লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে হামলা ও সরবরাহ উদ্বেগে তেলের দাম ১০২ ডলার

মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টার তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ০৬ ডলার বেড়ে ১০২ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ৫১ ডলার বেড়ে ৮৯ দশমিক ৭৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে বুধবার আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) কৌশলগত মজুত থেকে দ্রুত তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিল। সংস্থাটি ডিজেল সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনাও করেছিল। এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমলেও এক দিনের ব্যবধানে সরবরাহ নিয়ে নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এএনজেড ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পণ্যবাজার কৌশলবিদ ড্যানিয়েল হাইনস মনে করেন, আইইএর এই সিদ্ধান্ত নতুন কোনো উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করবে না। তাঁর মতে, এটি সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরুর সময় ঘোষিত ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার মূল পরিকল্পনারই অংশ। হাইনস আরও উল্লেখ করেন, অতীতেও এমন হামলার পর পারস্য উপসাগর থেকে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার নজির রয়েছে। তবে এবার বিকল্প পথ না থাকায় উৎপাদক দেশগুলো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েই রপ্তানি চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত অষ্টম মাসে গড়িয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। অক্টোবর মাসে এই পথে জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজে হামলার হার যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সর্বশেষ হামলায় কাতারের উত্তরে একটি তেলবাহী জাহাজে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, এই হামলায় কিছু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। হামলার ঝুঁকির কারণে পণ্য ও নাবিকদের নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদক ও ভোক্তা দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের তথ্যও তেলের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। গত ২ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ৩২ লাখ ব্যারেল কমে ৪২ কোটি ৪১ লাখ ব্যারেলে নেমেছে, যা বিশ্লেষকদের ১৭ লাখ ব্যারেল কমার পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। এছাড়া ডিজেল ও জেট ফুয়েলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুত ৪২ হাজার ব্যারেল কমে ১০ কোটি ৫১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। বছরের এই সময়ে গত পাঁচ বছরের গড় মজুতের তুলনায় এই মজুত বেশ কম।

জনপ্রিয় সংবাদ

জিয়াউল আহসানের নিরাপত্তা শঙ্কা, ভার্চ্যুয়াল শুনানির প্রস্তাব প্রসিকিউশনের

হরমুজ প্রণালিতে হামলা ও সরবরাহ উদ্বেগে তেলের দাম ১০২ ডলার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৩৩:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টার তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ০৬ ডলার বেড়ে ১০২ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ৫১ ডলার বেড়ে ৮৯ দশমিক ৭৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে বুধবার আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) কৌশলগত মজুত থেকে দ্রুত তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিল। সংস্থাটি ডিজেল সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনাও করেছিল। এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমলেও এক দিনের ব্যবধানে সরবরাহ নিয়ে নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এএনজেড ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ পণ্যবাজার কৌশলবিদ ড্যানিয়েল হাইনস মনে করেন, আইইএর এই সিদ্ধান্ত নতুন কোনো উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করবে না। তাঁর মতে, এটি সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরুর সময় ঘোষিত ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার মূল পরিকল্পনারই অংশ। হাইনস আরও উল্লেখ করেন, অতীতেও এমন হামলার পর পারস্য উপসাগর থেকে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার নজির রয়েছে। তবে এবার বিকল্প পথ না থাকায় উৎপাদক দেশগুলো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েই রপ্তানি চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত অষ্টম মাসে গড়িয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। অক্টোবর মাসে এই পথে জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজে হামলার হার যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সর্বশেষ হামলায় কাতারের উত্তরে একটি তেলবাহী জাহাজে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, এই হামলায় কিছু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। হামলার ঝুঁকির কারণে পণ্য ও নাবিকদের নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদক ও ভোক্তা দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের তথ্যও তেলের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। গত ২ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ৩২ লাখ ব্যারেল কমে ৪২ কোটি ৪১ লাখ ব্যারেলে নেমেছে, যা বিশ্লেষকদের ১৭ লাখ ব্যারেল কমার পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। এছাড়া ডিজেল ও জেট ফুয়েলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুত ৪২ হাজার ব্যারেল কমে ১০ কোটি ৫১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। বছরের এই সময়ে গত পাঁচ বছরের গড় মজুতের তুলনায় এই মজুত বেশ কম।