লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার: পঞ্চদশ সংশোধনীর আপিলের রায় ৯ জুলাই

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ আজ বুধবার (৮ জুলাই) এই আপিলের রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৯ জুলাই দিন ধার্য করেছেন।

আপিলের প্রথম দুই দিনে রিটকারী পক্ষের এবং তৃতীয় দিনে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, আপিলকারীদের পক্ষে আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়াসহ ও মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানিতে অংশ নেন।

রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল শুনানিতে বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল। তিনি আপিল আদালতকে পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু বিষয় সংসদের ওপর ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন এবং বিশ্বাস করেন যে বাকি অংশটুকু আদালত দেখবেন। তিনি আরও বলেন, আইন পুরোটা বাতিল না করে কিছু বিধান জাতীয় সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তনের বিষয়ে তারা বক্তব্য দিয়েছেন।

রিটকারী সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে, সংবিধান ধ্বংস করা হয়েছে। এ সংশোধনী পুরোটা বাতিল হওয়া উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘এর মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক চরিত্র পরিবর্তন করা হয়েছে। এটি বাতিল হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের জনবিরোধী সংশোধনী আর না হয় এবং জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা নস্যাৎ করা না যায়।’

অন্যদিকে, জামায়াতের পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির আদালতকে জানান, যদি পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটি বাতিল করা হয়, তবে ‘বাকশাল’ ফিরে আসবে। তিনি আরও বলেন, এই সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাসহ অনেক অন্যান্য বিষয় জড়িত রয়েছে, যার মধ্যে মূল বিষয় হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিলুপ্তি। তাই হাইকোর্টের রায়ের যে অংশটুকু সংবিধান ও রাষ্ট্রের মৌলিক অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক তা বাতিল করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখা যেতে পারে। তিনি রাজনৈতিক বিতর্কের অংশটুকু জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেন, কারণ রাজনৈতিক বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত দিলে তা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত। ওই দিন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া লিভ টু আপিল দায়ের করেন, যেখানে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চাওয়া হয়।

২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে উচ্চ আদালত সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনেন। তবে এই রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিল করা হয়নি। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন, যেখানে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফারাহ মাহবুব পৌনে দুই ঘণ্টাব্যাপী রায় পাঠ করেন।

হাইকোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, গণতন্ত্র আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ, যা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন হয়নি এবং দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের আত্মবিশ্বাস জনগণের মধ্যে জন্মায়নি, যার ফলস্বরূপ জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল। রায়ে হাইকোর্ট আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।

হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি–সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করেন। আদালত বলেন, অনুচ্ছেদ দুটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে, যেটি হচ্ছে গণতন্ত্র, ধ্বংস করেছে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪ (২) অনুচ্ছেদও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ৭ক অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ ইত্যাদি অপরাধ এবং ৭খ অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করার কথা বলা ছিল। ৪৪ অনুচ্ছেদের ২ ধারা, যা ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোনো আদালতকে ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দানের কথা বলে, সেটিও বাতিল করা হয়েছে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।

আদালত রায়ে বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না। বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে আগামী জাতীয় সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করতে পারবে। এর মধ্যে জাতির পিতার স্বীকৃতির বিষয়, ২৬ মার্চের ভাষণের বিষয়গুলো রয়েছে। গণভোটের বিষয়ে রায়ে হাইকোর্ট বলেন, গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করা হয়, যেটি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অংশ ছিল। এ বিধান বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হলো। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হলো।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। এছাড়া জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয় এবং আরও বেশকিছু বিষয়ে সংশোধনী আনা হয়।

২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ অন্যদের রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার রুলে পক্ষভুক্ত হন। এছাড়া ইনসানিয়াত বিপ্লব, গণফোরাম ও চার আবেদনকারী রুলে ইন্টারভেনর হিসেবে পক্ষভুক্ত হন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বারিধারায় বাসে আগুন দিল দুর্বৃত্তরা, হতাহত নেই

