লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে পুলিশের কাছ থেকে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানের সময় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের ডেকুয়ারচর গ্রামের একটি ফুটবল খেলার মাঠের কাছে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার নাম রিয়াজুল আলম শাহীন (৩০), যিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার বাড়ি উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বগাপুতা গ্রামে এবং তার বাবার নাম মৃত মজিবুর রহমান। পুলিশ জানিয়েছে, শাহীনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে সরিষা ডেকুয়ারচর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে রঙতরঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে বিবাহিত ও অবিবাহিতদের মধ্যে একটি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। খেলাটির উদ্বোধন করেন সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল্লাহ খান জামান। খেলা চলাকালীন সেখানে শাহীনের উপস্থিতির খবর পায় আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন পুলিশ দল। এরপর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালায়।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহীনকে আটকের সময় সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি বাধা প্রদান করেন। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে শাহীনকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলা হয় এবং তাকে পুলিশ হেফাজতে থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, এ সময় অটোরিকশা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। তবে শাহীনকে হাতকড়া পরানো হয়েছিল কি না, তা নিয়ে পুলিশের বক্তব্য ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যে ভিন্নতা রয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শাহীনের বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় ২০১৬ সালের ২ আগস্ট, ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি এবং ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মোট তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও তারা তা অস্বীকার করেছেন। সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নূর আহাম্মদ ওরফে মিলন মিয়া জানান, তিনি ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না, কাছের একটি চায়ের দোকানে ছিলেন; সেখান থেকে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হতে দেখেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, শাহীন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলেই পুলিশ তাকে টার্গেট করেছিল এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার নাম জড়াচ্ছে। সরিষা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হারুন অর রশিদ স্বপনও অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন যে, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে এবং তিনি পুলিশকে বারবার আটক ব্যক্তিকে নিয়ে যেতে বলেছেন।

এ বিষয়ে আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মাজহারুল ইসলাম জানান, তিনি বর্তমানে একটি বিশেষ অভিযানে রয়েছেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, শাহীন একাধিক মামলার পলাতক আসামি। তাকে গ্রেপ্তারের সময় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়েছে এবং তাকে পালাতে সহযোগিতা করা হয়েছে। তবে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে বা তার কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে—এমন দাবি নাকচ করে দিয়ে ওসি জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন চাপে ইরানের সীমান্তপথ বন্ধ করলো পাকিস্তান ও ইরাক

ময়মনসিংহে পুলিশের কাছ থেকে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩৭:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানের সময় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের ডেকুয়ারচর গ্রামের একটি ফুটবল খেলার মাঠের কাছে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার নাম রিয়াজুল আলম শাহীন (৩০), যিনি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার বাড়ি উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বগাপুতা গ্রামে এবং তার বাবার নাম মৃত মজিবুর রহমান। পুলিশ জানিয়েছে, শাহীনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে সরিষা ডেকুয়ারচর দাখিল মাদ্রাসা মাঠে রঙতরঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে বিবাহিত ও অবিবাহিতদের মধ্যে একটি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। খেলাটির উদ্বোধন করেন সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল্লাহ খান জামান। খেলা চলাকালীন সেখানে শাহীনের উপস্থিতির খবর পায় আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন পুলিশ দল। এরপর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালায়।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শাহীনকে আটকের সময় সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি বাধা প্রদান করেন। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে শাহীনকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলা হয় এবং তাকে পুলিশ হেফাজতে থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, এ সময় অটোরিকশা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। তবে শাহীনকে হাতকড়া পরানো হয়েছিল কি না, তা নিয়ে পুলিশের বক্তব্য ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যে ভিন্নতা রয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শাহীনের বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় ২০১৬ সালের ২ আগস্ট, ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি এবং ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মোট তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও তারা তা অস্বীকার করেছেন। সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নূর আহাম্মদ ওরফে মিলন মিয়া জানান, তিনি ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না, কাছের একটি চায়ের দোকানে ছিলেন; সেখান থেকে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হতে দেখেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, শাহীন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলেই পুলিশ তাকে টার্গেট করেছিল এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার নাম জড়াচ্ছে। সরিষা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হারুন অর রশিদ স্বপনও অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন যে, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে এবং তিনি পুলিশকে বারবার আটক ব্যক্তিকে নিয়ে যেতে বলেছেন।

এ বিষয়ে আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মাজহারুল ইসলাম জানান, তিনি বর্তমানে একটি বিশেষ অভিযানে রয়েছেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, শাহীন একাধিক মামলার পলাতক আসামি। তাকে গ্রেপ্তারের সময় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়েছে এবং তাকে পালাতে সহযোগিতা করা হয়েছে। তবে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে বা তার কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে—এমন দাবি নাকচ করে দিয়ে ওসি জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।