষক ক্লেয়ার বার্নস সতর্ক করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ পরিণতি ঠেকানোর লড়াইয়ে বিশ্ব অনেক পিছিয়ে পড়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয় না বাড়ালে আগামীতে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হতে পারে।