লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরবর্তী এক মিনিটে কী ঘটবে, তা কি আপনি জানেন?

আপনি সততা, নৈতিকতা ও আত্মসম্মান বজায় রেখে জীবনযাপন করার চেষ্টা করেন, কিংবা সমাজের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে অঢেল অর্থ-সম্পদ ও ক্ষমতার অধিকারী হন—অবস্থান যাই হোক, নিজেকে একটি প্রশ্ন করুন। আপনি কি সত্যিই সকল বিপদ থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারবেন? কোনো রোগ, দুর্ঘটনা বা অপ্রত্যাশিত কঠিন পরীক্ষা কি আপনার জীবনকে স্পর্শ করবে না? উত্তর একটাই—না। মানুষের চিরন্তন বাস্তবতা হলো সে মূলত অসহায়, কারণ নিজের ভবিষ্যতের ওপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজে আমরা প্রায়ই দেখি, কেউ কথা বলতে বলতে হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন, কর্মস্থলে কাজ করতে করতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছেন, কিংবা স্বাভাবিকভাবে হাঁটার সময় মুহূর্তেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। জীবন ও মৃত্যুর মধ্যকার দূরত্ব যে কত ক্ষণস্থায়ী, এসব দৃশ্য প্রতিনিয়ত আমাদের সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়। মানুষ যদি জানত এক ঘণ্টা পর তার জীবন শেষ হয়ে যাবে বা আগামীকাল কোনো বিপদের মুখোমুখি হবে, তবে পৃথিবীতে হয়তো অন্যায়, দুর্নীতি, মিথ্যা, অহংকার ও অবিচারের হার অনেক কমে যেত। মৃত্যুর বাস্তবতা মানুষকে বিনয়ী করে এবং অনিশ্চয়তার উপলব্ধি তাকে অন্যায়ের পথ থেকে দূরে রাখে।

অনেক সময় আমরা আত্মপ্রবঞ্চনায় ভুগি, মনে করি নিজেকে নিরাপদ রাখা সম্ভব। কিন্তু অর্থ উপার্জনের জন্য অন্যের অধিকার নষ্ট করা, প্রতারণা বা অবৈধ পথ বেছে নেওয়া কি সত্যিই নিরাপত্তা দেয়? বিপদের সময় সেই সম্পদ বা ক্ষমতা কি কোনো কাজে আসে? যারা আপনার অন্যায়ের সঙ্গী, তারা কি আপনার শাস্তি, কষ্ট বা অনুশোচনার অংশীদার হবে? বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ মানুষ দুঃসময়ে নিজের স্বার্থটাই আগে দেখে। তাই অন্যায়ের মাধ্যমে অর্জিত কোনো কিছুই প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে পারে না।

পৃথিবীতে সমস্যার কোনো শেষ নেই। একটি চাহিদা পূরণ হলে আরেকটি জন্ম নেয়। মানুষ ভাবে এই বাড়ি বা এই পদটি পেলেই শান্তি মিলবে, কিন্তু প্রত্যাশার তালিকা সময়ের সঙ্গে কেবল বড়ই হয়। এভাবেই মানুষ জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে যায়, অথচ পৃথিবীতে নিজের আগমনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবে না। তাই মাঝে মাঝে থামুন, নিজের সাথে কথা বলুন। নিজের আয়-ব্যয়ের হিসাবের পাশাপাশি কর্মের হিসাব নিন। অন্যের ক্ষতি করে নয়, বরং উপকারে বাঁচার চেষ্টা করুন। জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত, তাই অহেতুক প্রতিযোগিতায় নিজেকে হারিয়ে না ফেলে নিজের অবস্থান ও পরিণতি নিয়ে ভাবুন। এই ভাবনা হয়তো আপনার জীবনকে আরও অর্থবহ ও শান্তিময় করে তুলবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যবিপ্রবিতে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সেমিনার ও পাঁচটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

পরবর্তী এক মিনিটে কী ঘটবে, তা কি আপনি জানেন?

