লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বর্ষায় নতুন রূপে সেজেছে চলনবিল, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই চলনবিল এক ভিন্ন ও অপরূপ রূপে ধরা দিয়েছে। থই থই জলরাশির বুকে হালকা বাতাসে দুলতে থাকা ঢেউ এবং সারি সারি নৌকার দৃশ্য বিলপাড়ের পরিবেশকে করে তুলেছে মুখর। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কুন্দইল সেতু ঘিরে এখন বর্ষার সেই চেনা উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রতিদিন সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও বগুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী এখানে ভিড় করছেন। কেউ সপরিবারে অবকাশ যাপনে, আবার কেউ বর্ষার চলনবিলের সৌন্দর্য একনজর দেখতে ছুটে আসছেন।

তাড়াশ উপজেলা সদর থেকে কুন্দইল সেতুর পথে যেতে দীঘি সদগুণা এলাকা পেরিয়ে কামারশোন গ্রামে দেখা মেলে নৌকার ঘাটের। সেখানে ইঞ্জিনচালিত নৌকার পাশাপাশি ছোট ছোট ডিঙিনৌকা ভাড়ায় পাওয়া যায়। এখান থেকে কুন্দইল সেতু পর্যন্ত জনপ্রতি ভাড়া ২০ টাকা। এছাড়া ঘণ্টা হিসেবে পুরো নৌকা ভাড়া নিলে ১০০ থেকে ২০০ টাকা গুনতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর বিলের ঘাটগুলোতে এখন অন্যরকম ব্যস্ততা। কেউ পানিতে নেমে গোসল করছেন, কেউ আবার মোটরসাইকেল নিয়ে পানির ধারে এসে থামছেন। অনেকে মাকড়শোন এলাকা পর্যন্ত যানবাহনে গিয়ে সেখান থেকে নৌকায় চড়ে বিলের গভীরে ঘুরছেন। তাড়াশ সদর এলাকার চাকরিজীবী হারুনার রশিদ জানান, বর্ষায় বিলে পানি এলেই তিনি মেয়েকে নিয়ে এখানে ঘুরতে আসেন। কুন্দইল সেতুর রেলিং থেকে অনেকে পানিতে লাফিয়ে আনন্দ করছেন, আবার কেউ মুঠোফোনে ছবি বা ভিডিও ধারণ করছেন।

স্থানীয় মাঝি আবদুস সালাম জানান, বর্ষা এলেই তাদের ব্যস্ততা বহুগুণ বেড়ে যায়। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একের পর এক যাত্রী পারাপার ও নৌকাভ্রমণ করাতে হয়, যার ফলে এই মৌসুমে বাড়তি আয়ে সংসারে কিছুটা স্বস্তি ফেরে। বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার ব্যবসায়ী ছোটন চক্রবর্তী তার পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে সিংড়া হয়ে চলনবিলে ঘুরতে এসেছেন। তিনি জানান, এখানকার নৌকাভ্রমণ ও চারপাশের প্রকৃতি তাকে মুগ্ধ করেছে। তার মেয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী টুসু চক্রবর্তী প্রথমবারের মতো চলনবিল দেখে দারুণ উচ্ছ্বসিত।

স্থানীয়দের মতে, আষাঢ় ও শ্রাবণ মাস চলনবিল ভ্রমণের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। তবে পানির স্তরের ওপর নির্ভর করে ভাদ্র ও আশ্বিন মাস পর্যন্ত দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকে। এবার বিলে পর্যাপ্ত পানি এবং তাড়াশ সদর থেকে কুন্দইল পর্যন্ত সড়কের অবস্থার উন্নতি হওয়ায় পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। এর ফলে বিলপাড়জুড়ে ভাজাপোড়া, চা ও ফলের অস্থায়ী দোকানগুলোতেও ভালো বিক্রি হচ্ছে।

চলনবিল ঘিরে পর্যটনের এই বাড়তি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন লেখক ও গবেষক খ ম রেজাউল করিম। তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান জানিয়েছেন, দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে কী কী উদ্যোগ নেওয়া যায়, তা নিয়ে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। বর্ষার জল নামলেই চলনবিলের রূপ বদলে গেলেও, এই জলরাশির বুকে নৌকার দোল ও প্রকৃতির সান্নিধ্য প্রতিবছরই দর্শনার্থীদের বারবার টেনে আনে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নকে পরিবেশবান্ধব গ্রাম ঘোষণা

