লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারের সড়কে অস্ত্র উঁচিয়ে ৫০-৬০ যানবাহনে দিনদুপুরে ডাকাতি

কক্সবাজারের ঈদগাঁও ও রামু উপজেলার পাহাড়ি পাহাড়ি এলাকা অতিক্রম করা ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কে দিনদুপুরে প্রকাশ্য অস্ত্রের মুখে শতাধিক যাত্রীকে জিম্মি করে ভয়াবহ লুটপাট চালিয়েছে একদল ডাকাত। সোমবার সড়কের হিমছড়ি ঢালা এলাকায় দুই দফায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সশস্ত্র ডাকাত দলের কবলে পড়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহন। এ সময় যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মুঠোফোনসহ বহু মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী যাত্রী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুখোশ পরা ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোর পথ রোধ করে। এরপর যাত্রীদের জিম্মি করে পাশের গহিন জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে টাকা ও মালামাল কেড়ে নেয়। একটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার ব্যবস্থাপক মো. রবিউল ইসলাম জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে থাকা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, দুটি মুঠোফোন ও জরুরি কাগজপত্র হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে ডাকাতেরা জোরপূর্বক কেড়ে নেয় এবং জঙ্গলে নিয়ে তাঁদের মারধর করে।

রবিউল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই তাণ্ডবে ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহনের শতাধিক যাত্রীকে জিম্মি রেখে লুটপাট চালানো হয়। ঘটনা চলাকালীন সড়কে পুলিশের কোনো টহল ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেলা তিনটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছালেও ডাকাতেরা ততক্ষণে চম্পট দেয় এবং কাউকেই আটক করা যায়নি।

একই সড়কে ডাকাতির শিকার হন আরেকটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার হিসাবরক্ষক আবদুল হাকিম। তিনি জানান, তারা তিনজন অটোরিকশায় ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় বাজারে যাওয়ার পথে ডাকাতদের মুখে পড়েন। অস্ত্রের মুখে তাঁদের জঙ্গলে তুলে নিয়ে মারধর করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ব্যাংকের চেকবই ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই সড়কে ঘন ঘন লুটপাট ও অপহরণের ঘটনা ঘটলেও যাত্রীদের নিরাপত্তায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ঈদগড়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেক পাঁচ যাত্রী নিয়ে সিএনজি অটোরিকশায় যাওয়ার পথে ডাকাতদের খপ্পরে পড়েন। নিজের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পর জীবন বাঁচাতে তিনি চলন্ত অটোরিকশা থেকেই লাফ দিয়ে পালিয়ে রক্ষা পান।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের মতে, সোমবার সকাল ৮টা ও দুপুর ১২টার দিকে দুই দফায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে সড়কে এই তাণ্ডব চালানো হয়। এ বিষয়ে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার জানান, স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতকারী সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে লুটপাট চালিয়ে জঙ্গলে আত্মগোপন করেছে। ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কের গহিন বনাঞ্চল এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং একাধিক দল অভিযানে নেমেছে। তবে ঠিক কতটি যানবাহনে লুটপাট হয়েছে তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি ওসি এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের এমডিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল

কক্সবাজারের সড়কে অস্ত্র উঁচিয়ে ৫০-৬০ যানবাহনে দিনদুপুরে ডাকাতি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০৮:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের ঈদগাঁও ও রামু উপজেলার পাহাড়ি পাহাড়ি এলাকা অতিক্রম করা ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কে দিনদুপুরে প্রকাশ্য অস্ত্রের মুখে শতাধিক যাত্রীকে জিম্মি করে ভয়াবহ লুটপাট চালিয়েছে একদল ডাকাত। সোমবার সড়কের হিমছড়ি ঢালা এলাকায় দুই দফায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সশস্ত্র ডাকাত দলের কবলে পড়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহন। এ সময় যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মুঠোফোনসহ বহু মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী যাত্রী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুখোশ পরা ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোর পথ রোধ করে। এরপর যাত্রীদের জিম্মি করে পাশের গহিন জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে টাকা ও মালামাল কেড়ে নেয়। একটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার ব্যবস্থাপক মো. রবিউল ইসলাম জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে থাকা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, দুটি মুঠোফোন ও জরুরি কাগজপত্র হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে ডাকাতেরা জোরপূর্বক কেড়ে নেয় এবং জঙ্গলে নিয়ে তাঁদের মারধর করে।

রবিউল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই তাণ্ডবে ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহনের শতাধিক যাত্রীকে জিম্মি রেখে লুটপাট চালানো হয়। ঘটনা চলাকালীন সড়কে পুলিশের কোনো টহল ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেলা তিনটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছালেও ডাকাতেরা ততক্ষণে চম্পট দেয় এবং কাউকেই আটক করা যায়নি।

একই সড়কে ডাকাতির শিকার হন আরেকটি বেসরকারি সংস্থার ঈদগড় শাখার হিসাবরক্ষক আবদুল হাকিম। তিনি জানান, তারা তিনজন অটোরিকশায় ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় বাজারে যাওয়ার পথে ডাকাতদের মুখে পড়েন। অস্ত্রের মুখে তাঁদের জঙ্গলে তুলে নিয়ে মারধর করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ব্যাংকের চেকবই ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই সড়কে ঘন ঘন লুটপাট ও অপহরণের ঘটনা ঘটলেও যাত্রীদের নিরাপত্তায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এছাড়া সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ঈদগড়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেক পাঁচ যাত্রী নিয়ে সিএনজি অটোরিকশায় যাওয়ার পথে ডাকাতদের খপ্পরে পড়েন। নিজের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পর জীবন বাঁচাতে তিনি চলন্ত অটোরিকশা থেকেই লাফ দিয়ে পালিয়ে রক্ষা পান।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের মতে, সোমবার সকাল ৮টা ও দুপুর ১২টার দিকে দুই দফায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে সড়কে এই তাণ্ডব চালানো হয়। এ বিষয়ে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার জানান, স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতকারী সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে লুটপাট চালিয়ে জঙ্গলে আত্মগোপন করেছে। ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কের গহিন বনাঞ্চল এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং একাধিক দল অভিযানে নেমেছে। তবে ঠিক কতটি যানবাহনে লুটপাট হয়েছে তা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি ওসি এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।