লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুবাইয়ে পর্যটক আনলে বাসিন্দারা পাবেন মোটা অঙ্কের পুরস্কার

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শীর্ষ পর্যটন কেন্দ্র দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটক সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে পর্যটন খাত চাঙ্গা করতে দুবাই সরকার এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। আমিরাতের বাসিন্দারা যদি তাদের বিদেশি বন্ধু বা স্বজনদের দুবাই ভ্রমণে উৎসাহিত করতে পারেন, তবে তাদেরকে উপহার হিসেবে ৩ হাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত দিরহাম সমমূল্যের সুবিধা দেওয়া হবে, যা প্রায় ৬১০ পাউন্ড বা ৮৫ হাজার টাকার বেশি।

দুবাইয়ের অর্থনীতি ও পর্যটন বিভাগের অধীন ‘দুবাই ইনভাইট’ শীর্ষক এই নতুন উদ্যোগটি চালু করা হয়েছে। সংস্থাটির ওয়েবসাইট ‘ভিজিট দুবাই’-এ বলা হয়েছে, বাসিন্দারা তাদের বিদেশি বন্ধু ও স্বজনদের নাম মনোনীত করবেন। মনোনীত অতিথিরা দুবাই সফর করলে বাসিন্দারা বিনামূল্যে হোটেলে থাকা, রেস্তোরাঁয় খাওয়া এবং বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থানে প্রবেশের টিকিটসহ বিশেষ ‘বেনিফিট প্যাকেজ’ পাবেন। বৃহস্পতিবার স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চালু করার প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এই প্রকল্পে অংশ নিতে ১০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে।

এই নতুন সুবিধায় অংশ নেওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। একজন আমিরাত বাসিন্দা সর্বোচ্চ তিনটি বেনিফিট প্যাকেজ পাওয়ার যোগ্য হবেন। শর্তগুলো হলো: পর্যটকদের আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে দুবাই পৌঁছাতে হবে, তবে প্রাপ্ত উপহারের সুবিধাগুলো ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া মনোনীত পর্যটকদের অবশ্যই অ-আমিরাতি বাসিন্দা হতে হবে এবং বৈধ পর্যটন ভিসা নিয়ে দুবাই আসতে হবে। একজন পর্যটককে কেবল একবারই মনোনীত করা যাবে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর্যটন খাত মারাত্মক মন্দার মুখে পড়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে দুবাইয়ের বিশ্বখ্যাত ফায়ারমন্ট হোটেল এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এর ফলে অঞ্চলটির অস্থিরতা থেকে মুক্ত, সুরক্ষিত ও বিলাসিতার কেন্দ্র হিসেবে এতদিন দুবাইয়ের যে ভাবমূর্তি ছিল, তা বড় ধরনের ধাক্কা খায়।

২০১৫ সালে রেকর্ড প্রায় ২ কোটি পর্যটক অভ্যর্থনা জানিয়েছিল দুবাই। কিন্তু সংঘাত শুরু হওয়ার পর ক্ষেপণাস্ত্রের ঝুঁকি ও ফ্লাইট ঘুরে যাওয়ার কারণে দুবাই বিমানবন্দরে বিমানসংস্থাগুলোর চলাচল অর্ধেকে নেমে এসেছে। বহু আকাশপথ বন্ধ থাকায় সাধারণ পর্যটকরাও মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণের রুট এড়িয়ে চলছেন। দুবাইয়ের সার্বিক ব্যবসায়িক আয়ে ৫০ শতাংশেরও বেশি ধস নেমেছে এবং বিশাল সংখ্যক হোটেল এখন খালি পড়ে আছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরের বিখ্যাত কিছু হোটেল সাময়িকভাবে তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বিখ্যাত পালতোলা আকৃতির ‘বুর্জ আল আরব’ হোটেলটি বড় ধরনের সংস্কারকাজের জন্য ১৮ মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যান্য হোটেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের এই উদ্যোগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় এবং বিনামূল্যে অতিরিক্ত রাত থাকার সুবিধা দিচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দালাল ও টেস্ট বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

