লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিদিন ২০০ বার সুরা ইখলাস পাঠের ফজিলত ও গুরুত্ব

সুরা ইখলাস পবিত্র কোরআনের ১১২তম সুরা। এতে রয়েছে ৪টি আয়াত এবং ১টি রুকু। সুরাটি মক্কায় নাকি মদিনায় অবতীর্ণ এ নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। মূলত আল্লাহর পরিচয় ও একত্ব সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে এই সুরা নাজিল হয়। এতে আল্লাহর একত্ব, অমুখাপেক্ষিতা এবং তাঁর সঙ্গে কারও তুলনা না থাকার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে প্রতিদিন ২০০ বার সুরা ইখলাস পাঠের বিশেষ ফজিলতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সুনানে তিরমিজিতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন ২০০ বার ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ বা সুরা ইখলাস পাঠ করবে, তার ৫০ বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, তবে শর্ত হলো তার ওপর কোনো ঋণের দায় না থাকতে হবে। যদিও মুহাদ্দিসদের মতে, এ বর্ণনাটি দুর্বল সূত্রে এসেছে।

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় আলেমরা ঋণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (রহ.) বলেন, ‘যদি তার ওপর কোনো ঋণ না থাকে’—এর দুটি অর্থ হতে পারে। প্রথমত, ঋণের কারণে যে দায় তৈরি হয়, তা শুধু আমলের মাধ্যমে মাফ হয় না। দ্বিতীয়ত, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির গুনাহ মাফের বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচিত হতে পারে। মানুষের হক বা পাওনা সম্পর্কিত বিষয় আল্লাহর ক্ষমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলেও তা পরিশোধের দায় থেকে মানুষকে মুক্ত করে না।

সুরা ইখলাসের মর্যাদা ও ফজিলত বিশুদ্ধ হাদিসেও বর্ণিত হয়েছে। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের হাদিসে সুরা ইখলাসকে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশে বলেছিলেন, তোমরা কি প্রতি রাতে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করতে পারো না? সাহাবিদের কাছে এটি কঠিন মনে হলে তিনি জানান যে, সুরা ইখলাসই কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ। এছাড়া মুসনাদে আহমদের অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি ১০ বার ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবের নেতৃত্বে ১৪ দেশের নতুন প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ

প্রতিদিন ২০০ বার সুরা ইখলাস পাঠের ফজিলত ও গুরুত্ব

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:১৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

সুরা ইখলাস পবিত্র কোরআনের ১১২তম সুরা। এতে রয়েছে ৪টি আয়াত এবং ১টি রুকু। সুরাটি মক্কায় নাকি মদিনায় অবতীর্ণ এ নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। মূলত আল্লাহর পরিচয় ও একত্ব সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে এই সুরা নাজিল হয়। এতে আল্লাহর একত্ব, অমুখাপেক্ষিতা এবং তাঁর সঙ্গে কারও তুলনা না থাকার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে প্রতিদিন ২০০ বার সুরা ইখলাস পাঠের বিশেষ ফজিলতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সুনানে তিরমিজিতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন ২০০ বার ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ বা সুরা ইখলাস পাঠ করবে, তার ৫০ বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, তবে শর্ত হলো তার ওপর কোনো ঋণের দায় না থাকতে হবে। যদিও মুহাদ্দিসদের মতে, এ বর্ণনাটি দুর্বল সূত্রে এসেছে।

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় আলেমরা ঋণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (রহ.) বলেন, ‘যদি তার ওপর কোনো ঋণ না থাকে’—এর দুটি অর্থ হতে পারে। প্রথমত, ঋণের কারণে যে দায় তৈরি হয়, তা শুধু আমলের মাধ্যমে মাফ হয় না। দ্বিতীয়ত, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির গুনাহ মাফের বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচিত হতে পারে। মানুষের হক বা পাওনা সম্পর্কিত বিষয় আল্লাহর ক্ষমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলেও তা পরিশোধের দায় থেকে মানুষকে মুক্ত করে না।

সুরা ইখলাসের মর্যাদা ও ফজিলত বিশুদ্ধ হাদিসেও বর্ণিত হয়েছে। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের হাদিসে সুরা ইখলাসকে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশে বলেছিলেন, তোমরা কি প্রতি রাতে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ পাঠ করতে পারো না? সাহাবিদের কাছে এটি কঠিন মনে হলে তিনি জানান যে, সুরা ইখলাসই কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ। এছাড়া মুসনাদে আহমদের অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি ১০ বার ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করবেন।