লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দান-খয়রাতের ফজিলত: রিজিক বৃদ্ধি ও বালা-মসিবত থেকে মুক্তির উপায়

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং ইহকাল ও পরকালের কল্যাণে দান-খয়রাতের গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামে দান করাকে কেবল পুণ্য অর্জনের মাধ্যমই নয়, বরং রিজিক বৃদ্ধি এবং বালা-মসিবত থেকে মুক্তির অন্যতম উপায় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় দানের নানামুখী ফজিলত ও প্রতিদানের কথা উল্লেখ রয়েছে।

আল্লাহর পথে ব্যয় করলে সম্পদ কমে না, বরং তা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ২৭৬ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান-খয়রাতকে বর্ধিত করেন।’ মানুষকে ধার দিলে অনেক সময় ফেরত পেতে বিলম্ব বা নানা টালবাহানার মুখোমুখি হতে হয়, কিন্তু আল্লাহকে উত্তম করজ দেওয়ার প্রতিদান তিনি নিজেই বহুগুণ বাড়িয়ে ফেরত দেন। সুরা বাকারার ২৪৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘এমন কে আছে, যে আল্লাহকে করজ দেবে, উত্তম করজ। অতঃপর আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ-বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেবেন। আল্লাহই সংকোচিত করেন এবং তিনিই প্রশস্ততা দান করেন। আর তাঁরই কাছে তোমরা ফিরে যাবে।’

মানুষের প্রাত্যহিক ভুলত্রুটি ও পাপ মোচনেও দান অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। সুরা বাকারার ২৭১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান-খয়রাত কর, তবে তা কতই না উত্তম। আর যদি গোপনে কর এবং অভাবগ্রস্তদের দিয়ে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম। আল্লাহ তোমাদের কিছু গোনাহ দূর করে দেবেন। তিনি তোমাদের কাজকর্মের খবর রাখেন।’ এছাড়া সুনানে ইবনে মাজাহর ৪২১০ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হিংসা যেভাবে নেক আমলকে ধ্বংস করে, দান-খয়রাত ঠিক সেভাবেই গুনাহসমূহকে বিলীন করে দেয়, যেমন পানি আগুন নেভায়। শুধু পাপ মোচনই নয়, দান মানুষের অকাল ও মন্দ মৃত্যু রোধ করে এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি দূর করে। তিরমিজি শরিফের ৬৬৪ নম্বর হাদিস অনুযায়ী রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দান-খয়রাত আল্লাহর অসন্তুষ্টি কমিয়ে দেয় এবং মন্দ মৃত্যু রোধ করে।’

আল্লাহর রাস্তায় ব্যয়ের সওয়াব সাতশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সুরা বাকারার ২৬১ নম্বর আয়াতে দানকে একটি বীজের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা থেকে সাতটি শীষ গজায় এবং প্রতিটি শীষে একশটি করে দানা থাকে। সুনানে নাসাঈর ৩১৮৬ নম্বর হাদিসেও আল্লাহর রাস্তায় দান করার জন্য সাতশ গুণ সওয়াব লেখার কথা বলা হয়েছে। বুখারি শরিফের ৭৪৩০ নম্বর হাদিসে এসেছে, হালাল উপার্জন থেকে সামান্য একটি খেজুর পরিমাণ দান করলেও আল্লাহ তা ডান হাত দিয়ে কবুল করেন এবং তা লালন-পালন করে পাহাড়ের মতো বিশাল করে দেন।

আখেরাতে কঠিন বিপদের দিনে দানকারী ব্যক্তি আল্লাহর আরশের নিচে আশ্রয় পাবেন। বুখারি শরিফের ১৪২৩ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, কেয়ামতের দিন যে সাত শ্রেণির মানুষ আরশের ছায়ায় আশ্রয় পাবেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এত গোপনে দান করেন যে তার ডান হাত কী দান করছে তা বাম হাতও জানতে পারে না। এছাড়া সুনানে বায়হাকির ৩৩৪৭ নম্বর হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, দান কবরবাসীর কবরের উত্তাপ ঠান্ডা করে দেয় এবং মুমিন ব্যক্তিকে কেয়ামতের দিন আল্লাহর ছায়ায় অবস্থান করায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় গাড়িতে হামলার ঘটনায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আমির হামজার