দুবাইয়ে পর্যটক আনলে বাসিন্দারা পাবেন মোটা অঙ্কের পুরস্কার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৪৬:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শীর্ষ পর্যটন কেন্দ্র দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটক সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে পর্যটন খাত চাঙ্গা করতে দুবাই সরকার এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে। আমিরাতের বাসিন্দারা যদি তাদের বিদেশি বন্ধু বা স্বজনদের দুবাই ভ্রমণে উৎসাহিত করতে পারেন, তবে তাদেরকে উপহার হিসেবে ৩ হাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত দিরহাম সমমূল্যের সুবিধা দেওয়া হবে, যা প্রায় ৬১০ পাউন্ড বা ৮৫ হাজার টাকার বেশি।

দুবাইয়ের অর্থনীতি ও পর্যটন বিভাগের অধীন ‘দুবাই ইনভাইট’ শীর্ষক এই নতুন উদ্যোগটি চালু করা হয়েছে। সংস্থাটির ওয়েবসাইট ‘ভিজিট দুবাই’-এ বলা হয়েছে, বাসিন্দারা তাদের বিদেশি বন্ধু ও স্বজনদের নাম মনোনীত করবেন। মনোনীত অতিথিরা দুবাই সফর করলে বাসিন্দারা বিনামূল্যে হোটেলে থাকা, রেস্তোরাঁয় খাওয়া এবং বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থানে প্রবেশের টিকিটসহ বিশেষ ‘বেনিফিট প্যাকেজ’ পাবেন। বৃহস্পতিবার স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চালু করার প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এই প্রকল্পে অংশ নিতে ১০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে।

এই নতুন সুবিধায় অংশ নেওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। একজন আমিরাত বাসিন্দা সর্বোচ্চ তিনটি বেনিফিট প্যাকেজ পাওয়ার যোগ্য হবেন। শর্তগুলো হলো: পর্যটকদের আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে দুবাই পৌঁছাতে হবে, তবে প্রাপ্ত উপহারের সুবিধাগুলো ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া মনোনীত পর্যটকদের অবশ্যই অ-আমিরাতি বাসিন্দা হতে হবে এবং বৈধ পর্যটন ভিসা নিয়ে দুবাই আসতে হবে। একজন পর্যটককে কেবল একবারই মনোনীত করা যাবে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর্যটন খাত মারাত্মক মন্দার মুখে পড়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে দুবাইয়ের বিশ্বখ্যাত ফায়ারমন্ট হোটেল এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এর ফলে অঞ্চলটির অস্থিরতা থেকে মুক্ত, সুরক্ষিত ও বিলাসিতার কেন্দ্র হিসেবে এতদিন দুবাইয়ের যে ভাবমূর্তি ছিল, তা বড় ধরনের ধাক্কা খায়।

২০১৫ সালে রেকর্ড প্রায় ২ কোটি পর্যটক অভ্যর্থনা জানিয়েছিল দুবাই। কিন্তু সংঘাত শুরু হওয়ার পর ক্ষেপণাস্ত্রের ঝুঁকি ও ফ্লাইট ঘুরে যাওয়ার কারণে দুবাই বিমানবন্দরে বিমানসংস্থাগুলোর চলাচল অর্ধেকে নেমে এসেছে। বহু আকাশপথ বন্ধ থাকায় সাধারণ পর্যটকরাও মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণের রুট এড়িয়ে চলছেন। দুবাইয়ের সার্বিক ব্যবসায়িক আয়ে ৫০ শতাংশেরও বেশি ধস নেমেছে এবং বিশাল সংখ্যক হোটেল এখন খালি পড়ে আছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরের বিখ্যাত কিছু হোটেল সাময়িকভাবে তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বিখ্যাত পালতোলা আকৃতির ‘বুর্জ আল আরব’ হোটেলটি বড় ধরনের সংস্কারকাজের জন্য ১৮ মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যান্য হোটেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের এই উদ্যোগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় এবং বিনামূল্যে অতিরিক্ত রাত থাকার সুবিধা দিচ্ছে।