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৪:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

আপনি সততা, নৈতিকতা ও আত্মসম্মান বজায় রেখে জীবনযাপন করার চেষ্টা করেন, কিংবা সমাজের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে অঢেল অর্থ-সম্পদ ও ক্ষমতার অধিকারী হন—অবস্থান যাই হোক, নিজেকে একটি প্রশ্ন করুন। আপনি কি সত্যিই সকল বিপদ থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারবেন? কোনো রোগ, দুর্ঘটনা বা অপ্রত্যাশিত কঠিন পরীক্ষা কি আপনার জীবনকে স্পর্শ করবে না? উত্তর একটাই—না। মানুষের চিরন্তন বাস্তবতা হলো সে মূলত অসহায়, কারণ নিজের ভবিষ্যতের ওপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজে আমরা প্রায়ই দেখি, কেউ কথা বলতে বলতে হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন, কর্মস্থলে কাজ করতে করতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছেন, কিংবা স্বাভাবিকভাবে হাঁটার সময় মুহূর্তেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। জীবন ও মৃত্যুর মধ্যকার দূরত্ব যে কত ক্ষণস্থায়ী, এসব দৃশ্য প্রতিনিয়ত আমাদের সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়। মানুষ যদি জানত এক ঘণ্টা পর তার জীবন শেষ হয়ে যাবে বা আগামীকাল কোনো বিপদের মুখোমুখি হবে, তবে পৃথিবীতে হয়তো অন্যায়, দুর্নীতি, মিথ্যা, অহংকার ও অবিচারের হার অনেক কমে যেত। মৃত্যুর বাস্তবতা মানুষকে বিনয়ী করে এবং অনিশ্চয়তার উপলব্ধি তাকে অন্যায়ের পথ থেকে দূরে রাখে।

অনেক সময় আমরা আত্মপ্রবঞ্চনায় ভুগি, মনে করি নিজেকে নিরাপদ রাখা সম্ভব। কিন্তু অর্থ উপার্জনের জন্য অন্যের অধিকার নষ্ট করা, প্রতারণা বা অবৈধ পথ বেছে নেওয়া কি সত্যিই নিরাপত্তা দেয়? বিপদের সময় সেই সম্পদ বা ক্ষমতা কি কোনো কাজে আসে? যারা আপনার অন্যায়ের সঙ্গী, তারা কি আপনার শাস্তি, কষ্ট বা অনুশোচনার অংশীদার হবে? বাস্তবতা হলো, অধিকাংশ মানুষ দুঃসময়ে নিজের স্বার্থটাই আগে দেখে। তাই অন্যায়ের মাধ্যমে অর্জিত কোনো কিছুই প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে পারে না।

পৃথিবীতে সমস্যার কোনো শেষ নেই। একটি চাহিদা পূরণ হলে আরেকটি জন্ম নেয়। মানুষ ভাবে এই বাড়ি বা এই পদটি পেলেই শান্তি মিলবে, কিন্তু প্রত্যাশার তালিকা সময়ের সঙ্গে কেবল বড়ই হয়। এভাবেই মানুষ জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে যায়, অথচ পৃথিবীতে নিজের আগমনের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবে না। তাই মাঝে মাঝে থামুন, নিজের সাথে কথা বলুন। নিজের আয়-ব্যয়ের হিসাবের পাশাপাশি কর্মের হিসাব নিন। অন্যের ক্ষতি করে নয়, বরং উপকারে বাঁচার চেষ্টা করুন। জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত, তাই অহেতুক প্রতিযোগিতায় নিজেকে হারিয়ে না ফেলে নিজের অবস্থান ও পরিণতি নিয়ে ভাবুন। এই ভাবনা হয়তো আপনার জীবনকে আরও অর্থবহ ও শান্তিময় করে তুলবে।