তত্ত্বাবধায়ক সরকার: পঞ্চদশ সংশোধনীর আপিলের রায় ৯ জুলাই

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:১৫:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ আজ বুধবার (৮ জুলাই) এই আপিলের রায় ঘোষণার জন্য আগামী ৯ জুলাই দিন ধার্য করেছেন।

আপিলের প্রথম দুই দিনে রিটকারী পক্ষের এবং তৃতীয় দিনে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, আপিলকারীদের পক্ষে আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়াসহ ও মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানিতে অংশ নেন।

রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল শুনানিতে বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিল। তিনি আপিল আদালতকে পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু বিষয় সংসদের ওপর ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন এবং বিশ্বাস করেন যে বাকি অংশটুকু আদালত দেখবেন। তিনি আরও বলেন, আইন পুরোটা বাতিল না করে কিছু বিধান জাতীয় সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তনের বিষয়ে তারা বক্তব্য দিয়েছেন।

রিটকারী সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে, সংবিধান ধ্বংস করা হয়েছে। এ সংশোধনী পুরোটা বাতিল হওয়া উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘এর মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক চরিত্র পরিবর্তন করা হয়েছে। এটি বাতিল হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের জনবিরোধী সংশোধনী আর না হয় এবং জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা নস্যাৎ করা না যায়।’

অন্যদিকে, জামায়াতের পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির আদালতকে জানান, যদি পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটি বাতিল করা হয়, তবে ‘বাকশাল’ ফিরে আসবে। তিনি আরও বলেন, এই সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাসহ অনেক অন্যান্য বিষয় জড়িত রয়েছে, যার মধ্যে মূল বিষয় হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিলুপ্তি। তাই হাইকোর্টের রায়ের যে অংশটুকু সংবিধান ও রাষ্ট্রের মৌলিক অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক তা বাতিল করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখা যেতে পারে। তিনি রাজনৈতিক বিতর্কের অংশটুকু জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেন, কারণ রাজনৈতিক বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত দিলে তা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত। ওই দিন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া লিভ টু আপিল দায়ের করেন, যেখানে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চাওয়া হয়।

২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে উচ্চ আদালত সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনেন। তবে এই রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিল করা হয়নি। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন, যেখানে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফারাহ মাহবুব পৌনে দুই ঘণ্টাব্যাপী রায় পাঠ করেন।

হাইকোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, গণতন্ত্র আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ, যা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন হয়নি এবং দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের আত্মবিশ্বাস জনগণের মধ্যে জন্মায়নি, যার ফলস্বরূপ জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল। রায়ে হাইকোর্ট আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।

হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি–সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করেন। আদালত বলেন, অনুচ্ছেদ দুটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে, যেটি হচ্ছে গণতন্ত্র, ধ্বংস করেছে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪ (২) অনুচ্ছেদও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ৭ক অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ ইত্যাদি অপরাধ এবং ৭খ অনুচ্ছেদে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করার কথা বলা ছিল। ৪৪ অনুচ্ছেদের ২ ধারা, যা ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোনো আদালতকে ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দানের কথা বলে, সেটিও বাতিল করা হয়েছে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।

আদালত রায়ে বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না। বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে আগামী জাতীয় সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করতে পারবে। এর মধ্যে জাতির পিতার স্বীকৃতির বিষয়, ২৬ মার্চের ভাষণের বিষয়গুলো রয়েছে। গণভোটের বিষয়ে রায়ে হাইকোর্ট বলেন, গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করা হয়, যেটি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অংশ ছিল। এ বিধান বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হলো। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হলো।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। এছাড়া জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয় এবং আরও বেশকিছু বিষয়ে সংশোধনী আনা হয়।

২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ অন্যদের রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। পরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার রুলে পক্ষভুক্ত হন। এছাড়া ইনসানিয়াত বিপ্লব, গণফোরাম ও চার আবেদনকারী রুলে ইন্টারভেনর হিসেবে পক্ষভুক্ত হন।