লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার ও দক্ষতানির্ভর কারিকুলাম নিয়ে নতুন ভাবনা

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় চলমান সংস্কার ও কারিকুলামের পরিবর্তন এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। যুগোপযোগী কারিকুলাম এবং স্বচ্ছ মূল্যায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে একটি মজবুত শিক্ষাকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। বিশেষ করে পরীক্ষায় নকল ও অসদুপায় রোধে কঠোর অবস্থান এবং প্রশ্নপত্রের কাঠামোতে পরিবর্তন আনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করতে অত্যন্ত জরুরি। মুখস্থ বিদ্যার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৃজনশীলতা ও ব্যবহারিক জ্ঞানের বিকাশ ঘটানোই এই নতুন সংস্কারের মূল লক্ষ্য।

নতুন পদ্ধতিতে কেবল বছরের শেষভাগে একটি মাত্র বড় পরীক্ষার ওপর নির্ভর না করে বছরজুড়ে ধারাবাহিক মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়ে ভয়ভীতি ও মানসিক চাপ অনেকটাই কমে আসবে। তবে এই শিক্ষাদানের পুরো প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে রয়েছেন অভিভাবকরা। অনেক সময় অভিভাবকেরা নিজের অজান্তেই সন্তানদের ওপর ভালো ফলাফলের জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেন, যা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার পাশাপাশি সৎ প্রচেষ্টাকে মূল্যায়ন করা আজ সময়ের দাবি।

এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের ভূমিকাও অপরিসীম। একটি সহানুভূতিশীল পরিবেশ তৈরি করে তারা শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে পারেন। তবে নতুন কারিকুলাম সফলভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু বাস্তবমুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে গ্রামীণ ও শহরের শিক্ষার মানের বৈষম্য দূর করতে প্রযুক্তির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। অভিভাবকদেরও জিপিএ-৫ পাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে এসে সন্তান কতটা শিখল, তা দিয়ে মূল্যায়ন করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার সাথে জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে কারিগরি দক্ষতা অর্জনের পথও প্রশস্ত করা হচ্ছে। তবে মাধ্যমিক পরীক্ষা (এসএসসি) পরবর্তী ভর্তি প্রক্রিয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। জটিল ভর্তি নীতিমালার কারণে অনেকেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না এবং ভুল পছন্দক্রম দিয়ে ফেলেন। পাশাপাশি কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ফি আদায় সাধারণ পরিবারের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে গ্রামীণ শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেট সুবিধার অভাব এবং সঠিক নির্দেশনার অভাবে আবেদন প্রক্রিয়াতেই পিছিয়ে পড়ে, যার ফলে মেধা থাকা সত্ত্বেও তারা ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পায় না।

এই ভর্তি প্রক্রিয়াকে সহজ, স্বচ্ছ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আসনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তা না হলে প্রতি বছরই এই ভর্তি বিড়ম্বনা চলতে থাকবে। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেবল সনদধারী নয়, বরং দেশপ্রেম ও আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতাসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে এই শিক্ষা সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। সরকারের এই ইতিবাচক উদ্যোগকে সফল করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো সুরের খেয়ায় হাজার বছর

শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার ও দক্ষতানির্ভর কারিকুলাম নিয়ে নতুন ভাবনা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:২৭:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় চলমান সংস্কার ও কারিকুলামের পরিবর্তন এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। যুগোপযোগী কারিকুলাম এবং স্বচ্ছ মূল্যায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে একটি মজবুত শিক্ষাকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। বিশেষ করে পরীক্ষায় নকল ও অসদুপায় রোধে কঠোর অবস্থান এবং প্রশ্নপত্রের কাঠামোতে পরিবর্তন আনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করতে অত্যন্ত জরুরি। মুখস্থ বিদ্যার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৃজনশীলতা ও ব্যবহারিক জ্ঞানের বিকাশ ঘটানোই এই নতুন সংস্কারের মূল লক্ষ্য।

নতুন পদ্ধতিতে কেবল বছরের শেষভাগে একটি মাত্র বড় পরীক্ষার ওপর নির্ভর না করে বছরজুড়ে ধারাবাহিক মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়ে ভয়ভীতি ও মানসিক চাপ অনেকটাই কমে আসবে। তবে এই শিক্ষাদানের পুরো প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে রয়েছেন অভিভাবকরা। অনেক সময় অভিভাবকেরা নিজের অজান্তেই সন্তানদের ওপর ভালো ফলাফলের জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেন, যা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার পাশাপাশি সৎ প্রচেষ্টাকে মূল্যায়ন করা আজ সময়ের দাবি।

এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের ভূমিকাও অপরিসীম। একটি সহানুভূতিশীল পরিবেশ তৈরি করে তারা শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে পারেন। তবে নতুন কারিকুলাম সফলভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু বাস্তবমুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে গ্রামীণ ও শহরের শিক্ষার মানের বৈষম্য দূর করতে প্রযুক্তির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। অভিভাবকদেরও জিপিএ-৫ পাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে এসে সন্তান কতটা শিখল, তা দিয়ে মূল্যায়ন করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার সাথে জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে কারিগরি দক্ষতা অর্জনের পথও প্রশস্ত করা হচ্ছে। তবে মাধ্যমিক পরীক্ষা (এসএসসি) পরবর্তী ভর্তি প্রক্রিয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। জটিল ভর্তি নীতিমালার কারণে অনেকেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না এবং ভুল পছন্দক্রম দিয়ে ফেলেন। পাশাপাশি কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ফি আদায় সাধারণ পরিবারের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে গ্রামীণ শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেট সুবিধার অভাব এবং সঠিক নির্দেশনার অভাবে আবেদন প্রক্রিয়াতেই পিছিয়ে পড়ে, যার ফলে মেধা থাকা সত্ত্বেও তারা ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পায় না।

এই ভর্তি প্রক্রিয়াকে সহজ, স্বচ্ছ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আসনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তা না হলে প্রতি বছরই এই ভর্তি বিড়ম্বনা চলতে থাকবে। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কেবল সনদধারী নয়, বরং দেশপ্রেম ও আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতাসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে এই শিক্ষা সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। সরকারের এই ইতিবাচক উদ্যোগকে সফল করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।