লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন অর্থবছরে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য সরকারের

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য পণ্য ও সেবা উভয় খাতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রত্যাশা নিয়ে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। আজ রবিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা খাত থেকে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বিগত অর্থবছরে দেশ নির্ধারিত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছিল এবং সে সময় প্রবৃদ্ধির গতিও ছিল বেশ মন্থর। তবে নবনির্বাচিত সরকারের নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় বাজেটে ঘোষিত ব্যবসাবান্ধব নানা পদক্ষেপের কারণে চলতি অর্থবছরে রপ্তানি খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রপ্তানি খাতে একক নির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখীকরণকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত থেকে। এই একক খাতের ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জাহাজ নির্মাণ ও পুনর্ব্যবহার (শিপ রিসাইক্লিং), লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতকে রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

নতুন বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে এফটিএ আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরও চার থেকে পাঁচটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরের জন্য তা আগামী সংসদ অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ প্রক্রিয়া নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল তা অনেকটাই কেটে গেছে। এর ফলে রপ্তানিকারকরা আগামী তিন বছর বিদ্যমান বাজার সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। তবে রপ্তানি খাতের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি জ্বালানি সংকটের কথা স্বীকার করেন। এই সংকট মোকাবিলায় এবং শিল্প কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার অতিরিক্ত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের কাজ করছে বলে তিনি জানান। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও উন্নত ব্যবসায়িক পরিবেশ, বাণিজ্য চুক্তির সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ এই রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আঙুলের শব্দে আম্পায়ার বিভ্রান্ত, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে প্রতারণার নজির

নতুন অর্থবছরে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য সরকারের

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৪৮:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য পণ্য ও সেবা উভয় খাতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রত্যাশা নিয়ে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। আজ রবিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা খাত থেকে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বিগত অর্থবছরে দেশ নির্ধারিত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছিল এবং সে সময় প্রবৃদ্ধির গতিও ছিল বেশ মন্থর। তবে নবনির্বাচিত সরকারের নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় বাজেটে ঘোষিত ব্যবসাবান্ধব নানা পদক্ষেপের কারণে চলতি অর্থবছরে রপ্তানি খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রপ্তানি খাতে একক নির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখীকরণকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত থেকে। এই একক খাতের ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জাহাজ নির্মাণ ও পুনর্ব্যবহার (শিপ রিসাইক্লিং), লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতকে রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

নতুন বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে এফটিএ আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরও চার থেকে পাঁচটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরের জন্য তা আগামী সংসদ অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ প্রক্রিয়া নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল তা অনেকটাই কেটে গেছে। এর ফলে রপ্তানিকারকরা আগামী তিন বছর বিদ্যমান বাজার সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। তবে রপ্তানি খাতের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি জ্বালানি সংকটের কথা স্বীকার করেন। এই সংকট মোকাবিলায় এবং শিল্প কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার অতিরিক্ত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের কাজ করছে বলে তিনি জানান। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও উন্নত ব্যবসায়িক পরিবেশ, বাণিজ্য চুক্তির সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ এই রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।