দান-খয়রাতের ফজিলত: রিজিক বৃদ্ধি ও বালা-মসিবত থেকে মুক্তির উপায়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং ইহকাল ও পরকালের কল্যাণে দান-খয়রাতের গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলামে দান করাকে কেবল পুণ্য অর্জনের মাধ্যমই নয়, বরং রিজিক বৃদ্ধি এবং বালা-মসিবত থেকে মুক্তির অন্যতম উপায় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় দানের নানামুখী ফজিলত ও প্রতিদানের কথা উল্লেখ রয়েছে।

আল্লাহর পথে ব্যয় করলে সম্পদ কমে না, বরং তা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ২৭৬ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, ‘আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান-খয়রাতকে বর্ধিত করেন।’ মানুষকে ধার দিলে অনেক সময় ফেরত পেতে বিলম্ব বা নানা টালবাহানার মুখোমুখি হতে হয়, কিন্তু আল্লাহকে উত্তম করজ দেওয়ার প্রতিদান তিনি নিজেই বহুগুণ বাড়িয়ে ফেরত দেন। সুরা বাকারার ২৪৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘এমন কে আছে, যে আল্লাহকে করজ দেবে, উত্তম করজ। অতঃপর আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ-বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেবেন। আল্লাহই সংকোচিত করেন এবং তিনিই প্রশস্ততা দান করেন। আর তাঁরই কাছে তোমরা ফিরে যাবে।’

মানুষের প্রাত্যহিক ভুলত্রুটি ও পাপ মোচনেও দান অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। সুরা বাকারার ২৭১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান-খয়রাত কর, তবে তা কতই না উত্তম। আর যদি গোপনে কর এবং অভাবগ্রস্তদের দিয়ে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম। আল্লাহ তোমাদের কিছু গোনাহ দূর করে দেবেন। তিনি তোমাদের কাজকর্মের খবর রাখেন।’ এছাড়া সুনানে ইবনে মাজাহর ৪২১০ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হিংসা যেভাবে নেক আমলকে ধ্বংস করে, দান-খয়রাত ঠিক সেভাবেই গুনাহসমূহকে বিলীন করে দেয়, যেমন পানি আগুন নেভায়। শুধু পাপ মোচনই নয়, দান মানুষের অকাল ও মন্দ মৃত্যু রোধ করে এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি দূর করে। তিরমিজি শরিফের ৬৬৪ নম্বর হাদিস অনুযায়ী রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দান-খয়রাত আল্লাহর অসন্তুষ্টি কমিয়ে দেয় এবং মন্দ মৃত্যু রোধ করে।’

আল্লাহর রাস্তায় ব্যয়ের সওয়াব সাতশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সুরা বাকারার ২৬১ নম্বর আয়াতে দানকে একটি বীজের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা থেকে সাতটি শীষ গজায় এবং প্রতিটি শীষে একশটি করে দানা থাকে। সুনানে নাসাঈর ৩১৮৬ নম্বর হাদিসেও আল্লাহর রাস্তায় দান করার জন্য সাতশ গুণ সওয়াব লেখার কথা বলা হয়েছে। বুখারি শরিফের ৭৪৩০ নম্বর হাদিসে এসেছে, হালাল উপার্জন থেকে সামান্য একটি খেজুর পরিমাণ দান করলেও আল্লাহ তা ডান হাত দিয়ে কবুল করেন এবং তা লালন-পালন করে পাহাড়ের মতো বিশাল করে দেন।

আখেরাতে কঠিন বিপদের দিনে দানকারী ব্যক্তি আল্লাহর আরশের নিচে আশ্রয় পাবেন। বুখারি শরিফের ১৪২৩ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, কেয়ামতের দিন যে সাত শ্রেণির মানুষ আরশের ছায়ায় আশ্রয় পাবেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সেই ব্যক্তি যিনি এত গোপনে দান করেন যে তার ডান হাত কী দান করছে তা বাম হাতও জানতে পারে না। এছাড়া সুনানে বায়হাকির ৩৩৪৭ নম্বর হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, দান কবরবাসীর কবরের উত্তাপ ঠান্ডা করে দেয় এবং মুমিন ব্যক্তিকে কেয়ামতের দিন আল্লাহর ছায়ায় অবস্থান করায়।