লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের চুক্তির বিরোধিতায় বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিপেটা

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার চুক্তির বিরোধিতায় আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশের লাঠিপেটায় সমাবেশটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং এতে সিপিবি সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দনসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের এই টার্মিনালটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ বেলা দুইটা থেকে ইনভেস্ট বাংলাদেশের (সাবেক বিডা) কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন সিপিবি, বাসদসহ কয়েকটি বামপন্থী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সমাবেশ চলাকালে বেলা পৌনে তিনটার দিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিপেটা শুরু করে এবং তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এই ঘটনার পর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কার্যালয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, তাঁরা আজ সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বিডা ভবনের সামনে এসেছিলেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই চুক্তি মূলত বাংলাদেশকে বিক্রি করার শামিল। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং তাদের ওয়েবসাইটে গেলেই বিষয়টি পরিষ্কার বোঝা যায়।

সাজ্জাদ জহির চন্দন আরও বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে চট্টগ্রাম বন্দরের এই টার্মিনাল দেওয়ার অর্থ হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আমেরিকার সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেওয়া। এর ফলে তারা দেশের নৌবন্দর ও বিমানবন্দরসহ সবকিছু ব্যবহার করতে পারবে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের বিনা উসকানিতে লাঠিপেটার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, যাঁরা আজ বাংলাদেশকে ডিপি ওয়ার্ল্ড ও আমেরিকার কাছে বিক্রি করছেন, তাঁরা আজীবন দেশের বেইমান ও বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত থাকবেন। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও দেশের বন্দর ও জাতীয় সম্পদ রক্ষা করতে বামপন্থীরা লড়াইয়ের মাঠে থাকবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

‎শারদীয় দুর্গাপূজা কেন্দ্র করে বোদায় গ্রাম পুলিশদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা।

ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের চুক্তির বিরোধিতায় বিক্ষোভ, পুলিশের লাঠিপেটা

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৩৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার চুক্তির বিরোধিতায় আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশের লাঠিপেটায় সমাবেশটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং এতে সিপিবি সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দনসহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের এই টার্মিনালটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ বেলা দুইটা থেকে ইনভেস্ট বাংলাদেশের (সাবেক বিডা) কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন সিপিবি, বাসদসহ কয়েকটি বামপন্থী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সমাবেশ চলাকালে বেলা পৌনে তিনটার দিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিপেটা শুরু করে এবং তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এই ঘটনার পর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কার্যালয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, তাঁরা আজ সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বিডা ভবনের সামনে এসেছিলেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই চুক্তি মূলত বাংলাদেশকে বিক্রি করার শামিল। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং তাদের ওয়েবসাইটে গেলেই বিষয়টি পরিষ্কার বোঝা যায়।

সাজ্জাদ জহির চন্দন আরও বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে চট্টগ্রাম বন্দরের এই টার্মিনাল দেওয়ার অর্থ হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আমেরিকার সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেওয়া। এর ফলে তারা দেশের নৌবন্দর ও বিমানবন্দরসহ সবকিছু ব্যবহার করতে পারবে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের বিনা উসকানিতে লাঠিপেটার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, যাঁরা আজ বাংলাদেশকে ডিপি ওয়ার্ল্ড ও আমেরিকার কাছে বিক্রি করছেন, তাঁরা আজীবন দেশের বেইমান ও বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত থাকবেন। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও দেশের বন্দর ও জাতীয় সম্পদ রক্ষা করতে বামপন্থীরা লড়াইয়ের মাঠে থাকবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।