বর্ষায় নতুন রূপে সেজেছে চলনবিল, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩২:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই চলনবিল এক ভিন্ন ও অপরূপ রূপে ধরা দিয়েছে। থই থই জলরাশির বুকে হালকা বাতাসে দুলতে থাকা ঢেউ এবং সারি সারি নৌকার দৃশ্য বিলপাড়ের পরিবেশকে করে তুলেছে মুখর। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কুন্দইল সেতু ঘিরে এখন বর্ষার সেই চেনা উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রতিদিন সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও বগুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী এখানে ভিড় করছেন। কেউ সপরিবারে অবকাশ যাপনে, আবার কেউ বর্ষার চলনবিলের সৌন্দর্য একনজর দেখতে ছুটে আসছেন।

তাড়াশ উপজেলা সদর থেকে কুন্দইল সেতুর পথে যেতে দীঘি সদগুণা এলাকা পেরিয়ে কামারশোন গ্রামে দেখা মেলে নৌকার ঘাটের। সেখানে ইঞ্জিনচালিত নৌকার পাশাপাশি ছোট ছোট ডিঙিনৌকা ভাড়ায় পাওয়া যায়। এখান থেকে কুন্দইল সেতু পর্যন্ত জনপ্রতি ভাড়া ২০ টাকা। এছাড়া ঘণ্টা হিসেবে পুরো নৌকা ভাড়া নিলে ১০০ থেকে ২০০ টাকা গুনতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর বিলের ঘাটগুলোতে এখন অন্যরকম ব্যস্ততা। কেউ পানিতে নেমে গোসল করছেন, কেউ আবার মোটরসাইকেল নিয়ে পানির ধারে এসে থামছেন। অনেকে মাকড়শোন এলাকা পর্যন্ত যানবাহনে গিয়ে সেখান থেকে নৌকায় চড়ে বিলের গভীরে ঘুরছেন। তাড়াশ সদর এলাকার চাকরিজীবী হারুনার রশিদ জানান, বর্ষায় বিলে পানি এলেই তিনি মেয়েকে নিয়ে এখানে ঘুরতে আসেন। কুন্দইল সেতুর রেলিং থেকে অনেকে পানিতে লাফিয়ে আনন্দ করছেন, আবার কেউ মুঠোফোনে ছবি বা ভিডিও ধারণ করছেন।

স্থানীয় মাঝি আবদুস সালাম জানান, বর্ষা এলেই তাদের ব্যস্ততা বহুগুণ বেড়ে যায়। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একের পর এক যাত্রী পারাপার ও নৌকাভ্রমণ করাতে হয়, যার ফলে এই মৌসুমে বাড়তি আয়ে সংসারে কিছুটা স্বস্তি ফেরে। বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার ব্যবসায়ী ছোটন চক্রবর্তী তার পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে সিংড়া হয়ে চলনবিলে ঘুরতে এসেছেন। তিনি জানান, এখানকার নৌকাভ্রমণ ও চারপাশের প্রকৃতি তাকে মুগ্ধ করেছে। তার মেয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী টুসু চক্রবর্তী প্রথমবারের মতো চলনবিল দেখে দারুণ উচ্ছ্বসিত।

স্থানীয়দের মতে, আষাঢ় ও শ্রাবণ মাস চলনবিল ভ্রমণের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। তবে পানির স্তরের ওপর নির্ভর করে ভাদ্র ও আশ্বিন মাস পর্যন্ত দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকে। এবার বিলে পর্যাপ্ত পানি এবং তাড়াশ সদর থেকে কুন্দইল পর্যন্ত সড়কের অবস্থার উন্নতি হওয়ায় পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। এর ফলে বিলপাড়জুড়ে ভাজাপোড়া, চা ও ফলের অস্থায়ী দোকানগুলোতেও ভালো বিক্রি হচ্ছে।

চলনবিল ঘিরে পর্যটনের এই বাড়তি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন লেখক ও গবেষক খ ম রেজাউল করিম। তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান জানিয়েছেন, দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে কী কী উদ্যোগ নেওয়া যায়, তা নিয়ে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। বর্ষার জল নামলেই চলনবিলের রূপ বদলে গেলেও, এই জলরাশির বুকে নৌকার দোল ও প্রকৃতির সান্নিধ্য প্রতিবছরই দর্শনার্থীদের বারবার টেনে আনে।