লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে নতুন পিপিপি মডেলের যাত্রা

চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রান্তিক পর্যায়ে বিশুদ্ধ পানির সংকট দূর করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) আওতায় নতুন পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগরীর বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট নিরসন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে একটি নতুন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলের যাত্রা শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকালে নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লু-তে আয়োজিত এক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিন বছর মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড যৌথভাবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি হেড অফ মিশন ইয়ান ভ্যান ডার লিন্ডেন। এই উদ্যোগে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এটিএম তারিকুল ইসলাম এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ামিন ফারুক স্বাক্ষর করেন। এছাড়া নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের পানি ও জলবায়ু বিষয়ক প্রথম সচিব ইজে ক্রুজেন এই সমঝোতার সাক্ষী ছিলেন।

মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, নগরীর উত্তর পতেঙ্গা ও দক্ষিণ পতেঙ্গার ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডকে কেন্দ্র করে এই পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। তিনি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক মডেলে সরকার একা সব সেবা পরিচালনা করতে পারে না, তাই পিপিপি মডেলের মাধ্যমে সরকারি, বেসরকারি এবং এনজিও খাতের সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এই মডেলটি দীর্ঘমেয়াদী হবে এবং এতে সেবার মান বজায় রাখতে রক্ষণাবেক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বর্ষাকালে চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশন সমস্যা নিয়েও নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সাথে আলোচনা চলছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

চলতি বছরের মে মাসে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন বাসিন্দার নিরাপদ পানি প্রাপ্তির সুযোগ খুবই সীমিত। এসব এলাকার মাত্র ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়িতে ওয়াসার পাইপলাইন রয়েছে। অধিকাংশ বাসিন্দা প্রতিদিন ২৫ থেকে ৫০ টাকা খরচ করে বেসরকারি ভেন্ডরদের কাছ থেকে পানি কিনতে বাধ্য হন। এছাড়া সেখানকার ভূগর্ভস্থ পানির লবণাক্ততা জাতীয় নিরাপদ সীমার (১ হাজার পিপিএম) বিপরীতে ৩ হাজার পিপিএম পর্যন্ত পাওয়া গেছে। এই বাস্তবতায় প্রকল্পটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লু’র একটি হলরুমে শহরের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে পানি-সরবরাহ সেবার মান বাড়াতে একটি নতুন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেল প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

ওই সমীক্ষায় দেখা যায়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪০ ও ৪১ ওয়ার্ডের ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন বাসিন্দার নিরাপদ খাবার পানি প্রাপ্তির সুযোগ সীমিত। ওই দুটি ওয়ার্ডের মাত্র ২০-৪০ শতাংশ বাড়িতে চট্টগ্রাম ওয়াসার পাইপলাইন নেটওয়ার্ক পৌঁছেছে।

চীনে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে ড্র করল বাংলাদেশ হকি দল

চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে নতুন পিপিপি মডেলের যাত্রা

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:০০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম মহানগরীর বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট নিরসন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে একটি নতুন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলের যাত্রা শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকালে নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লু-তে আয়োজিত এক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিন বছর মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড যৌথভাবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি হেড অফ মিশন ইয়ান ভ্যান ডার লিন্ডেন। এই উদ্যোগে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এটিএম তারিকুল ইসলাম এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ামিন ফারুক স্বাক্ষর করেন। এছাড়া নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের পানি ও জলবায়ু বিষয়ক প্রথম সচিব ইজে ক্রুজেন এই সমঝোতার সাক্ষী ছিলেন।

মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, নগরীর উত্তর পতেঙ্গা ও দক্ষিণ পতেঙ্গার ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডকে কেন্দ্র করে এই পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। তিনি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক মডেলে সরকার একা সব সেবা পরিচালনা করতে পারে না, তাই পিপিপি মডেলের মাধ্যমে সরকারি, বেসরকারি এবং এনজিও খাতের সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এই মডেলটি দীর্ঘমেয়াদী হবে এবং এতে সেবার মান বজায় রাখতে রক্ষণাবেক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বর্ষাকালে চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশন সমস্যা নিয়েও নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সাথে আলোচনা চলছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

চলতি বছরের মে মাসে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন বাসিন্দার নিরাপদ পানি প্রাপ্তির সুযোগ খুবই সীমিত। এসব এলাকার মাত্র ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়িতে ওয়াসার পাইপলাইন রয়েছে। অধিকাংশ বাসিন্দা প্রতিদিন ২৫ থেকে ৫০ টাকা খরচ করে বেসরকারি ভেন্ডরদের কাছ থেকে পানি কিনতে বাধ্য হন। এছাড়া সেখানকার ভূগর্ভস্থ পানির লবণাক্ততা জাতীয় নিরাপদ সীমার (১ হাজার পিপিএম) বিপরীতে ৩ হাজার পিপিএম পর্যন্ত পাওয়া গেছে। এই বাস্তবতায় প্রকল্পটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লু’র একটি হলরুমে শহরের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে পানি-সরবরাহ সেবার মান বাড়াতে একটি নতুন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেল প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

ওই সমীক্ষায় দেখা যায়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪০ ও ৪১ ওয়ার্ডের ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন বাসিন্দার নিরাপদ খাবার পানি প্রাপ্তির সুযোগ সীমিত। ওই দুটি ওয়ার্ডের মাত্র ২০-৪০ শতাংশ বাড়িতে চট্টগ্রাম ওয়াসার পাইপলাইন নেটওয়ার্ক পৌঁছেছে।